- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- নভেম্বর ৭, ২০২৫
এসআইআর-এর বিরোধিতায় স্ট্যালিন-এর দলের আবেদন গ্রহণ সুপ্রিম কোর্টের। মঙ্গলবারে শুরু শুনানি, পশ্চিমবঙ্গের আবেদনও একই দিনে
তামিলনাড়ুর শাসকদল ডিএমকে-সহ ৪৪টি বিরোধী দল ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘এসআইআর’-এর কার্যক্রমকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিল। শুক্রবার শীর্ষ আদালতেন চিফ জাস্টিস বি.আর. গাভাই এবং জাস্টিস কে. বিনোদ চন্দ্রনের বেঞ্চ আবেদনটি গ্রহণ করেছে। ১১ নভেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানি। ডিএমকের পক্ষের আইনজীবী বিবেক সিংহ আবেদন করেছিলেন জরুরি ভিত্তিতে এই মামলার শুনানি করার জন্য। আবেদনপত্রে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম.কে. স্ট্যালিনের দল আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, যদি ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়াটি যথাযথভাবে না চালানো হয়, তবে লক্ষ লক্ষ প্রকৃত ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে। এর ফলে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় বাধা আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে, নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ৪ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিএলও-রা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের এনুমারেশন ফর্ম দেবেন। প্রযুক্তিগত সমস্যা সমাধান হলে, সংশ্লিষ্ট রাজ্যের বাইরে থাকা ভোটাররাও অনলাইনে ফর্ম পূরণ করতে পারবেন। খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে ৯ ডিসেম্বর। এরপর, অভিযোগ থাকলে ৯ ডিসেম্বর থেকে ৮ জানুয়ারির মধ্যে তা জানানো যাবে। পরবর্তী পর্যায়ে ৯ ডিসেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত অভিযোগের তদন্ত ও যাচাই কাজ চলবে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে ৭ ফেব্রুয়ারি। এই প্রেক্ষিতে, ডিএমকে ৩ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে প্রশ্ন তুলেছিল, এত কম সময়ের মধ্যে কীভাবে ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা সম্ভব। স্ট্যালিনের অভিযোগ, নির্বাচনের কয়েক মাস আগে কমিশন ‘প্রকৃত ভোটারদের’ নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে। তিনি আরো বলেন, বিহারে একই প্রক্রিয়া চালিয়ে বিজেপিকে সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল, এবার তা অন্যান্য রাজ্যেও চালানোর চেষ্টা হচ্ছে।
অন্যদিকে, বিচারপতি সুর্য কান্ত এবং জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ ১১ নভেম্বর পশ্চিমবঙ্গের পক্ষের নতুন আবেদনও শুনবে। রাজ্যের পক্ষে আইনজীবী কপিল সিব্বাল এই আবেদন উপস্থাপন করবেন। সুপ্রিম কোর্ট ইতিমধ্যেই বিহারে ‘এসআইআর’ কার্যক্রমের বৈধতা নিয়ে মামলা শুনছে। ৪ নভেম্বর শুনানি নির্ধারিত ছিল, কিন্তু বেঞ্চের দুই বিচারক সংবিধান বেঞ্চের কাজে ব্যস্ত থাকায় তা স্থগিত হয়। বিহারে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর প্রায় ৪৭ লাখ ভোটার ভোটাধিকার হারিয়েছেন। মোট ভোটার কমে ৭.৪২ কোটি হয়েছে। তবে খসড়া তালিকার সঙ্গে তুলনা করলে চূড়ান্ত তালিকায় ১৭.৮৭ লাখ ভোটার বৃদ্ধি পেয়েছে। খসড়া তালিকায় ২১.৫৩ লাখ নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছে, আর ৩.৬৬ লাখ নাম বাতিল হয়েছে। শীর্ষ আদালত ইতিমধ্যেই জানিয়েছে যে, ভোটার তালিকার সব নথি প্রকাশ করা না হলেও ইলেকশন কমিশন তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবে। ফলে, এ মামলার রায় কেবল তামিলনাড়ু বা বিহারকে নয়, পুরো দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষত এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গ সহ দেশের বহু রাজ্যে ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার সংক্রান্ত বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে নির্বাচন কমিশনের ‘এসআইআর’।
❤ Support Us






