- এই মুহূর্তে দে । শ
- মার্চ ১২, ২০২৫
রেশন কার্ডের সঙ্গে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সংযুক্তিকরণ, কেন্দ্রের প্রস্তাবে সায় রাজ্যের
রাজ্যে লক্ষ লক্ষ মানুষ রেশন থেকে বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে খাদ্যশস্য পাওয়ার সুবিধা পেয়ে থাকেন। এই ব্যবস্থার উপর নির্ভর করে থাকেন বহু মানুষ। নানা সময়ে রেশন ব্যবস্থায় নানা দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্বচ্ছতার জন্য আধার লিংক, বায়োমেট্রিক ছাপ সহ একাধিক আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করা হয়েছে। এবার কেন্দ্রের প্রস্তাবিত –রেশন কার্ডের সঙ্গে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সংযুক্তিকরণে সায় দিয়েছে রাজ্য খাদ্য দফতর। খাদ্য শস্যের বদলে নগদ টাকা ? আগামী দিনে সরাসরি ভর্তুকির পথে হাঁটতে চলেছে সরকার? অভিষ্যতের আশঙ্কায় রেশন ডিলাররা।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্র ও রাজ্যের খাদ্যসচিবরা বিশেষ বৈঠকে বসেছিলেন। সেখানে কেন্দ্রের তরফে প্রস্তাব দেওয়া হয়, আধার কার্ডের পর এবার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে রেশন কার্ডের সংযুক্তিকরণ করা হোক। এর জন্য নতুন রেশন কার্ড বিলি করার সময় যখন পরিবারের প্রধানের ই-কেওয়াইসি ফর্ম পূরণ করা হবে, তখন রেশন কার্ডের সঙ্গে আধার কার্ডের লিঙ্কের পাশাপাশি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টেরও তথ্য নিয়ে নেওয়া হবে। সম্মতি দেয় রাজ্য আধিকারিকরা। যা নিয়ে আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এই পদক্ষেপের ফলে ভবিষ্যতে খাদ্যশস্য বিতরণ বন্ধ করে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ভর্তুকির টাকা পাঠানোর পরিকল্পনা থাকতে পারে। এই সিদ্ধান্ত রেশন ডিলার, কৃষক সংগঠন আর সাধারণ রেশন গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অন্য সব বিষয়ে কেন্দ্রের বিরোধিতা করলেও, পশ্চিমবঙ্গ সরকার এ প্রস্তাবে আপত্তি জানায়নি, বরং তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে যে, আধারের মাধ্যমেই রেশন কার্ডধারীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য পাওয়া যেতে পারে। সোমবার রাজ্যের খাদ্য ও সরবরাহ দফতরের বিশেষ সচিব, কেন্দ্রীয় খাদ্য ও গণবণ্টন মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব রবি শঙ্করকে চিঠি পাঠিয়ে জানান, সরাসরি রেশন কার্ডের সঙ্গে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংযুক্ত করার প্রয়োজন নেই, কারণ এই তথ্য ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন এর মাধ্যমেই পাওয়া যেতে পারে। এনপিসিআই এরই মধ্যে আধারের সঙ্গে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংযুক্ত করেছে। রাজ্যের যুক্তি হল, যেহেতু এনপিসিআই-এর মাধ্যমে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য পাওয়া সম্ভব, তাই পৃথকভাবে রেশন কার্ডের সঙ্গে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংযুক্ত করার প্রয়োজন নেই। রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া ২০১৭-১৮ সালে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার সংযুক্তিকরণ বাধ্যতামূলক করেছিল। পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয়, যে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলিতে সরকারি ভর্তুকি জমা পড়ে না, সেগুলির জন্য আধার সংযুক্ত করা বাধ্যতামূলক নয়। কিন্তু এখন যেহেতু রেশন ভর্তুকি সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে, আশঙ্কা রয়েছে করা, তাই এই সংযুক্তিকরণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তবে এই অবস্থান রেশন ডিলার ও কৃষকদের মধ্যে আশঙ্কার সৃষ্টি করেছে, কারণ খাদ্যসাথী প্রকল্পের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। কারণ এই প্রস্তাব কার্যকর হলে রেশন কার্ডধারী ব্যক্তিরা সরকারি রেশন দোকান থেকে খাদ্যশস্য না পেয়ে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ভর্তুকির টাকা পেতে পারেন। ফলে রেশন ডিলারদের ভূমিকা কমে যেতে পারে, যা এই ব্যবসায় জড়িত লক্ষাধিক মানুষের জীবিকা বিপন্ন করতে পারে। এ বিষয়ে সর্বভারতীয় ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু বলেছেন, ‘মনে হচ্ছে, বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যকে অন্ধকারে রেখে কেন্দ্রের নির্দেশে রাজ্যেরই কয়েকজন শীর্ষ আমলা খাদ্যসাথী প্রকল্প বন্ধের চক্রান্ত করছেন। রাজ্য সরকার এই প্রস্তাবে আপত্তি না জানিয়ে, উল্টে এক ধাপ এগিয়ে গিয়েছে। যদি এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়, তাহলে চাষিদের কাছ থেকে সহায়ক মূল্যে ধান কেনার বিষয়েও প্রশ্ন উঠবে।’ বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে খাদ্যসাথী প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের কাছ থেকে সহায়ক মূল্যে ধান কেনা হয়, সেই খাদ্যশস্য সরকারি রেশন দোকানগুলোর মাধ্যমে বিতরণ করা হয়। কিন্তু যদি খাদ্যশস্য বিতরণের পরিবর্তে সরাসরি নগদ ভর্তুকি চালু হয়, তাহলে কৃষকরা ধান বিক্রির ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়তে পারেন। অনেক কৃষক রেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে তাদের উৎপাদিত ধানের স্থিতিশীল বাজার পান। এই পরিকল্পনার ফলে সেই বাজার অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।
❤ Support Us







