- এই মুহূর্তে দে । শ
- নভেম্বর ২৮, ২০২৫
‘নয়া ভারত মাথা নোয়াবে না, সুদর্শন চক্র দিয়ে শত্রুকে ছিন্নভিন্ন করে দেবে’— উদুপির গীতাপাঠ অনুষ্ঠানে পাকিস্তানকে ইঙ্গিত করে হুঙ্কার নরেন্দ্র মোদির
কর্নাটকের উদুপিতে অনুষ্ঠিত ‘লক্ষ কণ্ঠে গীতা পাঠ’-এর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একদিকে আধ্যাত্মিকতা এবং অন্যদিকে রাজনৈতিক বার্তা একসাথে তুলে ধরলেন। শ্রীকৃষ্ণ মঠে শুক্রবার জনতার উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতে গিয়ে মোদি বলেন, ‘আগে যখন জঙ্গি হামলা হত, তখন সরকার প্রায় কিছুই করত না। কিন্তু এ নতুন ভারত। যে ভারত কখনো কারো কাছে মাথা নত করে না। আমাদের সুদর্শন চক্র প্রয়োজনে শত্রুকে ছিন্নভিন্ন করে দিতে জানে। অপারেশন সিঁদুরই তার প্রমাণ।’
শুধু দেশের প্রতিরক্ষা ক্ষমতার কথা বলেই থেমে থাকেননি প্রধানমন্ত্রী, তিনি গীতার শিক্ষাকে রাষ্ট্রনীতির সঙ্গে যুক্ত করে তুলে ধরলেন। তাঁর কথায়, ‘গীতা শুধুমাত্র ব্যক্তির জন্য দেওয়া বাণী নয়। এটি রাষ্ট্রনীতিতেও পথ দেখায়। উদুপিই একসময় জনসঙ্ঘ ও বিজেপির সুশাসনের মডেল গড়ার ভিত্তি স্থাপন করেছিল।’ তিনি নাগরিকদের স্বদেশি পণ্য, প্রযুক্তি ও প্রাকৃতিক চাষের দিকে মনোযোগী হতে আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, ‘ভোকাল ফর লোকাল-এর মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। এ দিন কর্নাটকে রোড শো করে শ্রীকৃষ্ণ মঠে পৌঁছান নরেন্দ্র মোদি। সেখানে লক্ষ-কণ্ঠে এক লক্ষেরও বেশি মানুষ ‘শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা’ পাঠে অংশ নেন। স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী, সন্ন্যাসী, পণ্ডিত ও সাধারণ মানুষ একসঙ্গে পাঠে অংশ নেন। এক লক্ষ মানুষের মিলিত পাঠ দেখে প্রধানমন্ত্রী নিজেও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, ‘ভারতের হাজার বছরের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের দেবদ্যুতি আজও এমন মিলিত পাঠে অনুভব করা যায়।’
উদুপির মঠে প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করেন সুভর্ণ তীর্থ মণ্ডপ এবং কণক কাবচ। কণক কিঁন্ডি, যেখানে সন্ন্যাসী কনকদাস প্রথমবার ভগবান কৃষ্ণকে দর্শন করেছিলেন, প্রতীকীভাবে অত্যন্ত পবিত্র বলে মনে করা হয়। মোদি বলেন, ‘তিন দিন আগে কুরুক্ষেত্রে গীতার পুণ্যভূমিতে গিয়েছিলাম, আজ কৃষ্ণভক্তির এই পুণ্যভূমিতে এসে অপরিসীম তৃপ্তি অনুভব করছি। এক লক্ষ মানুষের সম্মিলিত গীতাপাঠ দেখে সত্যিই হৃদয় ভরে উঠল।’ তিনি শিশুদের আঁকা তাঁর প্রতিকৃতি সংগ্রহ করতে নিরাপত্তাকর্মীদের বিশেষ নির্দেশ দেন। ভাষণে অযোধ্যার প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘ওখানে ধর্মধ্বজা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। রামমন্দির আন্দোলনে উদুপির ভূমিকা গোটা দেশ জানে।’ উদুপির আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিক গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন ভারত কখনো মাথা নত করে না। দেশের নিরাপত্তার প্রশ্নে এক পা পিছিয়ে যায় না। দেশের নাগরিকদের সচেতন থাকা অপরিহার্য।’ জাতীয় নিরাপত্তার প্রসঙ্গেও নরেন্দ্র মোদি বিস্তৃত ব্যাখ্যা দেন। তিনি উল্লেখ করেন, ভারতীয় সেনার এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমই ‘সুদর্শন চক্র’। অপারেশন সিঁদুরে এটি ব্যবহার করে শত্রুকে ছিন্নভিন্ন করার সক্ষমতা প্রমাণিত হয়েছে। মোদির বার্তায় স্পষ্ট, দেশের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য, রাষ্ট্রনীতি এবং নাগরিকের দায়িত্বের মধ্যে সম্পর্ক দৃঢ়ভাবে টানা সম্ভব।
❤ Support Us







