Advertisement
  • এই মুহূর্তে বি। দে । শ
  • জুলাই ৪, ২০২৫

বিদেশ সফরেও ভোটের অঙ্ক! ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর প্রধানমন্ত্রীকে ‘বিহার কী বেটি’ বলে সম্বোধন মোদির। উপহারের তালিকায় রামমন্দিরের রেপ্লিকা, সরযূর জল

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বিদেশ সফরেও ভোটের অঙ্ক! ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর প্রধানমন্ত্রীকে ‘বিহার কী বেটি’ বলে সম্বোধন মোদির। উপহারের তালিকায় রামমন্দিরের রেপ্লিকা, সরযূর জল

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, বৃহস্পতিবার, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো সফরে পৌঁছেছেন। এটি ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর প্রথম ত্রিনিদাদ ও টোবাগো সফর। ১৯৯৯ সালের পর প্রথম কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী এই দ্বীপদেশে সফরে এলেন। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে সম্মান জানিয়ে সে দেশের সর্বোচ্চ জাতীয় পুরস্কার ‘দ্য অর্ডার অফ দ্য রিপাবলিক অফ ত্রিনিদাদ ও টোবাগো’ পুরস্কারে সম্মানিত করা হতে চলেছে নরেন্দ্র মোদিকে। বৃহস্পতিবার সকালে পিয়ারকো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছতেই তাঁকে দেওয়া হয় ‘গার্ড অফ অনার’ আর উষ্ণ অভ্যর্থনা। বিকেলে কোউভায় জাতীয় সাইক্লিং ভেলোড্রোমে আয়োজিত সভায় হাজির হন তিনি। উপস্থিত ছিলেন ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর প্রধানমন্ত্রী কমলা প্রসাদ-বিসেসার, তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্য, আইনপ্রণেতারা সহ প্রায় ৪ হাজার প্রবাসী ভারতীয়। নিজের বক্তব্যে, ভারতীয় প্রবাসীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী মোদি তাঁদের ভারতীয় উপমহাদেশের সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করতে বলেন। তিনি বলেন, ভারতীয় সম্প্রদায়ের অবদান ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক এবং আধ্যাত্মিক জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আবেগঘন কণ্ঠে মোদি বলেন, ‘আপনারা গঙ্গা-যমুনা ছেড়ে এসেছিলেন, কিন্তু রামায়ণ, ভগবত গীতা আর ভারতের সংস্কৃতি আপনাদের হৃদয়ে অটুট ছিল। কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে আপনাদের পথ চলার ইতিহাস সাহসিকতার অনন্য উপাখ্যান।’

এরপর, অযোধ্যার রাম মন্দিরের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী মোদি ভারতীয় সম্প্রদায়কে স্মরণ করিয়ে দেন, ‘আপনারা রাম মন্দির নির্মাণের জন্য শিলা আর পবিত্র জল পাঠিয়েছিলেন। সে কারণে আমি একটি রাম মন্দিরের প্রতিরূপ এবং পবিত্র সারযু নদীর জল নিয়ে এসেছি। আপনারা জানেন, এই বছরের শুরুতেই বিশ্বে বৃহত্তম আধ্যাত্মিক সমাবেশ মহাকুম্ভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানকার পবিত্র জল এটি।’ প্রধানমন্ত্রী মোদি নিজের হাতে উপহার তুলে দিয়েছেন সে দেশের প্রধানমন্ত্রী কমলা প্রসাদ-বিসেসারের হাতে। ভাষণে তিনি আরো বলেন, ‘আমি জানি, আপনাদের গভীর বিশ্বাস রয়েছে প্রভু শ্রী রামের প্রতি। ‘রামচরিতমানস’-এ বলা হয়েছে, রামরাজ্য পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর, তার গৌরব বিশ্বব্যাপী প্রসারিত। অযোধ্যায় রামলাল্লার পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর, আমি নিশ্চিত, আপনাদের মধ্যে কেউ একে তৃপ্তি ও আনন্দের সঙ্গে স্বাগত জানিয়েছেন।’

প্রধানমন্ত্রী মোদির বক্তব্যে উঠে আসে, ত্রিনিদাদ ও টোবাগোতে ভারতীয় সম্প্রদায়ের গর্বিত ইতিহাস এবং তাদের ভূমিকা। প্রায় ১ লক্ষ ৩০ হাজারেরও বেশি ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষ বর্তমানে ত্রিনিদাদ ও টোবাগোতে বাস করেন। তাঁদের পূর্বপুরুষেরা ১৯ শতকের মাঝামাঝি সময়ে ভারত থেকে এই দ্বীপদেশে পাড়ি দিয়েছিলেন। মোদি এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আপনার পূর্বপুরুষদের সংগ্রাম আমাদের গর্বিত করে। তাঁদের সাহসিকতা, তাঁদের আত্মবিশ্বাস, তা আজ আমাদের সংস্কৃতির একটি অমূল্য অংশ।’ সে দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কামলা প্রসাদ-বিসেসারের ভারতীয় যোগের প্রসঙ্গও উঠে আসে মোদির কথায়। তিনি বলেন, ‘কামলা জির পূর্বপুরুষেরা বিহারের বক্সার থেকে এসেছিলেন। এ কেবল তাঁর ব্যক্তিগত ইতিহাস নয়, এ সেই ভূমির গৌরব, যা বিশ্বকে গণতন্ত্র, রাজনীতি এবং উচ্চশিক্ষার আলোয় নতুন পথ দেখিয়েছে। বলতে গেলে, কামলা জি ‘বিহার কী বেটি, অর্থাৎ বিহারের মেয়ে। আজকের দিনে বিহারের ভূমিকা কেবল ভারতের জন্য নয়, গোটা বিশ্বে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

বিশ্বমঞ্চে ভারতের আর্থিক ও প্রযুক্তিগত উত্থানের গর্বে অভিভূত প্রধানমন্ত্রী মোদি। বললেন, ‘শীঘ্রই ভারত বিশ্বের প্রথম ৩টি অর্থনীতির মধ্যে জায়গা করে নেবে।’ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেমিকন্ডাক্টর এবং কোয়ান্টাম কম্পিউটিং—এই তিন ক্ষেত্রেই ভারতের ‘জাতীয় মিশন’ ভবিষ্যতের প্রবৃদ্ধির নতুন ইঞ্জিন হয়ে উঠছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর সার্বিক ভাষণে উঠে এল ‘নতুন ভারত’-এর আত্মবিশ্বাসী চেহারা। তাঁর কথায়, ভারত এখন সুযোগের দেশ। যার অগ্রগতির ফল পৌঁছে যাচ্ছে সমাজের সবচেয়ে অভাবী মানুষের কাছেও। নতুন ভারতের জন্য আকাশও কোনো সীমা নয়। ভারত প্রমাণ করেছে, দরিদ্রদের ক্ষমতায়নের মাধ্যমেই দারিদ্র্য দূর করা সম্ভব। কোটি কোটি মানুষ আজ প্রথমবার বিশ্বাস করতে শিখেছে—হ্যাঁ, দেশ একদিন দারিদ্র্যমুক্ত হবে। উদ্ভাবনের যুগে ভারতীয় তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘ আজ ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম স্টার্ট-আপ হাব। এই স্টার্টআপগুলির প্রায় অর্ধেক পরিচালনা করছেন মহিলারা। ইতিমধ্যেই প্রায় ১২০টি স্টার্টআপ ইউনিকর্ন হয়ে উঠেছে। উদ্ভাবন এখন আর কেবল প্রযুক্তির পরিভাষা নয়, বরং একটি গণআন্দোলন।’ ভারতীয় মহাকাশ কর্মসূচীর সাম্প্রতিক সাফল্য সম্পর্কে এদিন মোদি জানান, ‘চন্দ্রযান-৩-এর সাফল্যের পর আমরা চাঁদের যে স্থানটি চিহ্নিত করেছি, তা ‘শিব শক্তি পয়েন্ট’ হিসেবে পরিচিত। আমরা আগামী দিনে গগনযান মিশন নিয়ে কাজ করছি, খুব শীঘ্রই এক ভারতীয় মহাকাশচারী চাঁদে পা রাখবেন।’

প্রধানমন্ত্রীর ত্রিনিদাদ ও টোবাগো সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল ভারত এবং ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্ক আরো দৃঢ় করা। প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিন কারলা কাঙ্গালু এবং প্রধানমন্ত্রী কামলা প্রসাদ-বিসেসারের সঙ্গে একাধিক বিষয়ে আলোচনা করবেন তিনি। মোদির সফরের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সে দেশের ষষ্ঠ প্রজন্মের ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের জন্য ওভারসিজ সিটিজেন অব ইন্ডিয়া কার্ড প্রদান। মোদি জানান, ‘এটি আমাদের মধ্যে সম্পর্কের গভীরতা প্রমাণ করে। আমরা শুধু একে অপরের সঙ্গে রক্তের সম্পর্কেই সংযুক্ত নই, আমরা একে অপরকে আন্তরিকভাবে গ্রহণ করি, একে অপরের জন্য গভীর অনুভবে মরমী হই।’ ত্রিনিদাদ ও টোবাগো সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী মোদি তাঁর পাঁচ-দেশীয় সফরের দ্বিতীয় অংশ হিসেবে আর্জেন্টিনার উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। এরপর, তিনি নামিবিয়ায় একটি সাংস্কৃতিক সফর করবেন এবং সেখানকার স্বাধীনতা সংগ্রামী স্যাম নুজোমার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!