Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • অক্টোবর ১৫, ২০২৫

সোনমের মুক্তির আপিল স্থগিত! সুপ্রিম কোর্টে আবেদন সংশোধনের অনুমতি, ২৯ অক্টোবর পুনরায় শুনানি

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
সোনমের মুক্তির আপিল স্থগিত! সুপ্রিম কোর্টে আবেদন সংশোধনের অনুমতি, ২৯ অক্টোবর পুনরায় শুনানি

‘লাদাখ বাঁচাও আন্দোলন’-এর মুখ, পরিবেশবিদ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক জাতীয় নিরাপত্তা আইন ধারায়র জেলবন্দি। হেফাজতের বিরুদ্ধে তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমোর আবেদন সংশোধনের অনুমতি দিল সুপ্রিম কোর্ট। কেন্দ্র সরকার আদালতে গ্রেফতারের কারণ দাখিল করার পর এই অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ফলে, মামলাটি এবার সংশোধিত আবেদন ও সরকারের পক্ষ থেকে উপস্থাপিত কারণ বিশ্লেষণ করে বিচারাধীন হবে।

বিচারপতি অরবিন্দ কুমার ও বিচারপতি এন. ভি. অঞ্জারিয়ার বেঞ্চ আজ আবেদন সংশোধনের অনুমোদন দেন। প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বাল ওয়াংচুকের পক্ষে আদালতে সওয়াল করেন। সরকারের পক্ষে সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা জানান, ইতিমধ্যেই ওয়াংচুকের হেফাজতের জমা করা হয়েছে। তিনি আদালতে জানিয়েছেন, ‘ওয়াংচুক তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলির সঙ্গে চিঠি বিনিময় করতে পারবেন, আমরা তাতে আপত্তি জানাচ্ছি না। তবে এটি যেন হেফাজত আদেশের বিরুদ্ধে নতুন কোনো আইনগত চ্যালেঞ্জের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার না হয়।’ মেহতার বক্তব্য ছিল, গ্রেফতারি সংক্রান্ত যে কোনো প্রক্রিয়াগত বিলম্ব বা ত্রুটি ছোটখাট হলেও ভবিষ্যতে তা মামলা চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ হিসেবে কাজে লাগানো যেতে পারে। তাই বিষয়টি নিয়ে খুব সতর্ক থাকতে হবে। ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য সম্পর্কিত প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ‘ওয়াংচুকের কোনো গুরুতর শারীরিক অসুস্থতা নেই। ওষুধ বা চিকিৎসার দাবি করেন নি তিনি।’ এ বক্তব্যের পরে সিব্বাল আপত্তি জানিয়ে বলেন, ‘আমি সীমিত একটি আবেদন করছি, কেন এই ব্যাপারে এত বিতর্ক হতে হবে।’ প্রাথমিক সওয়াল শুনে আদালত জানায়, সংশোধিত আবেদন এবং সরকারের হলফনামা, উভয় পক্ষের যুক্তি উপস্থাপনের পরই আদালত সিদ্ধান্ত নেবে ওয়াংচুকের হেফাজত কতটা আইনসঙ্গত। মামলার পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত হয়েছে ২৯ অক্টোবর।

গীতাঞ্জলি আংমোর পক্ষে করা আবেদনপত্রে বলা হয়েছে, সোনম ওয়াংচুকের গ্রেফতারি আইনগত দৃষ্টিতে অবৈধ। কারণ কর্তৃপক্ষ তাঁকে গ্রেপ্তার করার সময় কোনো কারণ জানাননি। এনএসএ’র ধারা ৩(২) অনুযায়ী গ্রেফতারের আদেশটি জাতীয় নিরাপত্তা বা জনশান্তির সুরক্ষার জন্য নয়, বরং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারী ও সমাজসেবককে চুপ করিয়ে দেবার উদ্দেশ্যেই নেওয়া হয়েছে। আবেদনপত্রে এও উল্লেখ করা হয়েছে, ওয়াংচুক শুধু লাদাখে শান্তিপূর্ণ গান্ধীর আদর্শে অহিংস প্রতিবাদের মাধ্যমে তার মত প্রকাশের অধিকার প্রয়োগ করেছেন, যা সংবিধানের ধারা ১৯-এর অধীনে তাঁর মৌলিক অধিকার। তাছাড়া, হেফাজতের জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াগত সুরক্ষা, যেমন হেফাজতের কারণ জানানো, প্রতিনিধিত্বের সুযোগ প্রদান ইত্যাদি পুরোপুরি উপেক্ষিত হয়েছে। এছাড়াও, তাঁকে লাদাখ থেকে এক হাজার কিলোমিটার দূরে যোধপুরের কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে, যা মানবাধিকার লঙ্ঘন বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি। সরকারের পক্ষে লেহ জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের হলফনামায় বলা হয়েছে, হেফাজত আদেশ যথাযথ বিচার-বিবেচনা ও পর্যাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতে জারি করা হয়েছে। ওয়াংচুককে গ্রেপ্তার, স্থানান্তর এবং হেফাজতের কারণ সময়মতো তাঁর পরিবারকে জানানো হয়েছে। যদিও আদালতে দাখিল করা হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, ওয়াংচুক হেফাজতকারী কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিবেদন দাখিল করেননি।

গত ২৬ সেপ্টেম্বর লাদাখের লেহ থেকে গ্রেপ্তার হন সোনম ওয়াংচুক। লাদাখের রাজ্য মর্যাদা এবং ষষ্ঠ তফসিলে সংযোজনের দাবির আন্দোলনের তীব্রতা ও সহিংসতাকে তাঁর গ্রেপ্তারের কারণ হিসাবে উল্লেখ হয়েছে। ওই আন্দোলনে ৪ জন নিহত হয়েছেন এবং শতাধীক আহত। এসব ‘ষড়যন্ত্র’-এর পেছনে বাস্তবের ‘র‍্যাঞ্চো’-কেই দায়ি করেছে পুলিশ। ওয়াংচুক দীর্ঘদিন ধরে লাদাখের পরিবেশ সংরক্ষণ ও সাংস্কৃতিক অধিকার রক্ষায় কাজ করে আসছেন। তাঁর উস্কানিতেই সহিংসতা ঘটেছে বলে মত রাষ্ট্রপক্ষের। অন্যদিকে, সোনমের গ্রেপ্তারিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করছেন অনেকে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!