Advertisement
  • প্রচ্ছদ রচনা
  • মে ২১, ২০২২

রাশিয়ার ঘোষণা, মরিউপোলে ইউক্রেনের পতন । মস্কোর নিয়ন্ত্রণে বন্দর শহরের ইস্পাত কারখানা ।

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
রাশিয়ার ঘোষণা, মরিউপোলে ইউক্রেনের পতন । মস্কোর নিয়ন্ত্রণে বন্দর শহরের ইস্পাত কারখানা ।

মারিউপোল শহর এবং শহরের বৃহত্তম ইস্পাত কারখানা রুশ নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে— এরকম দাবি করেছে রাশিয়া। ইউক্রেনও প্রকারন্তরে দাবিটি মেনে নিয়েছে।
মারিউপোল সমুদ্র ঘেরা বন্দর নগরী। সীমান্তে স্থলসীমা চাইতে জলসীমার আয়তন বেশি। রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রায় শুরুতেই রুশ সেনারা বন্দর শহরে ঢুকে পড়ে তছনছ করে দেয় বিস্তীর্ণ এলাকা। দেশের বৃহত্তম আজভস্টাল ইস্পাত কারখানা মস্কো তার আয়ত্তে নিয়ে আসার চেষ্টা করে। দু’পক্ষ প্রবল লড়াই চালিয়ে যায়। যথা সম্ভব দুর্ভেদ্য প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরি করে ইউক্রেন। শেষ পর্যন্ত তা ভেস্তে গেল । রুশ বাহিনী শুধু শহরটি নয়, দখল করে নিয়েছে ইউক্রেনের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি ইস্পাত কারখানাটি । মস্কো সরাসরি জানিয়েছে, ইউক্রেন বাহিনী আত্মসমর্পন করেছে। শুক্রবার তাঁদের বড়ো অংশ কারখানা ছেড়ে বেরিয়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে রুশ সেনারা ঢুকে পড়ে। এইরকম পরিস্থিতিতে মস্কোর ঘোষণা —মারিউপোলে রক্তক্ষয়ী অবরোধের সমাপ্তি ঘটল। বলাবাহুল্য শহরটি ধ্বংসস্তূপ হয়ে উঠেছে । সামরিক ও বেসামরিক বাসিন্দারা নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে ছুটছে।

রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বিবৃতিতে বলেছে, কারখানায় যুদ্ধরত ইউক্রেন সেনারা পরাভূত । ভেতরের প্রতিরোধ প্রত্যাহার করে শিল্প শহর ছেড়েছে । কারখানাটি এখন ‘পুরোপুরি মুক্ত’।
ইউক্রেন সেনারা যেসব ভূগর্ভস্থ এলাকায় লুকিয়ে ছিল, তাঁরা প্রতিরোধ প্রত্যাহার করে আত্মসমর্পন করেছে । প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, যাঁরা কারখানায় এতদিন ধরে লড়াই করে যাচ্ছিলেন তাঁদের শহর ছাড়ার অনুমতি দেয়া হয়েছে। ‘সেখান থেকে আমাদের ছেলেরা বেরিয়ে এসেছে । সামরিক কমান্ড একথা স্বীকার করেছে। আত্মসমর্পণকারী ইউক্রেন সেনাদের পরিবহন যান রুশ নিয়ন্ত্রিত এলাকার দিকে ছুটছে। এঁদের শেষ নিয়তি কী দাঁড়াবে, তা অজ্ঞাত ।

জাতিসংঘ ও রেডক্রসের মধ্যস্থতায় এই মাসের শুরুর দিকেই অসামরিক বাসিন্দাদের সরিয়ে আনা হয়। এঁদের অধিকাংশই বয়স্ক নাগরিক কিংবা মহিলা ও শিশু । রাশিয়া তাঁদের যুদ্ধবন্দী বলে বিচার করবে, না অবাধে ইউক্রেন ছাড়ার অনুমতি দেবে? যুদ্ধে এ পর্যন্ত দুই দেশের ক্ষতির পরিমাণ ব্যাপক ।ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ সহ প্রধান শহরগুলি বিধ্বস্ত । রাস্তা ও কর্মস্থল জনশূন্য। বাজার হাটে কেনাবেচা নেই। ইউক্রেনের রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ। রাশিয়া প্রতিবেশি দেশটির অর্থনীতির ভীতে আঘাত করতে চেয়েছে। পুরোপুরি দখলে ব্যর্থ হলেও তার উদ্দেশ্য অনেকাংশে সফল ।

আমেরিকা ও ইউরোপের অর্থনৈতিক বিধি-নিষেধ সত্ত্বেও মস্কোর অর্থনীতি সেভাবে সঙ্কটের মুখোমুখি হয়নি। পুরনো বন্ধু দেশগুলি পণ্য ও যন্ত্র আমদানি টিকিয়ে রেখেছে। চিন দূরে সরে যায়নি। পশ্চিম এশিয়া ও উপসাগরীয় অঞ্চলের ইরান, সিরিয়াসহ বিভিন্ন দেশ নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়েছে । আমেরিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইউক্রেনের পাশে শুধু গর্জনেই আছে । কার্যত আর্থিক ও সামরিক সাহায্য পর্যাপ্ত নয়। ন্যাটো আক্ষরিক অর্থে ঠুটো জগন্নাথ। তার হম্বিতম্বি কেবল তর্জনেই সমাপ্ত। এভাবেই ইউক্রেন একা লড়তে হবে—জেলেনস্কি ভাবেন নি । ইউক্রেনের মিত্র শক্তিও এইরকম ভাববার অবকাশ পায় নি। ইউরোপে ন্যাটোর অগ্রগতি রুখতে রাশিয়া এতটা আগ্রাসী হয়ে উঠবে—জলে, স্থলে, আকাশপথে হামলা চালাবে, তা ছিল চিন্তার বাইরে।

দ্বিতীয় মহাসমরের পর এই প্রথম ইউরোপ এরকম ভয়াবহ যুদ্ধের সম্মুখীন হয়। রুশ শক্তিকে অবজ্ঞা করেছে। ভেবেছে বৃহত্তর ও পূর্বতন রাশিয়ার সামরিক শক্তিতে ক্ষয় ধরেছে, ক্ষয়কে কেন্দ্র করে অর্থনৈতিক অবক্ষয়ও তার সঙ্গী । কিন্তু সোভিয়েত রাশিয়ার ভাঙনের শিক্ষা নিয়ে মস্কো তার অর্থনৈতিক শক্তির ক্ষমতা বাড়িয়েছে। সামরিক শক্তিকেও আবার সংগঠিত করেছে। ক্ষমতার এসব জোর নিয়েই সুপরিকল্পিত ভাবে ইউক্রেনে হামলা চালানোর নির্দেশ দেন প্রেসিডেন্ট পুতিন । নির্বিচারে শিশু হত্যা, নারীএবং ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েও ইউরোপীয় শক্তি জোটের অনৈক্যের কারণে পার পেয়ে গেলেন। ভবিষ্যতে রাশিয়ার চেহারা আরও মারাত্মক আর আগ্রাসী হয়ে উঠলে বিস্ময়ের কারণ নেই। রাশিয়া অবিভক্ত সোভিয়েত ইউনিয়নের কাঠামোর দিকে ধীরে ধীরে এগোচ্ছে। আগের অবিচ্ছেদ্য অংশের স্বাতন্ত্র্য ও স্বাধীনতা স্বীকার করেই ভৌগলিক আধিপত্য ফিরিয়ে আনার প্রয়াস চালাচ্ছে।


❤ Support Us
error: Content is protected !!