Advertisement
  • ন | ন্দ | ন | চ | ত্ব | র
  • জানুয়ারি ১৩, ২০২৬

জেলেই মৃত্যু বাংলাদেশের সংগীত শিল্পী প্রলয় চাকীর, চিকিৎসা গাফিলতির অভিযোগ পরিবারের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
জেলেই মৃত্যু বাংলাদেশের সংগীত শিল্পী প্রলয় চাকীর, চিকিৎসা গাফিলতির অভিযোগ পরিবারের

পাবনা জেলা সংশোধনাগারে দুই বছরের বেশি সময় কাটানোর পর, জেল হেফাজতেই হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপে ভুগে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন বাংলাদেশের সংগীতজগতের আলোকবর্তিকা হিসেবে খ্যাত, গায়ক, আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক প্রলয় চাকী। তাঁর মৃত্যুর পর, চিকিৎসা ও কারাগার ব্যবস্থাপনা নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে।

১৯৮০-এর দশকে জনপ্রিয়তা অর্জন করা প্রলয় চাকী তাঁর ভাই মলয় চাকীর সঙ্গে নিয়মিত বাংলাদেশ টেলিভিশনে গান পরিবেশন করতেন। গানের মঞ্চে তাঁর কণ্ঠে ভেসে উঠত মানুষের আনন্দ, আশা ও স্বপ্ন। সংগীতের পাশাপাশি প্রলয় চাকী রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ছিলেন। তিনি পাবনা জেলার আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করতেন এবং দলের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে সমৃদ্ধ করার কাজে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিলেন। তাঁর জীবনে রাজনৈতিক দিকও কম গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উত্তাল সময় এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিদেশগমনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হলে প্রলয়ও গ্রেফতার হন। ১৬ ডিসেম্বর, তাঁর পাবনা শহরের নিজ বাসভবন থেকে তাঁকে আটক করা হয়। এরপর থেকে প্রলয় চাকী পাবনা জেলা সংশোধনাগারে বন্দি ছিলেন। এই সময় তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়।

দীর্ঘদিন কারাগারে বন্দি থাকার পর প্রলয় চাকীর স্বাস্থ্য ক্রমশ খারাপ হতে থাকে। পাবনা জেলা কারাগারের সুপার ওমর ফারুক জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরেই ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগসহ একাধিক জটিল রোগে ভুগছিলেন গায়ক। গত শুক্রবার হঠাৎ তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রাথমিকভাবে তাঁকে পাবনা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতালের চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রবিবার রাত ৯টা ১৫ মিনিটে তিনি মারা যান। তবে প্রলয় চাকীর পরিবার অভিযোগ তুলেছেন যে, কারাগারে থাকা অবস্থায় তাঁকে যথাযথ ও সময়মতো চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। পরিবারের দাবি, চিকিৎসার অভাবে এবং কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে প্রলয়কে হারাতে হলো। তাঁর ছেলে সানি চাকী জানিয়েছে, ‘হৃদরোগের গুরুতর সমস্যা থাকা সত্ত্বেও বাবাকে সিসিইউতে রাখা হয়নি’। প্রিজন সেলে রাখার ফলে চিকিৎসা বিলম্বিত হয়েছিল এবং অবস্থার অবনতি ঘটেছিল। পরিবারকে বিষয়টি জানানোও হয়নি।

প্রলয় চাকীর মৃত্যুতে বাংলাদেশের সংগীত জগতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তপন চৌধুরী, কুমার বিশ্বজিৎ, দিনাত জাহান মুন্নি, বাপ্পা মজুমদার, কবির বকুলসহ দেশের বহু বিশিষ্ট শিল্পী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সাংবাদিক সম্মেলনে শোক প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, প্রলয় চাকীর চলে যাওয়া শুধু একজন শিল্পীর মৃত্যু নয়, এটি দেশের সংগীত ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের এক বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি করেছে। প্রলয়ের জীবন ও কর্মগুণের দিকে তাকালে বোঝা যায়, তিনি শুধু একজন গায়ক বা রাজনৈতিক নেতা ছিলেন না। তিনি মানুষের মন ও মননকে স্পর্শ করা, তাদের অনুভূতির সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা একজন শিল্পী। মানুষের আশা ও আন্দোলনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিলেন তিনি। প্রলয় চাকীর মৃত্যুতে শুধু তাঁর পরিবারই নয় বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে এক গভীর শূন্যতা তৈরি করল।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!