Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জানুয়ারি ১০, ২০২৬

দিল্লির আফগান দূতাবাসের দায়িত্বে তালিবান নেতা মুফতি নূর আহমদ নূর

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
দিল্লির আফগান দূতাবাসের দায়িত্বে তালিবান নেতা মুফতি নূর আহমদ নূর

দীর্ঘদিন ধরে কূটনৈটিক জটিলতার পর, অবশেষে দিল্লির আফগানিস্তান দূতাবাসের সর্বোচ্চ কর্মকর্তার দায়িত্ব নিলেন তালিবান নেতা মুফতি নূর আহমদ নূর। তিনি এর আগে আফগানিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রথম রাজনৈতিক বিভাগের ডিরেক্টর জেনারেল হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। সূত্রের খবর, শনিবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন পদভার গ্রহণ করেছেন।

এর আগে অক্টোবর মাসে আফগানিস্তানের বিদেশমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি ৭ দিনের সফরে ভারতের রাজধানীতে এসে দূতাবাস নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি দৃঢ়ভাবে জানিয়েছিলেন। মুত্তাকি সফরের সময় রক্ষণশীল ভাবাপন্ন ভঙ্গিতে নিজের ডেস্কের পেছনে এবং সামনে তালিবান পতাকা প্রদর্শন করেছিলেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটাই আমাদের পতাকা। আমরা এর অধীনে জিহাদ করেছি। দিল্লির দূতাবাসও শতভাগ আমাদের । যারা এখানে কাজ করছেন, তারা সবাই আমাদের সঙ্গে আছেন।’ যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে দিল্লির দূতাবাসে এখনো আফগানিস্তানের জাতীয় পতাকা উত্তোলিত রয়েছে।

মুত্তাকির দিল্লি সফরের প্রতিনিধি দলের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন মুফতি নূর। এবার তাঁর এই নিয়োগের মাধ্যমে তালিবান, আফগানিস্তানের দূতাবাসে আরো দৃঢ় অবস্থান নিতে চাইছে বলে কূটনৈতিক মহলে মনে করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, ভারত এখনো তালিবান সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়নি। তবে, দু-দেশের সম্পর্ক গত কয়েক মাসে ঘনিষ্ঠ হয়েছে। বিশেষ করে ভারতের পক্ষ থেকে মানবিক সহায়তা, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও উন্নয়নমূলক সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। মুম্বাই ও হায়দ্রাবাদে আফগান কনস্যুলেটগুলোও তালিবানের নিয়োগপ্রাপ্ত কূটনীতিকদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।

এর আগে দিল্লিতে আফগান দূতাবাসের ‘সিডিএ’ হিসেবে কাজ করতেন সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম খিল, যাকে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি আশরাফ গানি সরকারের সময় নিযুক্ত করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে, দু-দেশের দ্বিপাক্ষীক সম্পর্ক জোরদার করতে আফগানিস্তান থেকে বিভিন্ন উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের ধারাবাহিক ভারত সফর হয়েছে। এতে বাণিজ্য, শক্তি উন্নয়ন, চাবাহার বন্দর কার্যক্রম সচল করা এবং ভারতীয় বিনিয়োগ আকর্ষণসহ বিভিন্ন বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, মুফতি নূরের এ নিয়োগ শুধুমাত্র দূতাবাসের দায়িত্বভার নেওয়া নয়, বরং দিল্লির সাথে তালিবান সরকারের কূটনৈতিক অবস্থান দৃঢ় করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!