Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • নভেম্বর ২১, ২০২৫

জম্মু-কাশ্মীরের মেডিক্যাল কলেজে শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় পরিচয় ঘিরে বিতর্ক ! বিক্ষোভ বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, বজরং-এর

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
জম্মু-কাশ্মীরের মেডিক্যাল কলেজে শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় পরিচয় ঘিরে বিতর্ক ! বিক্ষোভ বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, বজরং-এর

জম্মু-কাশ্মীরের মেডিক্যাল কলেজে মুসলিম শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি কেন ? এই প্রশ্ন ঘিরে উত্তাপ ছড়িয়েছে ভূস্বর্গে। কাটরা-ভিত্তিক শ্রী মাতা বৈষ্ণোদেবী ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল এক্সিলেন্সের প্রথম ব্যাচের ভর্তি তালিকা প্রকাশ হতেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, বজরং দল-সহ সংঘ পরিবার-সংযুক্ত সংগঠনগুলোর দাবি, বৈষ্ণোদেবী মন্দিরের দানে চলা কলেজে ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী মুসলিম হওয়ায় অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য আসন সংরক্ষণ না থাকায় ধর্মীয় বৈষম্য সৃষ্টি হচ্ছে।

এদিন কাটরা ইনস্টিটিউটের বাইরে বিক্ষোভে নামে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এবং বজরং দল । শিক্ষার্থীদের ভর্তি তালিকায় ধর্মভিত্তিক বৈষম্যের অভিযোগ তুলে তারা মানববন্ধন, মিছিল এবং বৈষ্ণোদেবী শ্রাইন বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কুশপুতুল দাহ করেছে। জম্মু-কাশ্মীরের ভিএইচপি শাখার সভাপতি রাজেশ গুপ্ত দাবি করেছেন যে, চলতি শিক্ষাবর্ষের ভর্তি প্রক্রিয়া স্থগিত করা উচিত এবং আগামী ব্যাচে সংখ্যাগরিষ্ঠ শিক্ষার্থী হিন্দু সম্প্রদায়ের হতে হবে। তিনি বর্তমান এই তালিকাটিকে ‘মেডিক্যাল কলেজকে বিশেষ ধর্মের আখড়া করে তোলার ষড়যন্ত্র’ বলে অভিহিত করেছেন। বজরং দলের সভাপতি রাকেশ বজরঙ্গী জানিয়েছেন, কাশ্মীরি প্রার্থীরা অন্য মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হতে পারে, কিন্তু বৈষ্ণোদেবী মন্দিরের দানে গড়ে ওঠা কলেজে হিন্দু শিক্ষার্থীদের জন্য আসন সংরক্ষণ থাকা উচিত। বিজেপি উধমপুরের বিধায়ক আর এস পাঠানিয়াও এই দাবিকে সমর্থন করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ‘সরকার থেকে এই কলেজকে এক পয়সাও খরচ দেওয়া হয় না। তীর্থযাত্রীদের অনুদানে এটি চলে। তাই তাঁদের বিশ্বাসকে রক্ষা করার দিক বিবেচনা করতে হবে।’

তবে যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করে মেডিক্যাল কলেজের কর্মকর্তারা বলেছেন, নিয়ম অনুসারে বৈষ্ণোদেবী মেডিক্যাল কলেজ সংখ্যালঘু প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃত নয়। ভর্তি প্রক্রিয়ায় কোনো ধর্মভিত্তিক সংরক্ষণ নেই। ভর্তি সম্পূর্ণভাবে ন্যাশনাল মেডিক্যাল কাউন্সিলের নির্দেশিকা অনুযায়ী হয়েছে। জম্মু-কাশ্মীরের ১৩টি মেডিক্যাল কলেজের ১,৬৮৫টি আসনে ভর্তি হয় শুধুমাত্র ‘নিট’ পরীক্ষার উত্তীর্ণ হবার মেধা অনুযায়ী। এর মধ্যে ৮৫ শতাংশ আসন রাজ্যের অধিবাসীদের জন্য সংরক্ষিত থাকে, এবং বাকি ১৫ শতাংশ দেশের অন্যান্য প্রার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকে। জেকেবোপি-র কাজ হলো সরকারি কলেজগুলোর ‘ইউটি ডোমিসাইল’ আসনের জন্য এবং বেসরকারি কলেজগুলোর সব আসনের জন্য ‘নিট’ অনুযায়ী তালিকা প্রস্তুত করা এবং কাউন্সেলিং শেষে কলেজে পাঠানো।

কলেজ কর্তৃপক্ষের আরো দাবি, এ বছর বৈষ্ণোদেবী কলেজের অনুমোদন অনেক দেরিতে এসেছে, সেপ্টেম্বরের ৮ তারিখে। তখন কলেজের প্রথম দফার কাউন্সেলিং শেষ হয়ে গেছে, দ্বিতীয় দফাও প্রায় শেষ পর্যায়ে। ফলে তৃতীয় দফার কাউন্সেলিংয়ের পরে কলেজের ভর্তি তালিকা তৈরি হয়। এই প্রক্রিয়ায় মোট ৫,৮৬৫ জন ইউটি ডোমিসাইল প্রার্থীর মধ্যে থেকে ২,০০০ জনকে কাউন্সেলিংয়ের জন্য ডাকা হয়। এদের মধ্যে ৭০ শতাংশেরও বেশি প্রার্থী মুসলিম সম্প্রদায়ের। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জম্মু অঞ্চলের তুলনায় কাশ্মীরের শিক্ষার্থীরাই গত কয়েক বছর ধরে মেডিক্যাল কলেজের আসন দখল করছে। যদিও জম্মুতে আসন সংখ্যা ৯০০ এবং কাশ্মীরে ৬৭৫, তবুও অধিকাংশ আসন কাশ্মীরি শিক্ষার্থীদের দখলে গেছে। তবে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি উল্টো, যেখানে জম্মুর শিক্ষার্থীরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ।

কলেজ কর্তৃপক্ষ আগে কেন্দ্র ও এনএমসিকে অনুরোধ করেছিল যাতে কেন্দ্রীয় ‘নিট’ থেকে ভর্তি নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু এনএমসি জানায়, এমন অনুমতি কেবল সরকারি কলেজ, আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত এআইআইএমএস ও পিজিআই অথবা ডিমড বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। বৈষ্ণোদেবী কলেজের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য নয়। ন্যাশনাল কনফারেন্সের জম্মু প্রদেশ সভাপতি রতন লাল গুপ্ত অভিযোগ করেছেন, ‘দোষ কলেজ চালানো শ্রী মাতা বৈষ্ণোদেবী শ্রাইন বোর্ডেরও আছে।’ তাঁর মতে, ‘কলেজ গড়ার আবেদন করার সময় সংখ্যালঘু মর্যাদা চাইলে বিতর্ক এড়ানো যেত। যেহেতু বোর্ড সংখ্যালঘু মর্যাদা চায়নি, তাই জেকেবোপির কাছে কোনো বিকল্প ছিল না— শুধুমাত্র ‘নিট’ মেধা অনুযায়ী ভর্তি করা সম্ভব। উচ্চ মেধার অধিকাংশ প্রার্থী কাশ্মীরের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম সম্প্রদায়ের হওয়ায় এমন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।’


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!