- প্রচ্ছদ রচনা
- মে ২, ২০২২
সত্যজিৎ ১০১ । বিনম্র শ্রদ্ধায়, স্মরণে আলোড়িত বঙ্গভূবন ।
কেবল স্রষ্ঠা হিসেবে নন, জাতিসত্ত্বার নিরপেক্ষ আর ব্যক্তিক আত্মপ্রকাশও অনন্য তাঁর অবস্থান । সমকালের সব চলচ্চিত্রকারকে অতিক্রম করে যে স্থাপনা নির্মাণ করেছিলেন তিনি, তা যেমন সমসাময়িক তেমনি শ্বাশত ।
চিত্র: সুব্রত গঙ্গোপাধ্যায় ।
আজ সত্যজিৎ রায় ১০১-এ পা দিলেন । বাঙালির ভাবাবেগ, কথায়, স্মৃতিচারণে আর তাঁর কালোত্তীর্ণ সৃষ্টির প্রদর্শনে, তাঁকে চলচ্চিত্রের কবিকে সারদিন-সারারাত খুঁজবে বাঙালির স্মৃতিসত্তা ।
১৯৫১ সালের কথা, বিশ্ববরেণ্য ফরাসি চলচ্চিত্রকার জাঁ র্যনোয়া ভারত সফরে এসে সত্যজিতকে বলেছিলেন — ‘If you could only shake hollywood out of your system and evolve your own style, you would be making great films here’।
তরুণ সত্যজিৎ তা জানতেন। পরে ১৯৪৯ সালে ‘দ্য স্টেটসম্যান’ খেছিলেন তিনি– ‘But what of our own cinema? Where is our national style? Where is the inspiration to transform the material of our life to the material of cinema?’
সত্যজিতের সুপরিকল্পিত ভাবনা ছিল, নির্দিষ্ট দর্শন ছিল । নিভৃতে তিনি এমন কিছু করতে চাইছিলেন, যার প্রকাশ আর অভিব্যক্তি জগৎ-কে বিস্মিত করে দেয় পরে । ‘পথের পাঁচালী’ থেকে সর্বশেষ সিনেমা ‘আগন্তুক’ পর্যন্ত আমরা দেখতে পাই সুচিন্তিত বিস্ময় আর বিস্ময় । সৃষ্টিধর্মী লেখালেখি, ভাবনা চিন্তার ব্যতীক্রমি উচ্চারণে আজও তাঁর উচ্চতা অপরেজেয়।
কেবল স্রষ্ঠা হিসেবে নন, জাতিসত্ত্বার নিরপেক্ষ আর ব্যক্তিক আত্মপ্রকাশও অনন্য তাঁর অবস্থান । সমকালের সব চলচ্চিত্রকারকে অতিক্রম করে যে স্থাপনা নির্মাণ করেছিলেন তিনি, তা যেমন সমসাময়িক তেমনি শ্বাশত । শতবর্ষে তাঁকে ঘিরে যে আয়োজন হওয়ার কথা ছিল, সে আয়োজনের অসম্পূর্ণতা আজ পূর্ণ করতে চায় নির্বিশেষের সিনেমাদর্শক । দেশ তাঁকে রত্ন ভেবেছে, ভারত রত্ন খেতাব দিয়েছে । সে রত্নকে সযত্নে সাজিয়ে রাখার পরিকল্পনা কোথায়? তাঁর সমস্ত সৃষ্টিকে জড়ো করে কোথাও কী তৈরি হয়েছে মনোহর মিউজিয়াম ? অন্তরের বর্হিমুখী সূক্ষ্ণ ভাস্কর্য কেন গড়ে উঠল না এখনও ? আমরা তাঁর সাধনাকে দূরে রেখে ব্যক্তি পূজায় ব্যস্ত । সে পূজায় শ্রদ্ধার্ঘ্যের চেয়ে উপকরণের আড়ম্বর বড়ো হয়ে উঠছে কেন? মানুষ সত্যজিৎ-কে আবিষ্কার করা দরকার । দরকার তাঁর কর্ম আর দর্শনের প্রশ্নময় এবং প্রশ্নাতীত বিশ্লেষণ। জন্মদিনে সত্যজিৎ-কে এভাবে দেখার সুযোগ কি মিলবে? অসংখ্য চিঠি লিখেছিলেন প্রিয়জনকে, সমকালের বন্ধু ও পূর্বগামীদের । কোথায় গেলে খুঁজে পাব এসবের সমবেত সংরক্ষণ । ব্যক্তিপূজার অভ্যাস থেকে বেরিয়ে ব্যক্তিসত্ত্বার সত্যজিৎ-কে খুঁজে দেখা জরুরি । লক্ষ লক্ষ গুণমুগ্ধ আর স্বনির্বাচিত অনুগামীরা এসব বিষয় নিয়ে আশা করি ভাববেন এবং কলকাতায় গড়ে তুলবেন সত্যময় বেনজির প্রতিষ্ঠান । যা, আমাদের মননে, আমাদের কর্মে অনুপ্রেরণার বিমূর্ত উৎস হয়ে থাকবে।
❤ Support Us







