Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • ডিসেম্বর ১২, ২০২৫

রাহুল গান্ধীর ডাকা বৈঠকে ফের অনুপস্থিত শশী থারুর, এ নিয়ে পরপর তিনবার। নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
রাহুল গান্ধীর ডাকা বৈঠকে ফের অনুপস্থিত শশী থারুর, এ নিয়ে পরপর তিনবার। নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

কংগ্রেসের থিরুবানন্তপুরমের সাংসদ শশী থারুর একবারে তিনে তিন, আবারও রাহুল গান্ধির ডাকা কংগ্রেস এমপিদের সভায় অনুপস্থিত তিনি। গত শুক্রবার অনুষ্ঠিত কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে হাজির না হওয়ার ঘটনায় দলের অন্দরে-বাইরে শুরু হয়ে জোর জল্পনা। সভাটি ছিল রাহুল গান্ধির নেতৃত্বে, যেখানে কংগ্রেসের ৯৯ জন এমপি উপস্থিত ছিলেন, এবং দলীয় কর্মকাণ্ড পর্যালোচনার পাশাপাশি বিজেপি বিরোধী আন্দোলনকে শক্তিশালী করার আলোচনা করা হয়। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় শশী থারুর অনুপস্থিত ছিলেন।

থারুরের পক্ষ থেকে এক্স (পূর্ববর্তী টুইটার) অ্যাকাউন্টে ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানের অংশগ্রহণের উল্লেখ করা হয়েছে, যার মধ্যে ছিল তাঁর দীর্ঘদিনের সহযোগী জন কোশির বিয়ে এবং তাঁর বোন স্মিতা থারুরের জন্মদিন। শশী ছাড়াও, চণ্ডীগড়ের এমপি মণীশ তিওয়ারিও সভায় উপস্থিত ছিলেন না।
এর আগে, থারুর দলের দুটি সভায় অনুপস্থিত ছিলেন নভেম্বরে। প্রথমটি ছিল ৩০ নভেম্বর, যেখানে সোনিয়া গান্ধির সভাপতিত্বে কৌশলগত একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তাঁর কিছু ‘বিদ্রোহী’ মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আলোচিত হয়েছিল। তিনি ওই সময় দাবি করেছিলেন, ‘আমি গরহাজির ছিলাম না; আমি কেরালা থেকে একটি বিমানে আসছিলাম।’ পরে তাঁর অফিস জানিয়েছিল যে, তার ৯০ বছর বয়সী মা অসুস্থ হওয়ায় তিনি দিল্লি ফিরে আসছিলেন, যার কারণে সভায় উপস্থিত হতে পারেননি।

দ্বিতীয়টি ছিল ১৮ নভেম্বর, বিশেষ নিবন্ধন পুনঃযাচাই বা ভোটার পুনঃযাচাই বিষয়ে একটি সভা, যেখানে অসুস্থতার কারণে থারুর উপস্থিত হতে পারেননি। ওই সময় তিনি এক ব্যক্তিগত ইভেন্টে অংশগ্রহণ করেছিলেন, যেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বক্তব্য রাখেন। থারুর ওই অনুষ্ঠানে মোদির প্রশংসা করায় বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল, যা কংগ্রেস নেতাদের মধ্যে সমালোচনার জন্ম দেয়। কংগ্রেস নেতা সুপ্রিয়া শ্রিনাথ এবং সানদীপ দীক্ষিত মোদির প্রশংসায় তাঁর মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করেছিলেন, এমনকি দীক্ষিত থারুরকে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন। থারুর তখন পালটা জবাব দিয়ে বলেন, ভারতীয় রাজনীতির বহুমুখী বাস্তবতায় কখনও কখনও একে অপরের বিরোধিতা থাকা সত্ত্বেও, দলের মধ্যে সহযোগিতা থাকা উচিত। কংগ্রেস সূত্রে জানা গেছে, থারুর সর্বশেষ দলীয় সভায় উপস্থিতি ছিল অক্টোবর মাসে, যখন কেরালা ইউনিট একটি ছ-ঘণ্টার আলোচনা সভা আয়োজন করেছিল।

শুক্রবার সকালের যে বৈঠকে থারুর অনুপস্থিত ছিলেন, সে বৈঠকে রাহুল গান্ধি দলীয় এমপিদের উৎসাহিত করতে কিছু ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন, এবং বিশেষভাবে রায়বেরিলি এমপি এবং তার বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধির একযোগী আক্রমণের পরিপ্রেক্ষিতে বিজেপির অস্বস্তি এবং মানসিক চাপের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি দাবি করেন, ‘অমিত শাহজি খুব নার্ভাস ছিলেন, তাঁর হাত কাঁপছিল… তিনি প্রচণ্ড মানসিক চাপে ছিলেন। সবাই এটা দেখেছিল গতকাল।’ তবে শশী থারুরের বার বার দলীয় সভায় অনুপস্থিতি এবং তাঁর মন্তব্য নিয়ে কংগ্রেসের অভ্যন্তরে এখন নানা প্রশ্ন উঠছে। কংগ্রেসের ভবিষ্যত এবং শশী থারুরের দলের প্রতি আনুগত্য নিয়ে দলের মধ্যেই অনেক সংশয় তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক অভিজ্ঞ মহলে প্রশ্ন উঠছে শশী থারুর কি চাইছেন দল তাঁকে বহিস্কার করুক?


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!