- ক | বি | তা
- মার্চ ৩১, ২০২৫
কবিতা: বিনোদ কুমার শুক্লা
চিত্রকর্ম: পিটার ক্লার্ক
এবছরের জ্ঞানপীঠ পুরস্কারে সম্মানিত হচ্ছেন হিন্দি সাহিত্যের কবি ও কথাসাহিত্যিক বিনোদ কুমার শুক্লা। তাঁর জন্ম, ১৯৩৭ এর জানুয়ারিতে ।
১৯৭১ এ ‘লগভগ জয় হিন্দ’ কাব্যগ্রন্হ দিয়েই কবিতা তাঁর আত্মপ্রকাশ। কবিতা এবং বিশেষ করে কথাসাহিত্যের জগৎকে তিনি পৌঁছে দিয়েছেন উৎকর্ষের শিখরে, সুচিহ্নিত তাঁর স্বাতন্ত্র্য। যাদু বাস্তবতার অন্যতর মাত্রা সমৃদ্ধ করেছে তাঁর সমূহ লেখক সত্তাকে । লোক আখ্যান আর আধুনিক মানুষের জীবনের জটিলতাকে আশ্চর্য শৈল্পিত ভাষায় প্রকাশ করেছেন তিনি। ‘দিওয়ার মে এক খিড়কি রহতি থি’ এবং ‘নৌকর কি কমিজ’ তাঁর বহু পরিচিত দুটি উপন্যাস। বিনোদ কুমারের কবিতা, উপন্যাস ও গল্প বিভিন্ন ভারতীয় এবং বিদেশি ভাষায় অনূদিত এবং প্রশংসিত।
বিনোদ কুমারের কবিতা এমন এক পাখি যে জানে না, সে কীভাবে দূরে চলে যায় আবার ফিরেও আসে, নীড়ে । পাখি, মানুষ, পাহাড়, গাছপালা সবই চোখে দেখা জীবনের কথা বলে, অবশ্যই গভীর ভাষায় । তিনি যাঁদের দেখেন এবং যাঁদের কথা লেখেন, তাঁরা এমন ধরনের মানুষ, যাঁরা যখন ঘর থেকে বের হন, তখন তাঁদের সঙ্গে থাকে একটি ছেঁড়া শপিং ব্যাগ। এ ব্যাগ কীসের প্রতীক ? নিত্যতা না স্থায়ী গার্হস্থ্যের ?
চিত্রকর্ম: পিটর কনচাল্ভস্কি
যারা আমার বাড়িতে কখনো আসবে না
যারা আমার বাড়িতে কখনো আসবে না
তাদের সঙ্গে দেখা করতে আমি
চলে যাব তাদের কাছে ।
উত্তাল নদী কখনোই আসবে না আমার বাড়িতে
নদীর মতো মানুষের সঙ্গে দেখা করতে
নদীর পারে যাব
একটু সাঁতার কেটে তারপর ডুবে যাব
পাহাড়, টিলা, পাথর, পুকুর
অসংখ্য গাছপালা খেত
কখনো আসবে না আমার বাড়িতে
খেতকৃষির মতো মানুষের সঙ্গে দেখা করতে
চলে যাব গ্রামে-গ্রামে, জঙ্গল-অলিগলিতে
যারা নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে
অবসরে নয়
একটি জরুরি কাজের মতো
দেখা করতে থাকব –
একে আমি শেষের একমাত্র ইচ্ছার মতো
প্রথম ইচ্ছা হিসেবে রাখতে চাই ।
চিত্রকর্ম: পাবলো পিকাসো
এখনও বৃষ্টি হয়নি
এখনও বৃষ্টি হয়নি
ওহ ! বাড়ির সামনের গাছটা কাটা পড়ে গেল
এ কারণে নয় তো !
ঘরে ফেরার পথে
সন্ধ্যার আকাশে
সারসের ঝাঁক
বহুদিন চোখে পড়েনি
একটি সারসও দেখতে পাইনি
পাশের যে পুকুরটি এখনও বেঁচে আছে
তার সামান্য জলটুকুও শুকিয়ে গেছে
এ কারণেই নয় তো !
জুলাই এসে গেল
এখনও বৃষ্টি নামল না
গত জুলাইয়ে
যেটুকু জঙ্গল বেঁচে ছিল
এখন আর ততটা বেঁচে নেই
এ কারণেই নয় তো !
আদিবাসী ! গাছপালা তোমাদের ছেড়ে যায়নি
আর তোমরাও স্বেচ্ছায় জঙ্গল ছেড়ে যাওনি
শহরের ফুটপাতে অর্ধনগ্ন শিশু-পরিবারের সঙ্গে
দেখলাম চলে এ বছর যাচ্ছ
এ কারণেই নয় তো !
বছরটি চলে গেল
পরিবারের দলে এবার
ছোট ছোট বাচ্চাদের দেখা গেল না
কোথাও এটা আদিবাসীদের অবলুপ্তির
ক্রম নয় তো !

চিত্রকর্ম: রোবের ফল্ক, ১৯১২
কোথাও চলে যেতে ইচ্ছে হয়
কোথাও চলে যেতে ইচ্ছে হয়
পাখির মতো
সন্ধ্যা নাগাদ ফিরে আসব বলে ।
পাখির মতো সুদূরের টানে!
সন্ধ্যাবেলা কোথাও যাওয়ার নেই
কিন্তু প্রাণপাখি ?
♦–·–♦♦–·–♦♦–·–♦
তরজমা : তমোজিৎ সাহা ঈশাণ বাংলার তরুণ কবি ।
❤ Support Us











