Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • আগস্ট ৬, ২০২৫

সেন্ট্রাল ভিস্তার নতুন মাইলফলক, পরিবেশ বান্ধব ‘কর্তব্য ভবন’ উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
সেন্ট্রাল ভিস্তার নতুন মাইলফলক, পরিবেশ বান্ধব ‘কর্তব্য ভবন’ উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর

নতুন সংসদ ভবনের পরে এবার ‘কর্তব্য’ পালনের পালা। বুধবার নয়াদিল্লির কর্তব্য পথ-এ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উদ্বোধন করলেন ‘কর্তব্য ভবন’। কেন্দ্রীয় সচিবালয়ের ১০টি প্রস্তাবিত ভবনের মধ্যে এই ভবনটিই প্রথম, যা কেন্দ্র সরকারের ‘সেন্ট্রাল ভিস্তা রূপান্তর প্রকল্প’-এর আওতায় তৈরি। বুধবার, গৃহ ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী মনোহরলাল খট্টরকে সঙ্গে নিয়ে নতুন ভবন ঘুরে দেখেন প্রধানমন্ত্রী।

সচিবালয় সূত্রে খবর, ‘কর্তব্য ভবন-০৩’ নামের এই প্রশাসনিক ভবনটি প্রায় ১.৫ লক্ষ বর্গমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। রয়েছে দুটি বেসমেন্ট, একটি গ্রাউন্ড ফ্লোর এবং তার উপরে আরো ৬টি তলা। এতদিন রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রক ও দপ্তর এখন এক ছাতার নিচে এসে কাজ করবে এই ভবন থেকেই। এখানে স্থান পাচ্ছে গৃহ মন্ত্রক, পররাষ্ট্র মন্ত্রক, গ্রামীণ উন্নয়ন, এমএএসমি, পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক, কর্মী ও প্রশিক্ষণ বিভাগ এবং মুখ্য বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টার দপ্তর। পুরনো শাস্ত্রী ভবন, কৃষি ভবন, উদ্যোগ ভবন, নির্মাণ ভবনের মতো পরিত্যক্ত ও অকার্যকর দপ্তরগুলি এখন থেকে এখানেই বসবে। প্রশাসনিক গতি বাড়াতে এবং নীতির দ্রুত বাস্তবায়নে এটি বড়ো পদক্ষেপ বলে দাবি কেন্দ্রের।

এই ভবন শুধু একটি অফিস কমপ্লেক্স নয়, এটি সরকারিভাবে পরিবেশবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক প্রশাসনের প্রতীক হিসেবেও গড়ে তোলা হয়েছে। শুরু থেকেই এটিকে ‘সবুজ ভবন’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। ভবনটি তৈরি হয়েছে ‘জিরো ডিসচার্জ ক্যাম্পাস’ হিসেবে, অর্থাৎ সমস্ত বর্জ্যজল ভবনের মধ্যেই শোধন করে পুনঃব্যবহারের ব্যবস্থা রয়েছে। এতে রোদে ঠান্ডা রাখার বিশেষ কাচের ব্যবহার, শক্তি সাশ্রয়ী এলইডি আলো, চলাফেরার উপর নির্ভর করে আলো ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা, স্মার্ট লিফট, উন্নত এয়ার কন্ডিশনিং ব্যবস্থা, সব মিলিয়ে প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত শক্তি খরচ কম হবে বলে আশা। ছাদে বসানো হয়েছে সৌরপ্যানেল, যা বছরে প্রায় ৫.৩৪ লক্ষ ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে। সৌর জলের গিজার থেকে প্রতিদিনের গরম জলের প্রায় এক-চতুর্থাংশ চাহিদা পূরণ হবে। রয়েছে ইলেকট্রিক গাড়ির চার্জিং স্টেশন, বৃষ্টির জল ধরে রাখার ব্যবস্থা। ভবন নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে পুনর্ব্যবহৃত নির্মাণ ও ভাঙাচোরা বস্তু। এতে মাটির ব্যবহার কমেছে, কমেছে স্থাপত্যের ওপর চাপও।

ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে কেন্দ্র এখন দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে গোটা সচিবালয় ঢেলে সাজানোর কাজ। কেন্দ্রীয় গৃহ ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ‘কর্তব্য ভবন-০২ ও ০৩’-এর কাজ আগামী মাসের মধ্যেই সম্পূর্ণ হয়ে যাবে। আগামী বছরের এপ্রিল মাসের মধ্যে তৈরি হয়ে যাবে ভবন ১০। অন্য দিকে ৬ ও ৭ নম্বর ভবনের কাজ সম্পূর্ণ হতে সময় লাগবে ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত। তার মধ্যেই পুরনো সচিবালয় ভবনগুলির অফিস অস্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত করা হচ্ছে কস্তুরবা গান্ধী মার্গ, মিন্টো রোড এবং নেতাজি প্যালেসে। তবে কয়েকটি ভবন, যেমন—জাতীয় জাদুঘর, জাতীয় আর্কাইভস, জওহরলাল নেহরু ভবন (পররাষ্ট্র মন্ত্রক), ড. আম্বেদকর অডিটোরিয়াম এবং বাণিজ্য ভবন সংরক্ষিত করে রাখা হবে। নতুন সংসদ ভবন, ভাইস প্রেসিডেন্ট এনক্লেভ ও পুনর্গঠিত ‘কর্তব্য পথ’ তৈরির পর এবার নজর ‘এক্সিকিউটিভ এনক্লেভ’-এর দিকে। সেখানে তৈরি হবে নতুন প্রধানমন্ত্রী দপ্তর, ক্যাবিনেট সচিবালয়, ইন্ডিয়া হাউস ও ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল সচিবালয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে তৈরি হবে প্রধানমন্ত্রীর নতুন বাসভবনও। সব মিলিয়ে রাজধানীর প্রশাসনিক পরিকাঠামোয় এক ঐতিহাসিক রূপান্তর ঘটাতে চলেছে কেন্দ্র সরকার। আর সেই রূপান্তরের ‘প্রথম সাক্ষী’ হয়ে উঠল ‘কর্তব্য ভবন’।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!