Advertisement
  • দে । শ
  • ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬

ভারত–মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি ঘিরে তুমুল তরজা । কৃষক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক রাহুলের, কটাক্ষ পদ্মশিবিরের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ভারত–মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি ঘিরে তুমুল তরজা । কৃষক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক রাহুলের, কটাক্ষ পদ্মশিবিরের

ভারত–মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে কেন্দ্রের তীব্র সমালোচনায় সরব হয়েছে বিরোধীরা। সংসদে রাহুল গান্ধি নেতৃত্বাধীন বিরোধী শিবির সরাসরি আক্রমণ শানিয়েছে নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে। এই আবহেই শনিবার দেশের ১৭টি কৃষক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল।

সূত্রের খবর, বৈঠকে কৃষক নেতারা ভারত–মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁদের আশঙ্কা, চুক্তির ফলে ভুট্টা, সয়াবিন, তুলো, ফল এবং বাদাম চাষে যুক্ত ভারতীয় কৃষকরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। কৃষকদের অধিকার রক্ষায় দেশজুড়ে আন্দোলনের ডাকও দিয়েছেন তাঁরা। রাহুল গান্ধিও সংসদে একাধিকবার এই চুক্তির বিরোধিতা করে কৃষকদের সম্ভাব্য ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরেছেন।

অন্যদিকে, এই বৈঠককে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিজেপি। কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল রাহুলের অভিযোগকে ‘ভুয়ো’ ও ‘বানানো’ বলে দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, “এই বৈঠকের উদ্দেশ্য ছিল পরিশ্রমী অন্নদাতাদের বিভ্রান্ত করা এবং সরকারের অর্থনৈতিক নীতির বিরুদ্ধে উসকানি দেওয়া।” এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, “রাহুল ফের “নাটক” করছেন এবং মনগড়া তত্ত্ব হাজির করছেন।” এমনকি তাঁর অভিযোগ, “কংগ্রেসের কয়েকজন কর্মীকে কৃষক নেতা সাজিয়ে সামনে আনা হয়েছে।”

উল্লেখ্য, দীর্ঘ দরকষাকষি ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের পর ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্যচুক্তিতে সমঝোতা হয়েছে। গত সপ্তাহে প্রথমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই চুক্তির ঘোষণা করেন। এরপর দুই দেশের তরফে অন্তর্বর্তী সমঝোতা নিয়ে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়।

চুক্তি প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পীযূষ গোয়েল জানান, আমেরিকা ভারতীয় পণ্যে শুল্কের হার ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামাচ্ছে। পাশাপাশি, রুশ তেল কেনার জেরে ভারতীয় পণ্যে অতিরিক্ত যে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল, তা প্রত্যাহার করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

বাণিজ্যমন্ত্রীর দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে যেসব দেশের সঙ্গে ভারতের প্রতিযোগিতা রয়েছে, তাদের তুলনায় এখন ভারতের অবস্থান অনেক বেশি সুবিধাজনক। বর্তমানে চীনা পণ্যে ৩৫ শতাংশ, ভিয়েতনাম ও বাংলাদেশের উপর ২০ শতাংশ এবং ইন্দোনেশিয়ার উপর ১৯ শতাংশ শুল্ক ধার্য রয়েছে। সেই তুলনায় ভারতীয় পণ্যে ১৮ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হবে। শুধু তা-ই নয়, এই বাণিজ্যিক সমঝোতার ফলে কিছু পণ্য শুল্কমুক্তভাবেও রপ্তানি করা যাবে, যার মধ্যে স্মার্টফোন অন্যতম।

সব মিলিয়ে, ভারত–মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র মতভেদ তৈরি হয়েছে। একদিকে কৃষকদের স্বার্থ রক্ষার প্রশ্ন তুলে সরব বিরোধীরা, অন্যদিকে চুক্তিকে ভারতের অর্থনীতির পক্ষে ইতিবাচক পদক্ষেপ বলেই তুলে ধরছে কেন্দ্রীয় সরকার।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!