- এই মুহূর্তে দে । শ
- সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৫
মহিলা আইপিএস অফিসারকে হুমকি, বিতর্কে পাওয়ার
মহিলা আইপিএস অফিসারকে হুমকি দিয়ে আবার বিতর্কে জড়িয়ে পড়লেন মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার। সোলাপুর জেলায় অবৈধ মাটি খননের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপের জন্য এক মহিলা আইপিএস অফিসারকে তিনি হুমকি দেন। তাঁর সেই হুমিক দেওয়ার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।
রাস্তা নির্মাণের জন্য অবৈধভাবে মুরুম মাটি খননের অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ডিএসপি অঞ্জলি কৃষ্ণা পুলিশ বাহিনী নিয়ে মাধা তালুকের কুর্দু গ্রামে পৌঁছন। তিনি মাটি খননেন কাজে বাধা দিলে গ্রামবাসীদের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়। গ্রামবাসীরা তাঁর এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করে। তারা অঞ্জলি কৃষ্ণার কাছে দাবি জানায়, গ্রাম পঞ্চায়েতের অনুমতি নিয়েই মাটি খনেনর কাজ করা হয়েছিল। কিন্তু গ্রামবাসীরা কোনও সরকারি নথি দেখাতে পারেনি।
এই সময় এনসিপি কর্মী বাবা জগতাপ সরাসরি উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারকে ফোন করেন। এরপর পর তিনি ফোনটি ডিএসপি অঞ্জলি কৃষ্ণার হাতে দেন। অজিত পাওয়ার নিজেকে ‘ডিসিএম অজিত পাওয়ার’ বলে পরিচয় দিয়ে অঞ্জলি কৃষ্ণাকে মাটি খননের কাজে বাধা না দেওয়ার নির্দেশ দেন। অজিত পাওয়ারের সেই নির্দেশ ডিএসপি অঞ্জলি কৃষ্ণা প্রত্যাখ্যান করেন। পাওয়ারকে অঞ্জলি বলেন, তিনি যদি কথা বলতে চান তবে, সরাসরি তাঁকে ফোন করতে।
অঞ্জলি কৃষ্ণার কথা শুনে ব্যাপক রেগে যান অজিত পাওয়ার। তিনি ডিএসপিকে সতর্ক করে বলেন, ‘আমি তোমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। তোমার সাহস কিভাবে হল? তুমি অন্তত আমার মুখ চিনতে পারবে।’ এরপর তিনি একটা ভিডিও কলে চলে যান। ডিএসপিকে তহসিলদারের সঙ্গে কথা বলার নির্দেশ দেন। সোলাপুরের করমালায় রেকর্ড করা অজিত পাওয়ার এবং মহিলা ডিএসপি অঞ্জলি কৃষ্ণার মধ্যে কথোপকথনের এই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।
জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস পার্টির পক্ষ থেকে অজিত পাওয়ারের পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টার দাবি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। এনসিপি রাজ্য সভাপতি সুনীল তাতকারে বলেন, ‘অজিত দাদা হয়তো দলীয় কর্মীদের শান্ত করার জন্য আইপিএস অফিসারকে তিরস্কার করেছিলেন। কিন্তু তিনি কখনও এই পদক্ষেপ পুরোপুরি বন্ধ করার ইচ্ছা পোষণ করেননি। বিরোধীরা অজিত পওয়ারের তীব্র নিন্দা করেছে। মহারাষ্ট্রে আম আদমি পার্টির সহ–সভাপতি বিজয় কুম্ভর ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন, ‘যখন কোনও কর্মকর্তা অন্যায়কারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন, তখন তাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং থামতে বলা হচ্ছে। এই কারণেই কি মন্ত্রীরা তাদের পছন্দের কর্মকর্তাদের নির্দিষ্ট জেলায় পোস্ট করতে চান?’ তিনি আরো বলেন, ‘কৃষ্ণা যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছন, তখন জড়িত শ্রমিকরা পুলিশের সহ্গে তর্ক শুরু করেন। ভিডিওতে যেমন দেখা যাচ্ছে, তারা অজিত পাওয়ারকে ফোন করে ফোনটি কৃষ্ণার হাতে দেয়। তিনি ফোনকারীর সাথে কথা বলেন, যিনি নিজেকে উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন এবং তাকে কাজ বন্ধ করতে বলেন।’ স্থানীয়দের দাবি, পওয়ারের সমর্থকরা ঘটনাস্থল থেকে তাঁকে ফোন করার পরই পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। হট্টগোল সত্ত্বেও, পুলিশের কাছে কোনও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
❤ Support Us







