Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • জানুয়ারি ১৩, ২০২৬

ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই রাজ্যের অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ। ভোটের আগে ফের উত্তাল হবে বিধানসভা?

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই রাজ্যের অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ। ভোটের আগে ফের উত্তাল হবে বিধানসভা?

এপ্রিল মাসে রাজ্যে ভোটের সম্ভাবনা। এই মুহূর্তে ভোটপ্রচারে কোমড় বেঁধে নেমে পড়েছে তৃণমূল-বিজেপি সহ রাজ্যের প্রতিটি রাজনৈতিক দল। একের পর এক প্রতিশ্রুতিতে উষ্ণতা পাচ্ছে শীতের বাংলা। সরকারি প্রকল্প, উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে নিবিড় জনসংযোগে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন মমতা-অভিষেক। আর এর মধ্যেই ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে বিধানসভায় বাজেট অধিবেশন। বিধানসভা সচিবালয় সূত্রে জানা গেছেএটি হবে সপ্তদশ বিধানসভার শেষ অধিবেশন, আর এই অধিবেশনে পেশ করা হবে রাজ্যের অন্তর্বর্তী বাজেট। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বাজেট পেশ করবেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তবে তৃণমূলের একটি সূত্র জানাচ্ছে২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবারের অধিবেশনেও তেমন সম্ভাবনাও জোরালো বলে মনে করছে সচিবালয়।

রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে অধিবেশনকে ঘিরে ইতিমধ্যেই জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। অন্তর্বর্তী বাজেট হওয়ায় বড়ো ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তনের সম্ভাবনা কমতবে জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে বরাদ্দ বৃদ্ধি পাওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে। বিধানসভায় নিয়মিত সংসদীয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী প্রশ্নোত্তর পর্বউল্লেখপর্ব ও বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রস্তাবের ওপর আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিলও পাশ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নবান্ন সূত্রে জানা গেছেএই অধিবেশনে স্বাস্থ্যশিক্ষাগ্রামীণ উন্নয়নসামাজিক সুরক্ষা এবং কর্মসংস্থানকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারস্বাস্থ্যসাথীকন্যাশ্রী এবং খাদ্যসাথী প্রকল্পের বরাদ্দ বৃদ্ধি পেতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেননির্বাচনের আগে এই বাজেট কার্যত সরকারের রিপোর্ট কার্ড’ হিসেবে কাজ করবে।

মমতা সরকারের সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রকল্প লক্ষ্মীর ভাণ্ডার এবারো বড়ো চমক দেখাতে পারে। ভোটের আগে সাধারণ এবং তপশিলি জাতির মহিলাদের জন্য এই ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে পারেএমন ইঙ্গিত দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। বর্তমানে সাধারণ জাতির মহিলারা ১,০০০ টাকা এবং তপশিলি জাতির মহিলারা ১,৫০০ টাকা পান। ধারণা করা হচ্ছেনতুন বরাদ্দ অনুযায়ী সাধারণ জাতির মহিলারা পাবেন ১,৫০০ টাকা এবং তপশিলি জাতির মহিলারা পাবেন ১,৮০০ টাকা। সম্ভবত ফেব্রুয়ারি মাসের শুরু থেকেই এই নতুন ভাতা কার্যকর হতে পারে। রাজ্যের অন্যান্য জনপ্রিয় প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে বিধবা ভাতাবার্ধক্য ভাতাকন্যাশ্রীযুবশ্রীমানবিক প্রকল্প এবং কৃষক বন্ধু প্রকল্প। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের সাধারণ মানুষ নানারকম আর্থিক সুবিধা পাচ্ছেন।

আসন্ন অধিবেশনে বিরোধী দলের ভূমিকা কেমন থাকবে, তাও সহজেই অনুমেয়। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি দল সরকারের নীতি ও প্রকল্প নিয়ে তীব্র প্রশ্ন, বিরোধী আওয়াজ তুলবে বলেই মনে করা হচ্ছে। নিয়োগ দুর্নীতিআইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকেন্দ্রীয় বঞ্চনা এবং রাজ্যের আর্থিক অবস্থা নিয়ে তীব্র আক্রমণ চালানোর সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে তৃণমূল তাদের উন্নয়নমূলক কাজের খতিয়ান তুলে ধরে বিরোধীদের মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকবে। গত  বছরে বিধানসভায় তৃণমূলবিজেপির মধ্যে সংঘর্ষের ইতিহাস থাকায়, শেষ অধিবেশনে রাজনীতির উত্তাপ আরো বাড়তে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

অন্যদিকে, কেন্দ্র সরকার জানিয়েছেআগামী ১ ফেব্রুয়ারি রবিবার সংসদে পেশ করা হবে কেন্দ্রীয় বাজেট। বাজেট অধিবেশন শুরু হবে ২৮ জানুয়ারি। ওই দিন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু সংসদের উভয় কক্ষে যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। পরের দিন ২৯ জানুয়ারি পেশ করা হবে অর্থনৈতিক সমীক্ষা। সংসদের বাজেট অধিবেশন দুই পর্বে অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম পর্ব চলবে ২৮ জানুয়ারি থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। দ্বিতীয় পর্ব শুরু হবে ৯ মার্চ এবং চলবে ২ এপ্রিল পর্যন্ত। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন টানা নবমবারের মতো বাজেট পেশ করবেন। এটি স্বাধীনতার পর দেশের ৮৮তম কেন্দ্রীয় বাজেট। বাজেট পেশের দিনে শেয়ার বাজার খোলা থাকবে কি নাতা নিয়ে ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ সরকারের ঘোষণার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ এখনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কেন্দ্রীয় বাজেটে মধ্যবিত্ত এবং করদাতাদের জন্য স্বস্তি বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। আলোচ্য বিষয়গুলির মধ্যে রয়েছে স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন বৃদ্ধিযা বর্তমানে ৭৫,০০০ টাকা। জল্পনা অনুযায়ী এটি ১,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। করমুক্ত আয়ের সীমা ধারা ৮৭এ-এর আওতায় ১৩ লক্ষ থেকে ১৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। পুরনো কর ব্যবস্থার আওতায় ধারা ৮০সি এবং ৮০ডি-এর সীমা বাড়ানো হতে পারে। বর্তমানে ৮০সি-এর সর্বোচ্চ সীমা ১.৫ লক্ষ টাকা এবং ৮০ডি-এর সীমা ২৫,০০০ টাকা। বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে ৮০সি সীমা ২ থেকে ২.৫ লক্ষ এবং ৮০ডি সীমা ৫০,০০০ টাকায় বৃদ্ধি করার কথা ভাবা হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি মূলধন লাভ কর সম্পর্কিত সীমা বর্তমানে ১.২৫ লক্ষ টাকা। এটি ১.৫ থেকে ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করলে ক্ষুদ্র ও মধ্যম বিনিয়োগকারীরা স্বস্তি পাবেন। জাতীয় পেনশন ব্যবস্থাকে আরও আকর্ষণীয় করতে টিয়ার-২ অ্যাকাউন্টে করছাড় বৃদ্ধি বা নিয়োগকর্তার অবদানের সীমা ১৪ শতাংশ থেকে সমান করার প্রস্তাবও ভাবা হচ্ছে। বাজেটের লক্ষ্য কর ব্যবস্থা আরও স্বচ্ছসহজ এবং মধ্যবিত্তদের জন্য সহায়ক করা।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!