- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- জানুয়ারি ৯, ২০২৫
আর জি কর মামলার রায় ঘোষণা, তারিখ জানালো আদালত
আরজি কর কাণ্ডের সওয়াল জবাব শেষ হয়েছিল আগেই। এবার চূড়ান্ত রায়দানের দিনও জানিয়ে দিল আদালত।
আরজি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসকের ওপর যৌন অত্যাচার ও খুনের ঘটনায় শিয়ালদহ আদালত চুড়ান্ত রায় ঘোষণা করতে চলেছে ১৮ জানুয়ারি দুপুর ২ টোয়। বৃহস্পতিবার শিয়ালদহ আদালতে এই মামলার শুনানি ছিল। সওয়াল জবাবের পরে চুড়ান্ত রায়দানের দিন নির্ধারণ করেছেন বিচারপতি। মঙ্গল ও বুধবার ২ দিন ধরেই এই ঘটনায় অভিযুক্ত সঞ্জয়ের পক্ষে আদালতে সওয়াল করেছেন তাঁর আইনজীবী সৌরভ বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ নির্যাতিতার মা-বাবার তরফের আইনজীবীও তাঁর বক্তব্য পেশ করেছেন। সিবিআই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সাজার দাবি জানিয়েছে।
গত বছরে ৮ আগষ্ট কলকাতার বুকে আর কি কর হাসাপাতালের বীভৎস ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছিল আপামর জনসাধারণকে। বিচারের দাবিতে উত্তা হয়ে উঠেছিল কল্লোলিনী কলকাতা। জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলনের সমর্থনে রাস্তায় নেমেছিলেন কাতারে কাতারে মানুষ। নারী নিরাপত্তার প্রশ্ন নতুন করে ভেবেছিল সমাজ। তারপর সময়ের প্রকোপে স্তিমিত হয় আন্দোলন, শীর্ষ আদালতের আদেশে কর্মবিরতি প্রতাহ্যার করে হাসপাতালে ফিরে যান ডাক্তারেরা। নৃশংস এই ঘটনার তদন্তে নেমে সিভিক ভলেন্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর আদালতের নির্দেশে তদন্তের দায়ভার গ্রহণ করে সিবিআই। চার্জশিট পেশ করে সিবিআই। সেখানে এই ঘটনায় ধৃত সঞ্জয়কে অন্যতম অভিযুক্ত বলে জানানো হয়েছিল। আর্থিক দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হইয়েছিলেন আরজি করের অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ এবং তাঁর ‘ঘনিষ্ঠ’ বলে পরিচিত চিকিৎসক আশিস পাণ্ডে। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা চার্জশিট দাখিল না করতে পারায় ইতিমধ্যে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন সন্দীপ।
প্রাথমিক তদন্তে হাসপাতালে পাওয়া সিসিটিভি ফুটেজে সঞ্জয় রায়কে সেমিনার হলের বাইরে দেখা গেছিল। তাঁর হেডফোনও পাওয়া গিয়েছিল ঘটনাস্থল থেকে। সেই সূত্র ধরেই তাঁকে মুল দোষী বলে আদালতকে জানিয়েছিল সিবিআই। যদিও গত দুদিন সঞ্জয়ের আইনজীবী আদালতে জানায় ঘটনাস্থলে পুলিশ ‘এভিডেন্স প্ল্যানটেড’ করেছে। এই ঘটনায় সঞ্জয়কে ‘ফাঁসানো’ হয়েছে বলেই দাবি করেন সঞ্জয়ের আইনজীবী। এর আগে অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়ও পুলিশকে নিশানা করে একই কথা বলেছিল।
অন্যদিকে সিবিআইয়ের তদন্তে একেবারেই খুশি নন নির্যাতিতার মা-বাবা। তাই শিয়ালদহ কোর্টের রায় ঘোষণার আগেই শীর্ষ আদালতে যাবেন তাঁরা। তাঁরা দাবি করেছেন, সঞ্জয় একা নয়, মেয়ের খুনের মামলার আরও কয়েকজন যুক্ত রয়েছে বলে মনে করছেন। একজনের পক্ষে এরকম কাজ করা সম্ভব নয়। যারা যারা ওই ঘটনায় যুক্ত আছে, তাদের খুঁজে বের করতে আরও তদন্ত করা হোক। সেইমতো যাতে চার্জশিট পেশ করা হয়, সেই আর্জি জানিয়েছেন নির্যাতিতা চিকিৎসকের বাবা-মা।
এই নিয়ে নির্যাতিতার বাবা বলেন, ‘আমরা নতুন করে তদন্ত চাইছি না, বরং আরও তদন্ত চাইছি। এই ঘটনায় আরও কেউ রয়েছেন। তাঁদের খুঁজে বার করা হোক। আর সিবিআই তদন্ত প্রক্রিয়া হাইকোর্টের তত্ত্বাবধানে ঘটলে সেই শুনানিতে আমরাও থাকতে পারব। সেই ক্ষেত্রে তদন্তে অসঙ্গতি বা ফাঁক থাকছে মনে হলে আমরা আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে সেটা জানাতে পারব।’
❤ Support Us






