- Uncategorized এই মুহূর্তে দে । শ
- ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬
স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের নোটিশ জমা, কংগ্রেসের সঙ্গে ডিএমকে–এসপি। আপাতত সই করতে নারাজ তৃণমূল
আভাস আগেই মিলেছিল, এবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনতে সক্রিয় বিরোধী শিবির। মঙ্গলবার দুপুরে লোকসভার সচিবালয়ে সেই সংক্রান্ত নোটিস জমা দেন কংগ্রেসের মুখ্য সচেতক কে. সুরেশ। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, ওই নোটিসে বিরোধী শিবিরের প্রায় ১২০ জন সাংসদ স্বাক্ষর করেছেন। কংগ্রেসের পাশাপাশি ডিএমকে ও সমাজবাদী পার্টির সাংসদেরা তাতে সই করলেও তৃণমূল কংগ্রেসের কোনো সাংসদ এখনো পর্যন্ত ওই নোটিসে স্বাক্ষর করেননি বলে পিটিআই সূত্রে খবর।
লোকসভার সচিবালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, নোটিসটি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন স্পিকার নিজেই। সংসদীয় বিধি মেনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে। অতীতে লোকসভার স্পিকারকে অপসারণের জন্য একাধিক বার চেষ্টা হলেও, কোনও বারই তা সফল হয়নি বলে জানাচ্ছে সংসদীয় সূত্র। বিরোধীদের অভিযোগ, চলতি বাজেট অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় রাহুল গান্ধী-সহ একাধিক বিরোধী সাংসদকে বক্তৃতার সুযোগ দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি, ৮ জন সাংসদকে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই দুই ঘটনাকেই স্পিকারের পক্ষপাতমূলক আচরণের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিরোধী দলগুলি।
তবে এই প্রস্তাব ঘিরে তৃণমূল কংগ্রেসের অবস্থান অন্য রকম। লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবে সই করতে তাঁদের কোনো আপত্তি নেই। তবে তার আগে বিজেপি-বিরোধী মঞ্চ ‘ইন্ডিয়া’-ভুক্ত সব দলকে একযোগে একটি চিঠি স্পিকারের কাছে পাঠাতে হবে। ওই চিঠিতে অনাস্থা আনার ৪টি নির্দিষ্ট কারণ লিখিত ভাবে উল্লেখ করতে হবে এবং স্পিকারকে ২ থেকে ৩ দিনের সময় দিতে হবে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করার জন্য। যথাযথ এই প্রক্রিয়া মানা হলে, তবেই তৃণমূল প্রস্তাবে সই করবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন অভিষেক। কংগ্রেস যদি তাড়াহুড়ো করে মঙ্গলবারই অনাস্থা আনতে চায়, সে ক্ষেত্রে তৃণমূল সই করবে না বলেও তিনি স্পষ্ট করে দেন। অন্য দিকে, বিরোধীদের এই পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেছে বিজেপি। দলের মুখপাত্র সম্বিত পাত্র বলেন, ‘যাঁদের বিবেক অপসারিত হয়েছে, তাঁরাই দেশের একটি সাংবিধানিক পদ অপসারণের কথা বলছেন। এটা কেমন মানসিকতা? গোটা দেশের এ নিয়ে ভাবার সময় এসেছে।’ একই সঙ্গে তিনি কংগ্রেস ও রাহুল গান্ধীকেও তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন।
প্রসঙ্গত, সংবিধানের ৯৪(সি) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী লোকসভার স্পিকারকে পদ থেকে সরানো সম্ভব। তবে তার জন্য সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ সাংসদের সমর্থনে প্রস্তাব পাশ হওয়া প্রয়োজন। সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী, প্রস্তাব আনার অন্তত ১৪ দিন আগে লিখিত নোটিস জমা দিতে হয়। নোটিস গৃহীত হলে আলোচনার জন্য দিন নির্ধারিত হয়। সে সময় থেকে প্রস্তাবের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সাধারণত স্পিকার অধিবেশন পরিচালনা করেন না। তখন ডেপুটি স্পিকার বা তাঁর অনুপস্থিতিতে রাষ্ট্রপতির মনোনীত কোনো সাংসদ লোকসভার কার্যক্রম পরিচালনা করেন। সব মিলিয়ে, স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব ঘিরে বিরোধী শিবিরের ভিতরে ঐক্যের ছবি থাকলেও, কৌশলগত প্রশ্নে কংগ্রেস ও তৃণমূলের মধ্যে মতপার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আগামী দিনে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের ভিতরে এই টানাপড়েন কোন দিকে গড়ায়, সে দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
❤ Support Us









