- এই মুহূর্তে দে । শ
- নভেম্বর ১৮, ২০২৫
তুমুল বিতর্কের মাঝে আজ থেকে শুরু একাদশ-দ্বাদশের শিক্ষক নিয়োগে নথি যাচাই প্রক্রিয়া
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে, প্রবল বিতর্কের মাঝেই আজ থেকে শুরু হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগের নথি যাচাই প্রক্রিয়া। আজ সকাল থেকে বাংলা বিষয়ে আবেদনকারী তালিকাভুক্ত চাকরিপ্রার্থীদের জন্য ডাক পৌঁছে গেছে। প্রথম দিনে প্রায় ৭১০ জন প্রার্থী নথি যাচাইয়ের জন্য উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে। কমিশনের সূত্রে খবর, প্রতিদিন গড়ে এক থেকে দেড় হাজার প্রার্থীকে বিভিন্ন বিষয়ের জন্য ডাকা হবে। এ প্রক্রিয়া চলবে আগামী ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত। নথি যাচাইকে দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে কমিশন ২০-২১টি টেবিলের ব্যবস্থা করেছে। সকাল ১০টা থেকে শুরু হবে ভেরিফিকেশন ও ইন্টারভিউ। প্রতিটি টেবিলে প্রায় ১০০ জন প্রার্থীর নথি যাচাই করার পরিকল্পনা রয়েছে এসএসসির।
নথি যাচাইয়ে চাকরীপ্রার্থীদের অবশ্যই মূল এবং স্ব-প্রত্যয়িত কপি সঙ্গে রাখতে হবে। প্রয়োজনীয় নথির মধ্যে রয়েছে আবেদন ফর্ম এবং ই-ইনফরমেশন শিট, সচিত্র পরিচয়পত্র যেমন আধার কার্ড, প্যান কার্ড অথবা পাসপোর্ট, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে জাতিগত শংসাপত্র। বিশেষভাবে সক্ষম বা অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা শ্রেণির প্রার্থীদের সংশ্লিষ্ট শংসাপত্রও সঙ্গে রাখতে হবে। সকল বৈধ কাগজের স্বাক্ষরের তারিখ ২১ জুলাই, ২০২৫-এর আগে হতে হবে। এছাড়া স্নাতকোত্তরের মূল শংসাপত্র ও মার্কশিট, টেট পাসের সার্টিফিকেট, শিক্ষক শিক্ষণ সংক্রান্ত সকল নথি, পূর্ব শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার প্রমাণপত্রও প্রয়োজন।
এদিকে, নথি যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হতেই বিভিন্ন উদ্বেগ উঠে এসেছে। ফ্রেশার প্রার্থীরা দাবি করেছেন, লিখিত পরীক্ষায় পূর্ণ নম্বর পাওয়ার পরও অভিজ্ঞতার জন্য বরাদ্দ ১০ নম্বর না পাওয়ায় তাঁরা ইন্টারভিউতে ডাক পাননি। অন্যদিকে, পুরনো প্রার্থীরাও অভিযোগ করেছেন, তাদের অভিজ্ঞতা সঠিকভাবে গণনা হয়নি। মুর্শিদাবাদ, হুগলি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রার্থীরা কমিশনের দফতরে উপস্থিত হচ্ছেন। তবে চাকরি পাবেন কি না, তা নিয়ে অনেকেই অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। যদিও এসএসসি জানিয়েছে, ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে করা হবে। কোনো প্রার্থীর নাম অনুচিতভাবে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে না। নথি যাচাই শেষে প্রার্থীদের রসিদ সরাসরি দেওয়া হচ্ছে না; কর্মকর্তারা একটি খাতায় স্বাক্ষর করানোর ব্যবস্থা করছেন।
শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়টি রাজ্য রাজনীতিতেও উত্তাপ তৈরি করেছে। নতুন ও পুরনো প্রার্থীদের সমানভাবে সুযোগ নিশ্চিত করতে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু এদিন আশ্বাস দিয়েছেন। এছাড়া কমিশনের তালিকায় অনিয়ম বা অযোগ্য প্রার্থীর নাম থাকলে তা ইন্টারভিউয়ের আগে বাদ দেওয়া হবে। গতকাল থেকে বিভিন্ন জেলা থেকে আন্দোলন শুরু হয়েছে। ফ্রেশার প্রার্থীরা দাবি করেছেন, অভিজ্ঞতার জন্য বরাদ্দ ১০ নম্বর বাদ দেওয়ায় অনেক যোগ্য প্রার্থী বঞ্চিত হয়েছেন এবং নতুনভাবে আরও শূন্যপদ তৈরি করারও দাবি তুলেছেন। আজ থেকে শুরু হওয়া এই নথি যাচাই প্রক্রিয়া একদিকে প্রার্থীদের জন্য সুযোগের দরজা খুলেছে, অন্যদিকে অনেকের মনে উৎকণ্ঠা সৃষ্টি করেছে। ১৮ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলা এই প্রক্রিয়া শিক্ষক নিয়োগের স্বচ্ছতা এবং নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে বড়ো ভূমিকা রাখবে।
❤ Support Us







