- এই মুহূর্তে বি। দে । শ
- ডিসেম্বর ২৫, ২০২৫
‘ধর্মনিরপেক্ষ দেশ গড়ার পরিকল্পনা’, ১৭ বছর পর বাংলাদেশে ফিরে বার্তা খালেদা পুত্র তারেক-এর
১৭ বছরেরও বেশি সময়ের স্বেচ্ছানির্বাসন শেষ করে যুক্তরাজ্য থেকে ঢাকায় ফিরলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার ঢাকায় পা রাখতেই তাঁকে স্বাগত জানাতে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। ৬০ বছর বয়সি তারেক রহমান, অসুস্থ প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র, আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার হয়ে উঠেছেন।
বনানী এয়ারপোর্ট রোড থেকে হেঁটে ঢাকা বিমানবন্দরের দিকে মিছিল করে যান বিএনপি সমর্থক ও দলীয় নেতারা। যুক্তরাজ্য থেকে তারেক রহমানের সঙ্গে দেশে ফেরেন তাঁর স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও কন্যা জায়মা রহমান।
দ্য ডেইলি স্টার-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁদের পরিবারের পোষ্য বিড়াল ‘জীবু’-ও সঙ্গে করে আনা হয়েছে। এছাড়া তাঁর দুই ঘনিষ্ঠ সহকারী—আবদুর রহমান সুনি ও কামাল উদ্দিন—তাঁর সঙ্গে ছিলেন।
ঢাকায় নামার পর বিমানবন্দরে বিএনপির স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্যরা তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। সেখান থেকে বিশেষভাবে আমদানি করা দু’টি বুলেটপ্রুফ গাড়ির একটিতে করে তিনি পূর্বাচলের ‘৩০০ ফিট’ এলাকায় নির্ধারিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যান। সেই সংবর্ধনা অনুষ্ঠান থেকে খালেদা পুত্র বলেছেন, ৭১ এ দেশের মানুষ যেমন স্বাধীনতা অর্জন করেছিল ২০২৪ সালে তেমন সর্বস্তরের মানুষ, সবাই মিলে এ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করেছিল। আজ বাংলাদেশের মানুষ কথা বলার অধিকার ফিরে পেতে চায়। তারা তাদের গণতন্ত্রের অধিকার ফিরে পেতে চায়।
মার্টিন লুথার কিং–এর ‘আই হ্যাভ অ্যা ড্রিম’ উক্তির উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান।’ দেশকে গড়ে তুলতে পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, প্রত্যেক মানুষের সহযোগিতা তাঁর প্রয়োজন। তাহলে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে বলেন তিনি। মঞ্চ থেকে তিনি বলেছেন, আমাদের সময় এসেছে সকলে মিলে দেশ গড়বো। এ দেশে পাহাড়ের, সমতলের, মুসলমান, হিন্দু বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবাই আছে। আমরা নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। যে বাংলাদেশে একজন নারী, পুরুষ, শিশু যেই হোক না কেন নিরাপদে ঘর থেকে বের হলে, যেন নিরাপদে ফিরতে পারে।
শহীদ ওসমান হাদিকে স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, ওসমান হাদি চেয়েছিলেন এদেশের মানুষ অর্থনৈতিক অধিকার ফিরে পাক। ৭১ এ যারা শহীদ হয়েছে, ২৪ এ যারা শহীদ হয়েছে তাদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হলে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
তরুণ প্রজন্মই আগামীতে দেশ গড়ে তুলবে বলেন তিনি। গণতান্ত্রিক, শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর দেশকে গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি। তিনি পরপর তিনবার বলেন আমরা দেশের শান্তি চাই।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল বিএনপির তরফে দাবি করা হয়েছে, অনুষ্ঠানে প্রায় ৫০ লক্ষ মানুষের জমায়েত হয়েছিল।
লন্ডন থেকে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন এমন এক সময়ে ঘটল, যখন গত বছর ছাত্র-আন্দোলনের জেরে দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী ও জিয়া পরিবারের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর বিএনপি রাজনৈতিকভাবে চাঙ্গা। ১৯৯১ সাল থেকে, অল্প কিছু অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বাদ দিলে, খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনাই পর্যায়ক্রমে ক্ষমতায় থেকেছেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের ডিসেম্বর মাসের এক সমীক্ষায় ইঙ্গিত মিলেছে, আসন্ন নির্বাচনে সংসদের সবচেয়ে বেশি আসন জয়ের পথে রয়েছে বিএনপি। পাশাপাশি ইসলামি দল জামায়াতে ইসলামিও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে। নির্বাচনে নিষিদ্ধ হওয়া শেখ হাসিনার আওয়ামি লিগ অশান্তির হুমকি দিয়েছে, যা ভোট প্রক্রিয়াকে বিঘ্নিত করতে পারে বলে আশঙ্কা।
জনসভা থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালের উদ্দেশে যাচ্ছেন তারেক রহমান। গত এক মাসের বেশি সময় ধরে চিকিৎসাধীন তাঁর অসুস্থ মা, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে। এরপর তিনি পরিবারের সঙ্গে গুলশান-২-এর জিয়া পরিবারের বাসভবন ‘ফিরোজা’-য় যাবেন।
❤ Support Us







