- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- অক্টোবর ৪, ২০২৩
আসামে বাল্যবিবাহের রোধে দ্বিতীয় দফায় কঠোর ব্যবস্থা শুরু হওয়ার পর ধরপাকড় শুরু, এক হাজারেরও বেশি গ্রেপ্তার
আসামে বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে রাজ্যব্যাপী দ্বিতীয় দফায় কঠোর ব্যবস্থা সোমবার রাত থেকে শুরু হওয়ায় এক হাজারেরও বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পাঁচ বছরের মধ্যে বাল্যবিবাহের অবসান ঘটাতে বিজেপি-নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকারের প্রচেষ্টার অংশ হিসাবে ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া প্রথম দফায় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল অসম সরকার। অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের বিয়ে করা বা এই ধরনের বিয়ের ক্ষেত্রে সমর্থন করার জন্য সেই সময় কমপক্ষে ৩ হাজার ১৪১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
ভারতে বিয়ের বৈধ বয়স মহিলাদের ক্ষেত্রে ১৮ এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে ২১ বছর।
আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা মঙ্গলবার বাল্য বিবাহের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দফায় কঠোর ব্যবস্থা ঘোষণা করার পর এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে, তার পর থেকে রাজ্য পুলিশ দুপুর ১টা পর্যন্ত ১হাজার ৩৯ জনকে গ্রেফতার করেছে।”
আগের একটি টুইট বার্তায় মুখ্যমন্ত্রী লিখেছিলেন, “ভোরবেলায় শুরু হওয়া বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া লোকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮০০-এর বেশি।”
হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানুয়ারীতে ঘোষণা করেছিলেন তার সরকারের পাঁচ বছরের মধ্যে বাল্যবিবাহ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র দ্বারা ২০১৯ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে পরিচালিত জাতীয় পারিবারিক স্বাস্থ্য সমীক্ষা ৫- এর ফলাফলের ভিত্তিতে।
এই সমীক্ষায় রাজ্যে অপ্রাপ্তবয়স্ক মা বা গর্ভবতী মেয়েদের শতকরা হার ১১.৭ শতাংশ, এই সংখ্যাটা “উদ্বেগজনক”। জাতীয় স্তরে গর্ভবতী মেয়েদের গড় শতকরা হার ৬.৮ শতাংশ, অসমে সেই হার অনেক বেশি। এই হারই “প্রবলভাবে” বাল্যবিবাহ যে অসমপ হচ্ছে তা প্রতিফলিত করে, এই বাল্য বিবাহের কারণেই অসমে উচ্চ মাতৃমৃত্যু এবং শিশুমৃত্যুর হার বাড়ছে।
২০২১ সালের মে মাসে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব নেওয়ার এক মাস পরে, হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জনসংখ্যা বৃদ্ধি বিষয়ক সমীক্ষা করার জন্য তার সরকারের ইচ্ছেকে দৃঢ় করেছিলেন। দারিদ্র্য, বেকারত্ব এবং জমি দখলের মূল কারণ হিসাবে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টিকে তখন চিহ্নিত করা হয়েছিল।
সোমবার থেকে বিভিন্ন জেলায় বাল্যবিবাহ রোধের জন্য কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণনকরার পর থেকে বহু সংখ্যক মানুষকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের মতে ধুবড়ি থেকে ১৯২ জন, বারপেটা থেকে প্রায় ১৫০ জন, বোঙ্গাইগাঁও থেকে ৩৯ জন, কাছাড় জেলা থেকে ৩৪ জন, গোয়ালপাড়া জেলা থেকে ২৮ জন এবং সোনিতপুর জেলা থেকে ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে ধৃতরা কোন সম্প্রদায়ের মানুষ তা উল্লেখ করা হয়নি।
ফেব্রুয়ারিতে যখন বাল্যবিবাহ রোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণনকরা হয় তখন যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল তাদের ৬০ শতাংশ মুসলিম সম্প্রদায়ের, তাদের বেশিরভাগই বাংলাভাষী, এবং বাকিরা হিন্দু এবং অন্যান্য সম্প্রদায়ের ছিল বলে জানা গিয়েছিল। আসামে মোট ৩.২ কোটি জনসংখ্যার ৩৪ শতাংশের বেশি মুসলিম বলে অনুমান করা হয়।
জনৈক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন যে যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে যৌন অপরাধ, শিশুদের সুরক্ষা আইন বা পকসো ২০১২, বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ আইন ২০০৬-এর অধীনে মামলা করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানুয়ারিতে বলেছিলেন যে পুরুষরা ১৪ বছরের কম বয়সী মেয়েদের বিয়ে করে তাদের বিরুদ্ধে যৌন অপরাধ থেকে শিশুদের সুরক্ষা আইন, ২০১২ এর অধীনে মামলা করা হবে এবং যারা ১৪ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে মেয়েদের বিয়ে করবে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে বাল্য বিবাহ নিষেধাজ্ঞা আইন, ২০০৬-এর ভিত্তিতে।
মুখ্যমন্ত্রী ফেব্রুয়ারিতে আরও বলেছিলেন যে এই কঠোর ব্যবস্থা কোনও নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে করা হয়নি। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকেরাও এই পদক্ষেপকে সমর্থন করেছিল। হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেছিলেন, বাল্যবিবাহের মতো প্রথা বন্ধ করে নিজেদের সংস্কার না করা পর্যন্ত অসমের ক্ষমতাসীন বিজেপি আগামী ১০ বছরের জন্য চর এলাকায় বসবাসকারী ‘মিয়া’দের ভোট চাইবে না। এই ঘোষণার একদিন পরই অসমে বাল্যবিবাহ রোধে কঠোর ব্যবস্থা জারি করল অসম সরকার।
গতবারের মতো এবারও গ্রেফতার হওয়াদের মধ্যে গতবারের উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। নিম্ন আসামের দুই মহিলা, যাদের মধ্যে একজন হিন্দু এবং একজন মুসলিম, মঙ্গলবার মিডিয়াকে বলেছেন যে তারা সরকারের কাছে তাদের স্বামী ও ভাইকে মুক্তি দিতে আবেদন জানাচ্ছেন।
ওই হিন্দু মহিলা জানান, তার স্বামীই পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি। তিনি এবং তার বাচ্চা মেয়ে তার স্বামীকে ছাড়া বাঁচতে পারবেন না। মুসলিম মহিলা, যার ভাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তিনিও একই রকম মতামত ব্যক্ত করেছেন৷
❤ Support Us






