- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- জুন ১৩, ২০২৫
আমেদাবাদে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা স্থল পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর। একমাত্র জীবিত ব্যক্তির সঙ্গে হাসপাতালে বললেন কথা
বৃহস্পতিবার আমেদাবাদের মেঘানিনগর এলাকায় এয়ার ইন্ডিয়ার লন্ডনগামী ফ্লাইট-১৭১ ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়। আশঙ্কা করা হচ্ছিল কোনো যাত্রী বা বিমান ক্রু হয়তো আর বেঁচে নেই। আশঙ্কা সত্যি করে দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন মোট ২৪১ জন যাত্রী। এর মধ্যে ১৬৯ জন ভারতীয়, ৫৩ জন ব্রিটিশ, ৭ জন পর্তুগিজ এবং ১ জন কানাডিয়ান নাগরিক ছিলেন। যাত্রীদের মধ্যে একজন আশ্চর্যজনকভাবে বেঁচে গিয়েছেন। তিনি বর্তমানে হাসপালাতে চিকিৎসাধীন। বিমানে থাকা ক্রু সদস্যদের মধ্যে ১২ জনেরই মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। অসমর্থিত সূত্রে খবর মৃতের সংখ্যা ২৬৫। বিমান যাত্রী ছাড়াও যে হস্টেলের উপর বিমানটি ভেঙে পড়ে সেখানেও প্রাণহানি ঘটেছে। বিএজে মেডিকেল কলেজের অন্তত ৫ জন এমবিবিএস ছাত্র, এক পিজি রেসিডেন্ট ডাক্তার এবং এক সুপারস্পেশালিস্ট ডাক্তারের স্ত্রীও নিহত হয়েছেন। ৬০ জনের বেশি মেডিকেল ছাত্র আহত হয়েছেন। বেসরকারি রিপোর্ট অনুযায়ী, মেডিকেল কলেজ চত্বরেই প্রায় ২৫ জনের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। আমেদাবাদ সিভিল হাসপাতালে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিহতদের শনাক্তকরণের প্রচেষ্টা চলছে। বিমানের ধ্বংসাবশেষ থেকে উদ্ধার হওয়া দুর্ঘটনার পর এখনও যাত্রীদের অনেকের খোঁজ পাওয়া যায়নি। অনেকের দেহ শনাক্ত করা যায়নি। এই পরিস্থিতিতে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দল বা এনডিআরএফ-এর ৬টি দল ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এনডিআরএফ-এর ডিজি হরিওম গান্ধী জানিয়েছেন, তাঁদের ৬ টি দল বৃহস্পতিবার থেকে কাজ করে চলেছে। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ভিতরে কেউ আটকে রয়েছেন কি না, ধ্বংসস্তূপ না-সরালে তা বলা মুশকিল। দুর্ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে গুজরাট পুলিশ। শুক্রবার এয়ার ইন্ডিয়ার সিইও ক্যাম্পবেল উইলসনও দুর্ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেছেন এবং সবধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। দুর্ঘটনাস্থলে ফরেন্সিক দল নমুনা সংগ্রহ করতে এসে ঘটনাটি বিশদভাবে খতিয়ে দেখছেন। কেন্দ্রীয় সরকার উচ্চস্তরের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, যাতে দুর্ঘটনার কারণটি বের করা যায়। প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, বিমানের ২টো ইঞ্জিনে সমস্যা হতে পারে, অথবা পাখির আঘাতও দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শুক্রবার সকালে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। এরপর তিনি দুর্ঘটনায় একমাত্র জীবিত ব্যক্তি, ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক বিশ্বকুমার রমেশের সঙ্গে হাসপাতালে গিয়ে সাক্ষাৎ করেন। মোদির সঙ্গে ছিছেন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র পটেল, কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণমন্ত্রী রামমোহন নায়ডু। একমাত্র বেঁচে যাওয়া যাত্রী, বিশ্বকুমার হাসপাতালের বিছানায় শুয়েই আতঙ্কের সেই মুহূর্তের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন, টেক অফের ৩০ সেকেন্ড পরই বিমানে বিকট শব্দ হয়, মূহূর্তেই বিমানটি মাটিতে আছড়ে পড়ে। এই দুর্ঘটনায় তাঁর ভাই অজয় কুমার রমেশ নিহত হয়েছেন। তিনি নিজে সৌভাগ্যক্রমে ধ্বংসস্তূপ থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছিলেন । গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র পটেল, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সিআর পাতিল আর গুজরাটের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হর্ষ সাঙ্ঘভিও দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়েছেন। গুজরাটের ১২ বছর মুখ্যমন্ত্রীর দায়ভার সামলানো বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমি এতটা শোকাহত যে ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। এই দুঃখজনক সময়ে আমার মন প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সাথে।’ বৃহস্পতিবার তিনি এক্স- এ লিখেছিলেন, ‘এই দুঃখজনক সময়ে আমার মন সকলের সাথে। আমি মন্ত্রীরা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছি, যারা ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য করতে কাজ করছেন।’ তিনি প্রয়াত বিজেপি নেতা বিজয় রূপানির স্ত্রী অঞ্জলি রূপানির সাথেও সাক্ষাৎ করবেন।
বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ, বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী রাম মোহন নায়ডু কিঞ্জারাপু দুর্ঘটনা স্থান পরিদর্শন করেছেন, পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছেন। কেন্দ্রের তরফে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করতে উচ্চস্তরের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে অমিত শাহ বলেন, ‘বিমান দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। গুজরাটের বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী তৎপরতার সঙ্গে কাজ করছে। প্রায় ১.৫ লক্ষ লিটার জ্বালানি ছিল। বিমানে তাপমাত্রা বেশি থাকার জন্য কাউকে বাঁচানো যায়নি।’
এআই ১৭১ বিমানে থাকা যাত্রীদের পরিবার-পরিজনদের কাছে সব রকম সাহায্য এবং তথ্য পৌঁছোনোর জন্য অহমদাবাদ, মুম্বই, দিল্লি এবং ব্রিটেনের গ্যাটউইকে সহায়ক কেন্দ্র বা অ্যাসিস্ট্যান্স সেন্টার তৈরি করেছে এয়ার ইন্ডিয়া। প্রসঙ্গত, এআই ১৭১ বিমানটির অতবরণ করার কথা ছিল ব্রিটেনের গ্যাটউইক বিমানবন্দরেই। পাশাপাশি টাটা গোষ্ঠী ঘোষণা করেছে, প্রতিটি নিহত যাত্রীর পরিবারকে এক কোটি টাকা করে দেওয়া হবে। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় শোকপ্রকাশে টাটা ও এয়ার ইন্ডিয়ার ওয়েবসাইট এখন রং বদলে হয়ে গিয়েছে কালো। গুজরাটের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হর্ষ সাঙ্ঘভি জানিয়েছেন, বিমান দুর্ঘটনা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। একে ভারতের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। ২০২০ সালে ভারতের সর্বশেষ ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা ঘটেছিল, সেসময় ২১ জন মারা যান। দুর্ঘটনার পর আদানি গ্রুপ পরিচালিত আমেদাবাদ বিমানবন্দর ফ্লাইট অপারেশন বন্ধ করে দিয়েছিল, তবে এখন কিছুটা সীমিত ফ্লাইট অপারেশন আবার শুরু হয়েছে।ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় কার্যত স্তব্ধ গোটা দেশ, নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছে সকলেই।
❤ Support Us






