- এই মুহূর্তে দে । শ
- মে ১০, ২০২৫
ওবিসি শংসাপত্র মামলার আইনি টানাপোড়েনে জেরবার রাজ্য। স্কুল-কলেজের ভর্তি প্রক্রিয়ায় জটিলতা, অনিশ্চয়তায় সরকারি নিয়োগ
ওবিসি সংরক্ষণ সংক্রান্ত আইনি জটিলতায় স্তব্ধ স্কুল-কলেজে ভর্তি ও সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়া। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা চললেও অনিশ্চয়তা কাটেনি, চরম দোলাচলে রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্র ও কর্মসংস্থান। আগামী ১০ জুন সুপ্রিম আদালতে ওবিসি মামলার পরবর্তী শুনানি।
রাজ্যে ওবিসি বা অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি সংরক্ষণ নিয়ে চলতে থাকা আইনি জটিলতার কবলে এবার স্কুল-কলেজের ভর্তি প্রক্রিয়া। এমনকি সরকারি চাকরির নিয়োগের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা, তবু জট কাটছে না কিছুতেই। ২ মে মাধ্যমিকের ফলপ্রকাশের পরপরই কলকাতার হিন্দু, হেয়ার, বেথুন কলেজিয়েট সহ রাজ্যের ৬২টি সরকারি স্কুলে একাদশ শ্রেণির ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হয়। ৩ থেকে ১০ মে পর্যন্ত আবেদন নেওয়া হলেও, ১৩ মে নির্ধারিত মেধাতালিকা প্রকাশ আপাতত স্থগিত করেছে বিকাশ ভবন। স্কুলশিক্ষা অধিকরণ বিভাগ এক নির্দেশিকায় জানায়, সরকারি সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত মেধাতালিকা প্রকাশ করা যাবে না। সল্টলেকের বেগম রোকেয়া স্মৃতি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শুভলক্ষ্মী ভকতের মতে, ওবিসি সংরক্ষণ নিয়ে হাইকোর্টের নির্দেশ ও পরবর্তীকালে সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন মামলা থাকায় অনেক শিক্ষকই বিভ্রান্ত। বেথুন কলেজিয়েটের শিক্ষিকা শবরী ভট্টাচার্য বলেন, ‘আমরা ভর্তিপ্রক্রিয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলাম, কিন্তু তা থামানোর নির্দেশ এসেছে।
মাধ্যমিকের পাশাপাশি, উচ্চ মাধ্যমিক ও আইএসসির ফল প্রকাশের পর এখন সব আলো বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ভর্তি ঘিরে। কিন্তু সেখানেও ওবিসি সংরক্ষণ ঘিরে উঠেছে নতুন প্রশ্ন। উচ্চশিক্ষা দফতরের এক আধিকারিক জানান, রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে অভিন্ন পোর্টালের মাধ্যমে ভর্তি হলেও, ওবিসি সংরক্ষণ কীভাবে হবে, তা নিয়ে অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণ দফতরের কাছে মতামত চাওয়া হয়েছে। এখনও সেখান থেকে উত্তর আসেনি। অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণ মন্ত্রী বুলুচিত বরাইক জানান, রাজ্য নতুন করে সমীক্ষা চালাচ্ছে, সুপ্রিম কোর্টে বিষয়টি বিচারাধীন। জুলাইয়ে চূড়ান্ত শুনানি হওয়ার আগে কোনও স্থায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।
২২ মে কলকাতা হাইকোর্টের রায়ে ২০১০ সালের পর দেওয়া সব ওবিসি শংসাপত্র বাতিল ঘোষণা হওয়ায় সরকারি চাকরির নিয়োগও পড়েছে প্রশ্নচিহ্নের মুখে। পিএসসি-র জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি এখনও জারি হয়নি, ডব্লিউবিসিএস পরীক্ষাও থমকে। শিক্ষক নিয়োগ সহ অন্যান্য সরকারি পদে বিজ্ঞপ্তি জারি করা সম্ভব হয়নি। রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছে। কিন্তু একাধিক শুনানি হলেও, মামলার সে অগ্রগতি হয়নি। রাজ্য সরকার ‘সঠিক ও বেঠিক’ ওবিসি চিহ্নিত করবার জন্য সময় চেয়েছে। হাইকোর্টের রায়ের কিন্তু আদালতের স্থগিতাদেশ না পাওয়া পর্যন্ত, ভর্তিপ্রক্রিয়া কিংবা চাকরির নিয়োগ পরীক্ষা কিছুই করা যাচ্ছে না। সমাজকল্যাণ দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, ‘ওবিসি তালিকা নির্ধারণে নতুন সমীক্ষা চলছে। আদালতের নির্দেশ ছাড়া স্থায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া যাচ্ছে না।’
একদিকে স্কুল ও কলেজে ভর্তি নিয়ে অভিভাবক-ছাত্রছাত্রীদের দুশ্চিন্তা, অন্যদিকে চাকরি প্রার্থীদের মধ্যে বাড়ছে ক্ষোভ। শিক্ষক সংগঠনগুলিও জানাচ্ছে, এমন দোলাচলে শিক্ষার ভবিষ্যৎ প্রশ্নের মুখে। সরকারি স্কুলে পড়ুয়াদের সংখ্যা কমছে। ২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীর চাকরি গেছে, নতুন স্তাহ্যী নিয়োগ কবে হবে কেউ জানেনা। এই অবস্থায় ভর্তির দোলাচল পরিস্থিতি আরো সংকটজনক করে তুলছে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ও কলা বিভাগ ইতিমধ্যে বৈঠকে বসেছে, কী ভাবে ভর্তি হবে, তা নিয়ে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ও অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণ দফতরের কাছে চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে আগামী ১০ জুন মামলার পরবর্তী শুনানি হওয়ার আগে পর্যন্ত রাজ্যে সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষার সম্ভাবনা নেই বলেই প্রশাসনিক মহলের ইঙ্গিত।
❤ Support Us







