Advertisement
  • পা | র্স | পে | ক্টি | ভ
  • নভেম্বর ৩০, ২০২৫

কাঠের ডোঙায় চিন সাগর

কানাইলাল জানা
কাঠের ডোঙায় চিন সাগর

 
বিশ্বে যত সাগর আছে, তারমধ্যে দক্ষিণ চিন সাগর বৃহত্তম । তার ডাঙা ঘেঁষেই নীল জল । সে-টা স্বীকার করবেন কিনা জানি না সদ্য সে দেশ ঘুরে আসা অত্যন্ত প্রিয়জন সিধু, ‘ক্যাকটাস ব্যান্ডে’র বিখ্যাত গায়ক, মানসিকতায় অনন্য, আর এক জায়গায়ও অনন্য: যতবার সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের দাদাগিরিতে গেছেন ততবারই সেরার ট্রফি জিতেছেন । আর কারুর সৌভাগ্য হয়নি এই শিরোপা পাওয়ার । আমার সাহিত্য সভায় শুনিয়ে যান তাঁর নতুন নতুন সৃষ্টি । যাইহোক এই চিন সাগরের পূর্বে আছে ফিলিপিন্স দ্বীপপুঞ্জ । সেখানকার ডাঙা ঘেঁষা জল কিন্তু ঘোলাটে । হয়তো ‘ওয়ালেস লাইনে’র ( Wallace line) কাছে বলে ।
 

জলে থাকতে ডোঙায় মায়ের গর্ভ থেকে বের করা হল যে শিশুকে জলে জলেই তার বেড়ে ওঠা এবং জীবন যাপন চারকোণা কাঠের ডোঙায় করেই । আমার অভিজ্ঞতা আছে চার রকম আঞ্চলিক জলযান চড়ার: কলার মান্দাস, তালগাছের ডোঙা, এ্যালুমিনিয়ামের সালতি এবং চারকোণা কাঠের ডোঙায় । না, ১৯৭৮ সালের ভয়ংকর বন্যায় নয়, কলেজে পড়ছি

 
ওয়ালেস লাইন  সেই কল্পিত রেখা যে লাইন পৃথক করেছে এশিয়া মহাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়াকে । জল যে ঘোলাটে জেনেছি কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সে দেশের পরিচালক ব্রিলিয়ান্ট মেনডোজা-র সিনেমা ‘দাই উম্ব’ ( Thy Womb) দেখে । জলে থাকতে ডোঙায় মায়ের গর্ভ থেকে বের করা হল যে শিশুকে জলে জলেই তার বেড়ে ওঠা এবং জীবন যাপন চারকোণা কাঠের ডোঙায় করেই । আমার অভিজ্ঞতা আছে চার রকম আঞ্চলিক জলযান চড়ার: কলার মান্দাস, তালগাছের ডোঙা, এ্যালুমিনিয়ামের সালতি এবং চারকোণা কাঠের ডোঙায় । না, ১৯৭৮ সালের ভয়ংকর বন্যায় নয়, কলেজে পড়ছি, আমাকে ঠেলা দিচ্ছে অনেকে গ্রামে যেতে । কিন্তু যাইনি কারণ আমাদের এলাকায় সেবছর বন্যা-ই হয়নি । হয়েছে তার আগে পরপর দুবছর ১৯৬৬ এবং ১৯৬৭ সালে । একেবারে ধসে গেছে গ্রামীণ অর্থনীতি । কারণ বিকল্প ধান চাষ আসেনি । তখন পরিস্থিতি সামলাতে বাল্যে এই চার রকম জলযান ব্যবহার করে দেখেছি সবথেকে সোজা কলার মান্দাসে চড়া, বাঁশের লগি ঠেলে ঠেলে যে কেউ চলে যেতে পারে অনেক দূর । এবং সবথেকে কঠিন এই চারকোনা কাঠের ডোঙা । সামান্য হেলে পড়লে উল্টে দেবে অথচ ফিলিপিন্সের চিন সাগরে দিব্যি চলতে থাকে এই বিপদজনক ডোঙা ।
 

পরিচালক ব্রিলিয়ান্ট মেনডোজা-র সিনেমা ‘দাই উম্ব’

ভিয়েতনামের সমগ্র তটরেখা ঘিরেই বড়লোকি ব্যাপার স্যাপার । হবে না-ই বা কেন ? উপচে পড়া বিদেশিদের ভিড় যে । অথচ সেই দৃশ্যটি যদি মনে করি: প্রথম স্বাধীনতা ঘোষণার সময় হো-চি-মিন যখন জঙ্গল থেকে বেরিয়ে হ্যানয়ে এলেন, দেখা গেল ঘোষণাপত্র পড়বার মতো উপযুক্ত পোশাক নেই তাঁর । হাফ প্যান্ট, হাফ সার্ট পরা, মোটরের টায়ারের চটি পায়ে এই সহজ সরল মানুষটিকে নিয়ে কত সমস্যা ! সেবা ও ত্যাগের মূর্ত প্রতীক ঋষিতুল্য এই মহান নেতা জনগণের চোখে ছিলেন অলৌকিক পুরুষ । নিষ্ঠার সঙ্গে তিনটি কাজ করেছেন: কৃষকদের সাথে একসঙ্গে খাওয়া দাওয়া, বসবাস এবং কাজকর্ম । তিনি যখন চিনে ছিলেন আন্তরিকভাবে শিখেছেন মান্দারিন ভাষা, শিখেছেন রাশিয়ায় থাকতে রাশিয়ান ভাষা, ফ্রান্সে থাকতে ফরাসি ভাষা । কবিতা রচনায় স্পষ্ট নিজের জীবন তবু প্রথম দিন আমাদের লেডি গাইড চুপিচুপি স্বীকার করলেন, তাঁকে নিয়ে সমালোচনা হয় কখনো সখনো কিন্তু আমার মতে বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর যে দশা হয়েছে তার তুলনায় কিছুই নয় । কোনও দেশ-ই এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকে না কিন্তু ভিয়েতনামের উন্নতি হয়েছে বিশাল । এই মূহুর্তে সে দেশের স্বাক্ষরতার হার সামান্য কম একশ ( ৯৬.১ %), ভারতে ( ৭৬.৩ %), আভ্যন্তরীন উৎপাদন ক্ষমতাও ( GDP ) ভারতের থেকে অনেকটাই বেশি । ভিয়েতনামের জিডিপি ১৫১৮৪ ডলার, ভারতের জিডিপি ১০১৭৬ ডলার ।
 

ট্রেন স্ট্রিট

সারাদিনে এই লাইনে আসে দুটি মাত্র ট্রেন । একটি সকাল সাড়ে সাতটায় । দ্বিতীয়টি রাত সাড়ে আটটায় । এখানে না এলে ভ্রমণ হয় অসম্পূর্ণ । লাইনের ওপরই নানাধরণের আসন পাতা এবং বিচিত্র ধরনের খাদ্য সামগ্রী সাজানো । এতো রঙিন এলাকা নেই আর কোথাও

 
এই অঞ্চলের শৈল শহরের নাম ‘সাপা’ । চিন সীমান্তে । শহর থেকে পাঁচ ঘন্টার সড়ক পথ, ট্রেনও আছে । ঘুরে ঘুরে অপূর্ব পাহাড়ি রাস্তা । সেদিকে না গিয়ে হালং থেকে সোজা ফিরি শহরে । এবারে হোটেল ‘মুনভিউ’-র ন’ তলায় । ব্যাগপত্র রেখে নিচে নামি । উবেরের মতো এখানে আছে ‘গ্র্যাব’ (Grab), তাই ভাড়া করে যাই ‘হোয়ান কিয়েন লেক’ । এক সময় এখানে ছিল ‘লে’ রাজবংশ । তখন এটি ছিল চিনের অংশ । এখানে আছে ‘ট্রানকোয়াক প্যাগোডা’ । লেকের ওপর কাঠের পুল । ফটো তোলা হয়। বাজার এলাকায় বড় লাইন পুতুল নাচ দেখতে । সিনেমার থেকে এখানে পুতুল নাচ দেখতে বেশি আগ্রহী সাধারণ মানুষ । কিছু কেনাকাটা সেরে রওনা দিই ‘ট্রেন স্ট্রিটে’। ঐতিহ্যপূর্ণ এলাকা । অতি অবশ্যই দ্রষ্টব্য বিষয় । নানা পসরা দিয়ে সাজানো ‘ট্রেন স্ট্রিট’ । সারাদিনে এই লাইনে আসে দুটি মাত্র ট্রেন । একটি সকাল সাড়ে সাতটায় । দ্বিতীয়টি রাত সাড়ে আটটায় । এখানে না এলে ভ্রমণ হয় অসম্পূর্ণ । লাইনের ওপরই নানাধরণের আসন পাতা এবং বিচিত্র ধরনের খাদ্য সামগ্রী সাজানো । এতো রঙিন এলাকা নেই আর কোথাও । সন্ধ্যা নামার আগে থেকেই ভিড় বাড়তে থাকে বিদেশি ভ্রামণিকদের । দীর্ঘসময় কাটাই, ব্ল্যাক কফি খেয়ে কিছু আঞ্চলিক শিল্পদ্রব্য নিয়ে এবার আর কোনও যানে না চড়ে হেঁটে হেঁটেই বিভিন্ন রাস্তা চিনতে চিনতে ফিরে আসি হোটেলে …
 

♦–♦•♦–♦♦–♦•♦–♦

নগুয়েনের দেশের ডুবন্ত কালো পাহাড়


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!