- ধা | রা | বা | হি | ক রোব-e-বর্ণ
- এপ্রিল ২০, ২০২৫
হিরণবালা । পর্ব এক
অলঙ্করণ : দেব সরকার
শেকড়-ছোঁওয়া উপন্যাসের নির্মাণ
কবিতায়, গল্পে, উপন্যাসে বিচিত্র বিষয় আর ভাবনার সঙ্গে হামেশা আমাদের পরিচয় করিয়ে দিতে অভ্যস্ত অংশুমান কর। চেনা ছকে সাড়া দেয় না তাঁর শব্দ, কলমও মানতে চায় না পুর্বগামী কিংবা সমকালীন প্রতিদ্বন্দ্বীদের মান্য রেওয়াজের খাঁচা। সৃজনের এই প্রবণতা খাঁচার ইমারত তছনছ করে দেয় যেমন কান্না ঘেঁষা, কান্না ব্যবসায়ী দয়াময়, ঠিক একইভাবে অন্য ধরণের পাগলামির, অদ্ভুত সব লোকচরিত্র, লৌকিক চালচিত্র সবরকমের অনুশাসনকে অতিক্রম করে নিঃসময়ের মনন চিহ্ন হয়ে ওঠে। মানচিত্র এখানে তুচ্ছ নয়, অনুচ্চ নয় জাতিচিন্তার জাগ্রত, চিরজাগ্রত অঙ্গীকার ও স্বাতন্ত্র্য –এই সচেতন স্বাতন্ত্র্যতাই অংশুমানের অন্বেষার ঘরানা।
এবার শুরু হল তাঁর আরেকটি নতুন উপন্যাস, শেকড়, স্মৃতি আর সত্তা ছুঁয়ে — কাহিনীর চরিত্র শাদা পোশাকের একজন গৃহবধু, তিন সন্তানের জননী। স্বামী তাঁর নিরুদ্দেশ, লোকটি বাড়ি ফিরবে কিনা, নিশ্চিত নয় অবিভক্ত বাংলার গোয়ালন্দের স্টিমারঘাটের নিকটস্থ গ্রামের অসহায় গ্রাম্য বধুটি–বাধ্য হয়ে নার্সের চাকরি নিয়ে গ্রাম ছেড়ে সে পশ্চিমবঙ্গে চলে আসবে, স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করবে গোয়ালতোড়ে। এ অন্য এক দিনযাপনের আরম্ভ, আগুন ঘেঁষা জীবন আর অফুরন্ত প্রত্যাশার, কখনো বা উদ্বাস্তুজনিত হতাশার।
উপন্যাসটির এক পর্ব থেকে আরেক পর্বে অংশুমান লক্ষ্য করছেন, খুঁজতেও চেয়েছেন দেশভাগের হেতু, উপহেতু। চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেবেন, বাংলার ইতিহাস আর বাঙালির চূড়ান্ত দুর্যোগের উৎস সাম্প্রদায়িক উসকানি এবং আগন্তুকের রাজনীতি, যা জাতির অস্তিত্বে ফাটল আর খণ্ডিত চিন্তার উপকরণ যুগিয়ে রণমূর্তি ধারণ করতে চাইবে ক্রমশ।
সম্পাদক
– লেইখ্যা দে তিনটি সন্তান লইয়া বড়োই বিপদে পড়িয়াছি। চাকুরিটি না পাইলে অনাহারে মরিতে হইবে।
হিরণবালা বলছে। সামনে কাগজ-কলম নিয়ে বসে ছিদাম। শ্রীদাম রায়। সে চিঠি লিখছে হিরণবালার হয়ে। দরখাস্ত। ইংরেজিতে একে বলে অ্যাপ্লিকেশন। হিরণবালা শুনেছে। বাবা বলত ছোটোবেলায়। ছিদাম ছেলেটি বড়ো ভালো। কলকাতার খবরকাগজে যে নার্সের চাকরির বিজ্ঞাপন বেরিয়েছে, সেই খবর ছিদামই তো হিরণবালাকে দিয়েছে। এই দরখাস্তও হিরণবালার হয়ে ছিদামই লিখে দিচ্ছে। ছিদাম ক্লাস টেন পর্যন্ত পড়েছে। তার হাতের লেখাটিও সুন্দর। ছিদাম বলল, বউমণি, তিনডা লিখি না চাইরডা?
হিরণবালা এক মুহূর্তের জন্য থমকে যায়। সত্যিই তো! তিনটি সন্তান লিখবে না চারটি? নির্মলার কথা কি লেখা ঠিক হবে এই চিঠিতে? প্রকাশ ইতিমধ্যেই হিরণবালাকে বলেছে যে, নির্মলাকে নিয়ে ওর না ভাবলেও চলবে৷ নির্মলার দায়িত্ব ওদের। হিরণবালা যেন নিজের আর তিনটি সন্তানের খাওয়া-পরার দায়িত্ব বুঝে নেয়। ছিদামকে হিরণবালা বলে, তিনডাই ল্যাখ।
হিরণ বুঝতে পারছে ওর স্বামী আর ফিরবে না । ওর দীর্ঘদিন ধরেই মনে হচ্ছিল এই সংসার, ব্যবসা এসব মানুষটার জন্য নয় । ও ভয় পেত যে, কোনোদিন মানুষটা নিরুদ্দেশ হয়ে যাবে । হলও তাই
উনি চলে গেছেন আজ ছ-মাস হল। ফিরবেন বলে আর মনে হয় না হিরণের। ছিদাম ওকে একবার বলেছিল, দিদি, খবরের কাগজে একখান বিজ্ঞাপন দেই। প্রভাতচন্দ্র কর নিরুদ্দেশ। বয়স চল্লিশ। গায়ের রং ধলো। উচ্চতা পাঁইচ ফুট চাইর। দেই বউমণি?
হিরণ বলেছিল, বিজ্ঞাপন দেওনের খরচ নাই? সে ট্যাহা দেবে কেডা ?
বিজ্ঞাপন দিলেও লাভ হত না। হিরণের সঙ্গে বিয়ের আগেও মানুষটা তিনবার এইরকমই কাউকে কিছু না বলে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু হিরণ শুনেছিল যে, সাতদিন যেতে না যেতেই ফিরেও এসেছিল। এবার আসেনি। হিরণ বুঝতে পারছে, প্রভাতচন্দ্র কর, ওর স্বামী, এবার আর ফিরে আসবে না। ওর দীর্ঘদিন ধরেই মনে হচ্ছিল এই সংসার, ব্যবসা এসব মানুষটার জন্য নয়। ও কোথাও একটা ভয় পেত যে, আবার কোনোদিন মানুষটা নিরুদ্দেশ হয়ে যাবে। হলও তাই। সেদিন তর্কাতর্কি হতে হতে ছোটো দেওর আকাশ উনুনে কয়লা খোঁচাবার জন্য যে-শিকটা ব্যবহার করা হত, সেটা বসিয়ে দিয়েছিল মানুষটার মাথায়। গলগল করে রক্ত পড়ছিল কপাল দিয়ে। সেই অবস্থাতেই হনহন করে হাঁটা দিয়েছিল মানুষটা। হিরণ বলছিল, করো কী, যাও কোথায় ?
কোনো কথা শোনেনি প্রভাতচন্দ্র কর। ছুটতে ছুটতে গলির মাথায় মিলিয়ে গিয়েছিল। আর দেখা পাওয়া যায়নি মানুষটার। কোনোদিন দেখা পাওয়া যাবে কি আর ? সূর্য আর চন্দ্র এই দু-টি নামের ছোঁয়া আছে মানুষটার নামে। সূর্য আর চন্দ্র তো প্রতিদিন উদয় হয় আর অস্ত যায়। কিন্তু ওর জীবনে কেন জানি না হিরণের মনে হচ্ছে মানুষটা চিরকালের মতো অস্ত গিয়েছে।
২
নইড়্যাতে হিরণ পদ্মা দেখতে পায় না। তবে ওর ঘরের জানলা দিয়ে আকাশ দেখা যায়। গোয়ালন্দে হিরণদের বাড়ি ছিল পদ্মার প্রায় গায়েই। জল, আকাশ, গাছপালা সব যেন ঘরের ভেতর একেবারে ঢুকে পড়ত। গোয়ালন্দের স্টিমার ঘাট পৃথিবী বিখ্যাত। সে এক ব্যস্ত জায়গা। স্টিমার, জিনিসপত্র, লোকজনে সারাদিন সেখানে হইহই রইরই ব্যাপার চলত। খুব ছোটোবেলায় হিরণ বাবার সঙ্গে গিয়েছে কয়েকবার গোয়ালন্দ স্টিমার ঘাটে। বছরে একবার কখনো-কখনো বাবা কলকাতা যেত গোয়ালন্দ ঘাট থেকে স্টিমারে করে পদ্মা পেরিয়ে। দাদা তখন পড়ত কলকাতায়। স্কটিশ চার্চ কলেজে। দাদা এখনও কলকাতায়। ঠিক কলকাতায় নয়, হাওড়ার সালকিয়ায়। রেলের গার্ডবাবু হয়েছে দাদা। তবে বাবা এখন আর কলকাতা যায় না। বয়স হয়েছে অনেক। হাঁটাচলাই করতে পারে না। টোলটাও বন্ধ করে দিয়েছে বহুদিন। উপার্জন প্রায় নেই বললেই চলে। দাদার পাঠানো টাকাতেই সংসার চলে এখন। হিরণের এই বিপর্যয়ের পরে মা এসেছিল হিরণের কাছে। বলেছিল, চল, আমাগো লগে থাকবি চল। হিরণ যায়নি। ও জানে বাবা-মায়ের চলে কীভাবে। তিনটি সন্তান নিয়ে ও বাবার ঘাড়ে আর বোঝা হয়ে চাপতে চায় না।

অলঙ্করণ : দেব সরকার
গোয়ালন্দে স্টিমার ঘাটের দিকটায় ওদের বাড়ি ছিল না। কিন্তু পদ্মার প্রায় তীরেই ছিল ওদের বাড়ি। সে বাড়ি এখন অবশ্য আর নেই। ওর বিয়ের পরে পরেই পদ্মা সেই বাড়ি গিলে নিয়েছে। এটাও একটা কারণ যে, নতুন বাড়িতে হিরণ আর যেতে চায় না। বাড়ি বলতে এখনও ওর সেই পদ্মা পাড়ের বাড়িটার কথাই মনে পড়ে। সে বাড়িতে জানলা দিয়েই দেখা যেত পদ্মা। বাড়িটাকে বেড়ার মতো ঘিরে ছিল অনেকগুলো নারকোলগাছ। উঠোনের ঠিক মাঝখানে ছিল একটা নিমগাছ। নিমফল পাকলে গাছের তলাটা হলুদ হয়ে থাকত। সারা বাড়ি নিম ফলের গন্ধে ভাসত। বাড়ি মানে তো আর কেবল মানুষজন নয়। বাড়ি মানে ওই পদ্মা নদী, ওই নারকোল আর নিম গাছ, ওই জানলা দিয়ে দেখা আকাশ। সেসব তো কিছুই আর আজ নেই। ওর এক দিদি আর এক বোনেরও বিয়ে হয়ে গেছে। দাদা কলকাতায়। বাড়িতে মানুষ বলতে এখন বাবা আর মা। দুই ছেলে আর এক মেয়ে নিয়ে কী হবে ওই বাড়িতে ফিরে গিয়ে?
গোয়ালন্দের বাড়ির জানলার মতো একটা জানলা অবশ্য এই নইড়্যার বাড়িতে আছে। সে জানলা দিয়ে চাঁদের আলো এসে পড়েছে বিছানায়। আগামীকাল পূর্ণিমা। চাঁদের আলোর জোর তাই খুব বেশি। তার তিন নাবালক সন্তান ঘুমিয়ে রয়েছে বিছানায়। গীতা অবশ্য আর বাচ্চা নেই। ওর বুক হয়েছে। টেপ জামার ওপর দিয়ে স্পষ্ট বোঝা যায়। তবে সত্য আর গোবিন্দ এখনও ছোটোই। গোবিন্দ তো খুবই ছোটো। দু-বছর মাত্র বয়স। ভালো করে কথা বলতেও পারে না। ছেলে দুটোকে নিয়ে যত না ভাবে ও, তার চেয়ে অনেক বেশি ভাবে গীতাকে নিয়ে। মাঝে মাঝে দুঃস্বপ্নও দেখে। খালি মনে হয় ওর জীবনটা যেন হিরণের মতো না হয়।
তন্দ্রার মধ্যেই মাঝে মাঝে হিরণ স্বপ্ন দেখে ওই লোকটার। দেখে যে, জানলার পাশে বসে খোলা গলায় লোকটা গান গাইছে, ‘যে রাতে মোর দুয়ারগুলি ভাঙল ঝড়ে’। এই গানটা খুব প্রিয় ছিল মানুষটার। রবীন্দ্রনাথের গান। প্রায়ই গাইত। গাইতে গাইতে চোখ দিয়ে দরদর করে জল পড়ত। ওই গানটায় একটা লাইন আছে, ‘সব যে হয়ে গেল কালো, নিভে গেল দীপের আলো ’
ছেলেমেয়েগুলোকে ঠিকঠাক মানুষ করতে হলে ওর একটা চাকরি চাই, এই কথাটা বুঝে গেছে হিরণবালা। আজকাল মেয়েমানুষেরা চাকরি করে। সে কথা ওই মানুষটাও বলত। ছিদামও বলে। ও খবর কাগজ পড়ে, রেডিও শোনে। দেশ-বিদেশের নানা খবর রাখে। খবরকাগজে নার্সের চাকরির বিজ্ঞাপনটা দেখে ওই হিরণকে বলেছে যে, যুদ্ধ চলতাসে। অহন হাসপাতালগুলার নার্স লাগবো৷ হিরণবালা অবশ্য এটা বোঝেনি যে, যুদ্ধ চলছে তো বিদেশে, তার সঙ্গে কলকাতার হাসপাতালে নার্স নেওয়ার কী সম্পর্ক আছে ! চাকরিটা হিরণ পাবে কি না জানে না। নার্সের চাকরি পাবার কোনো যোগ্যতাই তো ওর নেই। নিজে টোল চালালেও বাবা ওদের তিন বোনকে স্কুলে ভরতি করেননি। বাবা বলতেন, মাইয়া মানুষের আর স্কুলে যাওনের দরকার কী ? ঘরেই আমি তোদের পড়াইয়া দিমু। বাবা ওদের পড়িয়েছেন সত্যি। কিন্তু সেই পড়া দিয়ে তো আর চাকরি হয় না। দীর্ঘদিন লেখাপড়ার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই হিরণের। লিখতে মনে হয় ও ভুলেও গেছে। কলম হাতে ধরতে ভরসা হয় না। তাই তো দরখাস্তটা নিজে না লিখে ছিদামকে দিয়ে লিখিয়েছে। অবশ্য এটাকে ঠিক দরখাস্ত বলা যায় না। ওর প্রায় জীবনবৃত্তান্তই লিখে দিয়েছে হিরণবালা। বুদ্ধিটা ছিদামের। ছিদামই বলেছে, যোগ্যতা দেখাইয়া চাকরি হইবো না। তোমার কিসুই যোগ্যতা নাই। তোমার জীবনের দুঃখের কথা ল্যাখলে যদি ওগো মন গলে, তো হইব।
জ্যোৎস্নার আলোয় শুয়ে থাকা তিনটি নাবালক সন্তানের দিকে তাকিয়ে হঠাৎ হিরণের ভীষণ রাগ হয় মানুষটার ওপর। ঘর-সংসার যদি ত্যাগই করবে লোকটা, তাহলে প্রথম বউ মারা যাওয়ার পর ওকে বিয়ে করল কেন, কেনই বা তিন তিনটে সন্তানের জন্ম দিল ? দাদা টাকা পাঠাচ্ছে বাবাকে। বাবা সেই টাকা থেকে কিছু টাকা দিচ্ছে ওকে। এভাবে আর কতদিন টানবে হিরণ? এ বাড়ি বড়োলোকদের বাড়ি। এদের পুকুর আছে। জমি আছে। তিনখানা দোকান। এসবের কোনো ভাগ হিরণ যে পাবে না, তা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে ওর দুই দেওর প্রকাশ আর আকাশ। সব দেখেও হিরণের শাশুড়ি মা মুখে কুলুপ হেঁটে বসে আছেন। শ্বশুরমশাই থাকলে হয়তো হিরণের একটা সুরাহা হত। উনিই তো এ বাড়িতে নিয়ে এসেছিলেন হিরণকে। কিন্তু তিনি গত হয়েছেন পাঁচ বছর আগে। পরিস্থিতি যেদিকে গড়াচ্ছে তাতে যে কোনো দিন ওকে এই ঘর থেকে বের করে দিতেও পারে ওর দেওররা। তিনটি নাবালক সন্তান নিয়ে তখন ও যাবে কোথায় এই ভেবে প্রায় প্রতি রাত্রেই ঘুম আসতে চায় না হিরণের। ভোরের দিকে একটু তন্দ্রা মতো লাগে। সেই তন্দ্রার মধ্যেই মাঝে মাঝে হিরণ স্বপ্ন দেখে ওই লোকটার। দেখে যে, জানলার পাশে বসে খোলা গলায় লোকটা গান গাইছে, ‘যে রাতে মোর দুয়ারগুলি ভাঙল ঝড়ে’। এই গানটা খুব প্রিয় ছিল মানুষটার। রবীন্দ্রনাথের গান। প্রায়ই গাইত। গাইতে গাইতে চোখ দিয়ে দরদর করে জল পড়ত। ওই গানটায় একটা লাইন আছে, ‘সব যে হয়ে গেল কালো, নিভে গেল দীপের আলো’। এই লাইনটা ওর নিজের জীবনে যে এতখানি সত্যি হয়ে উঠবে তা হিরণ কখনও ভাবেনি। বিছানায় এসে পড়েছে চাঁদের আলো। ফুটফুটে জ্যোৎস্নার ভেতর বসে হিরণের মনে হয় আকাশে যতই চাঁদ থাকুক যে-মেয়েমানুষের বর তাকে ছেড়ে চলে গেছে, তার জীবনের দীপ চিরকালের জন্যই নিভে গেছে। আর জ্বলবে না। চাকরি যদি ও পায় তাহলে ওর জীবনে কলকাতার ইলেকট্রিকের আলোর ছটা এসে পড়তে পারে, কিন্তু দীপ আর কোনোদিন জ্বলবে না।
♦·♦–♦·♦♦·♦–♦·♦
ক্রমশ..
❤ Support Us








