Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • মে ১২, ২০২৩

প্রশিক্ষণহীন ৩৬ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট।৩ মাসের মধ্যে নতুন নিয়োগের নির্দেশ

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
প্রশিক্ষণহীন ৩৬ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট।৩ মাসের মধ্যে নতুন নিয়োগের নির্দেশ

শিক্ষক নিয়োগ মামলায় বড় ধাক্কা খেল রাজ্য সরকার।  প্রশিক্ষণহীন ৩৬ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট। ২০১৪ সালের টেট থেকে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা এবং ২০১৬ সালের প্যানেলভুক্তদের মধ্যে যাঁদের প্রশিক্ষণ নেই, তাঁদেরই চাকরি বাতিলের এই নির্দেশ শুক্রবার দিলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদকে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের কড়া নির্দেশ, আগামী ৩ মাসের মধ্যে নতুন প্যানেল থেকে নিয়োগ করতে হবে। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এখনও পর্যন্ত এটাই সবচেয়ে বড় সংখ্যক চাকরি বাতিলের নজির। নতুন প্যানেল তৈরির খরচ প্রয়োজনে মানুক ভট্টাচার্য্যের সম্পত্তি বিক্রি করে মেটাতে হবে।

বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশ, যাঁদের চাকরি বাতিল হল তাঁদের সামনে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ রয়েছে এখনও। বিচারপতি জানিয়েছেন, বাতিল হওয়া শিক্ষকরা আগামী ৪ মাস কাজ করবেন, পার্শ্বশিক্ষকদের হারে বেতন পাবেন।  এঁদের কারও সার্ভিস ব্রেক হবে না।

তারই মধ্যে আগামী ৩ মাসের মধ্যে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকদের যোগ্যতার ভিত্তিতে নতুন করে নিয়োগ করতে হবে। সেক্ষেত্রে বাতিল হওয়া শিক্ষকরাও নতুন করে আবেদন করতে পারবেন প্রাথমিক শিক্ষক পদে এবং তাঁদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এই নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার খরচ দিতে অসমর্থ হলে, প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ প্রয়োজনে বোর্ডের প্রাক্তন সভাপতি মানিক ভট্টাচার্যর অ্যাটাচ করা সম্পত্তি থেকে  থেকে টাকা নিতে পারে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, ২০১৪ সালের টেট থেকে শিক্ষক নিয়োগের নেপথ্যে দুর্নীতিতে রয়েছেন তৎকালীন বোর্ড সভাপতি মানিক ভট্টাচার্য। টাকা নিয়ে নিয়োগের মূল মাস্টারমাইন্ড ছিলেন তিনিই।

বিষয়টি নিয়ে তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ  বলেন, “বিচারাধীন বিষয়। সবে একটি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এনিয়ে রাজনৈতিক কোনও মন্তব্য করব না।” সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, “আদালতের রায়কে স্বাগত জানাচ্ছি। তবে যে ৩৬ হাজার জনের চাকরি বাতিল হল, তার জন্য দায়ী রাজ্য সরকার। কারণ, এই পথে নিয়োগ না হলে তাঁরা অন্যভাবে অন্য কোনও চাকরির চেষ্টা করতেন।”

শিক্ষক নিয়োগ মামলার শুনানি ছিল শুক্রবার বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের বেঞ্চে। তাতে একাধিক যুক্তির ভিত্তিতে ৩৬ হাজার প্রশিক্ষণহীন শিক্ষকের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। এই মামলার তদন্তে আগেই  ২০১৪ সালে টেট পাশ করা শিক্ষকদের আলাদা করে সাক্ষ্যগ্রহণ করেছিল আদালত। তাতে উঠে এসেছিল একাধিক বিষয়। দেখা যায়,এই নিয়োগের ক্ষেত্রে  কারও কারও অ্যাপটিচিউড টেস্ট নেওয়া হয়নি। কারও ক্ষেত্রে সংরক্ষণ নীতি না মেনে নিয়োগ হয়েছে। প্রশিক্ষণ থাকা সত্ত্বেও কাউকে বাতিল করে প্রশিক্ষণহীন পরীক্ষার্থীকে চাকরি দেওয়া হয়েছে। ওই বছর সাড়ে ৪২ হাজার পদে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছিল। তার মধ্যে ৩৬ হাজার প্রশিক্ষণহীনের চাকরি বাতিল করা হল শুক্রবার। তবে যাঁরা প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণ করেছেন, তাঁদের চাকরি বহাল থাকবে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!