Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫

জর্ডন, ইথিওপিয়া ও ওমান সফর শুরু প্রধানমন্ত্রীর

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
জর্ডন, ইথিওপিয়া ও ওমান সফর শুরু প্রধানমন্ত্রীর

বিশ্বমঞ্চে ভারতের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বকে আরও দৃঢ় করতে তিন মহাদেশের তিন দেশে সফর শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সোমবার সকালে তিনি দিল্লি থেকে রওনা হন। এই সফরের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও আরব বিশ্বের সঙ্গে ভারতের ঐতিহাসিক ও সমসাময়িক সম্পর্ক আরও মজবুত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এদিন ভোরে দিল্লির দৃশ্যমানতা ৫০-এর নিচে থাকায় প্রধানমন্ত্রীর সফর উড়ান বিলম্বিত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর প্রথম গন্তব্য জর্ডন। রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহ ইবনে আল হুসেনের আমন্ত্রণে তিনি সে দেশে যাচ্ছেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, চলতি বছরে ভারত–জর্ডন কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫তম বর্ষ পূর্ণ হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর সফর বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সফরকালে দুই দেশের মধ্যে শান্তি, নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সফর শুরুর আগে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি জর্ডন, ইথিওপিয়া ফেডারেল ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক এবং ওমান—এই তিন দেশে সফর করছি। এই দেশগুলির সঙ্গে ভারতের বহু প্রাচীন সভ্যতাগত সম্পর্ক রয়েছে, পাশাপাশি রয়েছে বিস্তৃত সমসাময়িক দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা।”

জর্ডন সফর শেষে আগামী ১৬ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী পৌঁছবেন আফ্রিকার দেশ ইথিওপিয়ায়। এই প্রথম তিনি ইথিওপিয়া সফরে যাচ্ছেন। ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর গুরুত্বপূর্ণ শরিক হিসেবে ভারত ও ইথিওপিয়া ইতিমধ্যেই পারস্পরিক সহযোগিতার একাধিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সফরকালে ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী ডঃ আবি আহমেদ আলির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করবেন নরেন্দ্র মোদি।

ইথিওপিয়া সফর প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, “আদ্দিস আবাবা আফ্রিকান ইউনিয়নের সদর দপ্তর। ২০২৩ সালে ভারতের জি-২০ প্রেসিডেন্সির সময় আফ্রিকান ইউনিয়নকে জি-২০-র স্থায়ী সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। আদ্দিস আবাবায় আমি প্রধানমন্ত্রী ডঃ আবি আহমেদ আলির সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করব এবং সেখানে বসবাসকারী প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গে সাক্ষাৎ করব।”
তিন দেশের সফরের শেষ পর্বে ১৭ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী যাবেন আরব দেশ ওমানে। ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিকের আমন্ত্রণে এটি হবে মোদির দ্বিতীয় ওমান সফর। চলতি বছরে ভারত–ওমান কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭০ বছর পূর্তি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ।

ওমান সফরকালে প্রধানমন্ত্রী মোদি ও সুলতান হাইথাম বিন তারিকের মধ্যে শক্তি, কৃষি, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি-সহ একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, “মাস্কাটে আমি ওমানের সুলতানের সঙ্গে আলোচনা করব। আমাদের কৌশলগত অংশীদারত্বের পাশাপাশি শক্তিশালী বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও জোরদার করার চেষ্টা করা হবে। এছাড়াও ওমানের প্রবাসী ভারতীয়দের একটি সমাবেশে আমি ভাষণ দেব।”

তিন দেশের সফর শেষে আগামী ১৮ ডিসেম্বর দেশে ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী। ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে নরেন্দ্র মোদি নিয়মিত বিদেশ সফর করে আসছেন। বিরোধীদের সমালোচনা সত্ত্বেও, এই সফরগুলির মাধ্যমে ভারতের আন্তর্জাতিক অবস্থান যে আরও শক্তিশালী হয়েছে, এমনই দাবি পদ্ম শিবিরের।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!