Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • আগস্ট ৭, ২০২৫

ছাঁটাই-উৎসবের মাঝে ‘উপহার’! সেপ্টেম্বর থেকে ৪.৫ লক্ষ কর্মীর বেতন বাড়াচ্ছে টিসিএস

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ছাঁটাই-উৎসবের মাঝে ‘উপহার’! সেপ্টেম্বর থেকে ৪.৫ লক্ষ কর্মীর বেতন বাড়াচ্ছে টিসিএস

এক দিকে প্রায় ১২ হাজার মধ্য ও উচ্চপদস্থ কর্মীদের ছাঁটাই। অন্য দিকে ৪.৫ লক্ষ কর্মীর বেতনবৃদ্ধি। একযোগে বিপরীতমুখী দুই সিদ্ধান্তে চমক লাগাল দেশের বৃহত্তম তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস, সংক্ষেপে টিসিএস। বুধবার কর্মীদের কাছে পাঠানো এক অভ্যন্তরীণ ইমেলে সংস্থার মানবসম্পদ আধিকারিক মিলিন্দ লাক্কড় এবং নতুন মানবসম্পদ প্রধান হিসেবে নিযুক্ত কে সুদীপ জানিয়েছেন, সংস্থার মোট কর্মীবাহিনীর প্রায় ৮০ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ৪ লক্ষ পঞ্চাশ হাজার কর্মীর বেতন আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে বাড়ানো হবে। মূলত সংস্থার জুনিয়র থেকে মধ্যম স্তরের কর্মীরা এই বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির আওতায় আছেন।

সম্প্রতি, টিসিএস জানিয়ে দিয়েছিল, চলতি অর্থবর্ষে সংস্থার প্রায় ১২ হাজার কর্মীকে ছাঁটাই করে দেওয়া হবে। তালিকায় রয়েছেন মাঝারি ও উচ্চপদস্থ কর্মীরা। সংস্থার ভাষায়, এটি একটি ‘স্ট্র্যাটেজিক ওয়ার্কফোর্স রিয়্যালাইনমেন্ট’। সংস্থা বলেছে, প্রযুক্তির রূপরেখা বদলাচ্ছে, এবং সেইসঙ্গে বদলাচ্ছে টিসিএস-এর ব্যবসার ধরনও। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, নতুন বাজারে প্রবেশ, বৃহত্তর প্রযুক্তি-সহযোগিতা এবং পরিকাঠামোর রূপান্তর, সব মিলিয়ে টিসিএস নিজেদের ভবিষ্যতের উপযুক্ত করে তুলতে চায়। তার জন্য কর্মীবাহিনীকেও নতুন রূপেগড়ে তুলতে হচ্ছে। আর দ্রুতগামী বদলের কোপে পড়তে হচ্ছে বহু অভিজ্ঞ কর্মীকেই, যাঁদের পুনঃনিয়োগ বা পুনর্বিন্যাস সংস্থার পক্ষে আর সম্ভব নয়।

তবে সংস্থার বিশাল অংশের কর্মীরা যে, চলতি অর্থবর্ষেও ইনক্রিমেন্ট পাচ্ছেন, তা স্পষ্ট করেছে সংস্থা। জানানো হয়েছে, সি-১, সি-২ এবং সি-৩এ— এই ৩টি গ্রেড পর্যন্ত কর্মীরা, যাঁদের বার্ষিক বেতন প্রায় ১৫ থেকে ৩৫ লক্ষ টাকার মধ্যে, তাঁরাই মূলত বেতন বৃদ্ধির সুবিধা পাবেন। দেশের বাইরে কাজ করা কর্মীদের জন্য বেতনবৃদ্ধির হার ধার্য হয়েছে ২ থেকে ৪ শতাংশ। আর দেশে বসে কাজ করা কর্মীরা অর্থাৎ ‘অফশোর’ কর্মীরা পাবেন ৬ থেকে ৮ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি। গত বছর টিসিএস যে হারে বেতন বাড়িয়েছিল, এবারেও একই ধারা বজায় রয়েছে বলেই মনে করছেন কর্মী মহল। যদিও সংস্থা এখনো পর্যন্ত গড় ইনক্রিমেন্টের হার বা পারফর্মেন্স-ভিত্তিক বৃদ্ধি সম্পর্কে কোনো ঘোষণা করেনি। জেনে রাখা দরকার, গত বছর টিসিএস-এর বেতন বৃদ্ধির হার ছিল ৪.৫ থেকে ৭ শতাংশের মধ্যে। সেরা কর্মীরা পেয়েছিলেন ১০ শতাংশ বা তারো বেশি। সংস্থা সূত্রে জানা যাচ্ছে, এ বছর, এপ্রিল মাসেই বেতন বৃদ্ধি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, ক্লায়েন্টদের অনিশ্চিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, আমেরিকার শুল্ক নীতি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব, সব কিছু মিলিয়ে পরিস্থিতি এতটাই অনিশ্চিত ছিল যে সংস্থা তা কয়েক মাস পিছিয়ে দেয়। শেষ পর্যন্ত আগস্টের শুরুতেই সংস্থা জানিয়ে দিল, ১ সেপ্টেম্বর থেকেই কার্যকর হবে নতুন বেতন কাঠামো।

আইটি বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি খাত এ মুহূর্তে গভীর পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। টিসিএস-এর সিদ্ধান্ত যুগান্তকারী পরিবর্তনেরই প্রতিফলন। এক দিকে সংস্থা চাইছে খরচ কমাতে, অন্য দিকে ভবিষ্যতের উপযুক্ত কর্মীবাহিনী গড়তে। সে কারণে নতুন প্রযুক্তি ও তরুণ প্রতিভা ধরে রাখাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, অভিজ্ঞ ও বেশি বেতন পাওয়া কর্মীদের সরিয়ে অপেক্ষাকৃত কম বেতনে দক্ষ কর্মী নিয়োগ করাই এই রদবদলের উদ্দেশ্য। টাটা গ্রুপের অন্যতম সংস্থার এহেন দ্বৈত সিদ্ধান্তে কর্মীদের মনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। কেউ বলছেন, সংস্থার পদক্ষেপ বাস্তবসম্মত। আবার কারো মতে, এ শুধুই এক ধরনের ‘কস্ট কাটিং’-এর অজুহাত।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!