Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • এপ্রিল ২৩, ২০২৫

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭ ক্যাম্পাসে ইউনিয়ন রুমে তালা। ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবি এসএফআই-এর

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭ ক্যাম্পাসে ইউনিয়ন রুমে তালা। ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবি এসএফআই-এর

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত ক্যাম্পাসে ইউনিয়নরুমে তালা ঝোলানোর সিদ্ধান্ত। সোমবার ৩ দফা দাবি নিয়ে রাজাবাজার ক্যাম্পাসের বিজ্ঞান সচিবকে ঘেরাও করেছিল ছাত্র সংগঠন এসএফআই। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গেও এ নিয়ে সাক্ষাৎ করেন প্রতিবাদী পড়ুয়ারা। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে নোটিশ জারি করা হয়েছে।

সোমবার থেকে রাজবাজার সায়েন্স কলেজে লাগাতার আন্দোলনের ডাক দিয়েছিল বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এসএফআই। তাঁদের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রসংসদ নির্বাচন না হওয়ায় ইউনিয়ন রুমগুলিতে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের কর্মীরা, বহিরাগত তৃণমূল সমর্থকরা জোর পূর্বক দখল করে রেখেছে। অভিযোগ, ইউনিয়ন ঘরে অবাধে মদ্যপান, চাঁদাবাজি, এমনকি পড়ুয়াদের খুন ও যৌন নির্যাতনের হুমকি দেওয়া হয়। সোমবার ৩ দফা দাবি নিয়ে রাজাবাজার ক্যাম্পাসের বিজ্ঞান সচিব অমিত রায়কে ঘেরাও করেছিল ছাত্র সংগঠন এসএফআই। দীর্ঘ ২৩ ঘন্টা তাঁকে আটকে রাখে আন্দোলনরত পড়ুয়ারা। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গেও এ নিয়ে সাক্ষাৎ করেন প্রতিবাদী পড়ুয়ারা। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে নোটিশ জারি করে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত ক্যাম্পাসে ইউনিয়নরুমে তালা ঝোলানোর সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। যা নিয়ে শিক্ষামহলে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্বর্তী উপাচার্য শান্তা দত্ত জানিয়েছেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্যাম্পাসের সংসদ ঘর তালা বন্ধ করে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনেক বছর ধরেই তো ছাত্র ভোট হয় না, ফলত ইউনিয়ন রুম খুলে রাখার কোনো প্রয়োজনও নেই। বিক্ষোভকারী পড়ুয়াদের তরফে বেশ কিছু অভিযোগ এসেছে, সেগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদি আগামী দিনে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়, তখন ইউনিয়ন রুম আবার খুলে দেওয়া হবে।’ উপাচার্যের নির্দেশ আসবার কিছুক্ষণের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭ টি ক্যাম্পাসে ইউনিয়ন রুমে তালা দেওয়ার কাজ শুরু করে দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এদিন রাজাবাজার ক্যাম্পাসে সচিবকে ঘেরাও করে এসএফআই দাবি করেছিল, ছাত্র সংসদ নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি ক্যাম্পাসে ইউনিয়ন রুম বন্ধ রাখতে হবে, ক্যাম্পাসে বহিরাগত তৃণমূলকর্মীদের প্রবেশ আটকাতে হবে, বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃণমূলের দুষ্কৃতীরাজ বন্ধ করতে হবে। এছাড়াও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ক্যান্টিনের খাবারের দামে ভরতুকির দাবি তুলেছেন তাঁরা। এসএফআই-এর অভিযোগ, ইউনিয়ন ঘরে অবাধে মদ্যপান, চাঁদাবাজি, এমনকি পড়ুয়াদের খুন ও যৌন নির্যাতনের হুমকি দেওয়া হয়, ইউনিয়ন ইলেকশন না হলে ওই ঘর খুলে রাখার অর্থ সাধারণ পড়ুয়াদের হেনস্থা ও বিপদের মুখে ফেলা। এ প্রসঙ্গে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির বা কুটার সভাপতি, অধ্যাপক সনাতন চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘ছাত্রছাত্রীদের উপর এ ধরনের হুমকি দেওয়া কখনো বরদাস্ত করা যায় না। আমরা এর সঠিক পদক্ষেপ চাই।’

আন্দোলনরত পড়ুয়া, শিক্ষক, গবেষক, শিক্ষাকর্মীদের একাংশের অভিযোগ, রাজাবাজার সায়েন্স কলেজে টিএমসিপি-র থ্রেট কালচার চলছে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় লুম্পেনদের মুক্তাঞ্চলে পরিণত হচ্ছে। তাঁদের প্রশ্ন, কর্তৃপক্ষ এতদিন জানতো না, ইউনিয়ন রুম খুলে রাখা অবৈধ? কর্তৃপক্ষ জানত না বিভিন্ন ক্যাম্পাসের ইউনিয়ন রুমে সমাজবিরোধী কার্যকলাপ চলে দিনের পর দিন? আমাদের লড়াই এর বিরুদ্ধেই। তার জন্য যত রাত জাগতে হয় আমরা জাগবো। অভিযোগের সূত্রপাত তৃণমূল সমর্থক হিসাবে পরিচিত গৌরব দত্ত মুস্তাফির ক্যাম্পাসে অবাধ বিচরণকে ঘিরে। গৌরব অবশ্য সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক। পাল্টা এসএফআই-এর বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসগুলিতে বহিরাগতদের ঢোকানোর অভিযোগ তুলেছেন তিনি। গৌরব আরো জানান। রাজাবাজার ক্যাম্পাসের ইউনিয়ন রুমে তাঁর ৪০ হাজার টাকা রয়ে গিয়েছে,এ অবস্থাতেই তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষের টাকা উদ্ধার ও এসএফআই-এর বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ তুলে উপাচার্যকে চিঠি দিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে, এসএফআই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় আঞ্চলিক কমিটির সম্পাদক মাল্যবান গঙ্গোপাধ্যায়ের দাবি, ‘তৃণমূল জমানায় বহু বছর ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয় না। এই ইউনিয়ন রুমগুলো বহিরাগতদের অসামাজিক কার্যকলাপের আখড়া হয়ে উঠেছিল। সোমবার রাজাবাজার সায়েন্স কলেজে পড়ুয়াদের উপর আক্রমণ করে বহিরাগতরা। আমরা প্রতিবাদে ঘেরাও শুরু করি। এদিন সন্ধ্যায় আমাদের দাবি মেনে নেন কর্তৃপক্ষ।’ উল্লেখ্য, ছাত্র সংসদ নির্বাচনের জন্য একাধিকবার রাস্তায় নেমেছে এসএফআই। সম্প্রতি বিকাশ ভবন অভিযানঅ করেছে তাঁরা। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্রাত্য বসুর সঙ্গে ছাত্রদের গোলমালের পিছনে প্রধান দাবি ছিল ছাত্রভোট করাতে হবে। আন্দোলনের চাপে পড়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই পদক্ষেপ ছাত্রভোটের দাবির দিকে আরেকধাপ এগোনো বলে মনে করছে ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্বরা। এসএফআই-এর কলকাতা জেলার সম্পাদক দিধীতি রায় বলেছেন, ‘এই ঘটনায় এটা পরিষ্কার হয়ে গেল যে, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউনিয়নগুলো অবৈধ। আমাদের স্পষ্ট কথা ইউনিয়ন রুম খুলতে গেলে নির্বাচন করতে হবে।’


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!