- এই মুহূর্তে দে । শ
- ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৫
কৃষি পণ্য বিপণন নিয়ে কেন্দ্রের সরকারের খসড়া নীতি, বিরোধিতায় ফের পথে কিষান মোর্চা ।
আবার কী মোদি সরকার কৃষক আন্দোলনের মুখোমুখি দাঁড়াতে চলেছে ? কৃষি পণ্য বিপণনের জাতীয় নীতি বা ‘ন্যাশনাল পলিসি ফ্রেমওয়ার্ক অন এগ্রিকালচার মার্কেটিং’-এর খসড়া নিয়েও একই দৃশ্য তৈরি হবে ?
কেন্দ্রীয় সরকারের জারি করা জাতীয় কৃষিপণ্য বিপণন সংক্রান্ত খসড়ার বিরুদ্ধে প্রস্তাব এনেছে পাঞ্জাব সরকার। পশ্চিমবঙ্গ সহ বাকি অ-বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোও এমন প্রস্তাব আনুক, দাবি জানিয়েছে সংযুক্ত কিষান মোর্চা। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রের নয়া নীতির বিরোধিতা করেছেন।কৃষি বিপণনের ক্ষেত্রে রাজ্যভিত্তিক নীতিই এগিয়ে যাওয়ার পথ, দাবি বিরোধীদের। তাঁরা মনে করছেন নয়া আইনের সঙ্গে বাতিল হয়ে যাওয়া ৩ টি ‘কালো কৃষিআইন’-এর মিল রয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট ইতিমধ্যে কৃষকদের সাথে সম্পর্কিত বিষয়ে পর্যবেক্ষণ আলোচনার জন্য বিশেষ কমিটি তৈরি করেছে, এরকম সময়ে মোদি সরকারের নয়া খসড়া প্রস্তাব দেশজুড়ে আবার আন্দোলনের পরিবেশ সৃষ্টি করছে।
কৃষকরা ফসলের ন্যূনতম সমর্থন মূল্য এবং ৬০ বছরের বেশি বয়সী কৃষকদের জন্য পেনশনের আইনি গ্যারান্টি চেয়ে পথে নেমেছেন অল ইন্ডিয়া কিষান ও ক্ষেত মজদুর সংগঠন। গত মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন ‘কৃষি বিপণন সংক্রান্ত জাতীয় নীতি কাঠামো’ খসড়ার প্রতিবাদে কলকাতার শহীদ মিনার মাঠে একটি গণ সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল। বক্তব্যে, নেতারা রাজ্যসরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, যাতে অবিলম্বে কেন্দ্রের নয়া ‘কৃষি নীতি’র বিরোধী প্রস্তাব বিধানসভায় পাশ করানো হয়। খসড়া নীতিমালায় কৃষি সংকট সম্পর্কে ধারণার অভাব রয়েছে, কৃষিক্ষেত্রকে বেসরকারিকরণের মরিয়া চেষ্টা করছে কেন্দ্র সরকার– এই অভিযোগ তুলে ধরেছেন কৃষক-ক্ষেতমজুর সংগঠনগুলির নেতারা। মোদি সরকার খসড়ায় বলেছে, ‘নতুন খসড়া নীতির প্রণয়নে কেন্দ্রের লক্ষ্য দেশে একটি প্রাণবন্ত বিপণন ব্যবস্থা তৈরি করা, যেখানে সমস্ত শ্রেণীর কৃষকরা তাদের পণ্যের সর্বোত্তম মূল্য পাবার জন্য, তাঁদের পছন্দের বাজার খুঁজে নিতে পারে। ফসল বিক্রির ক্ষেত্রে কোনো বাধ্যবাধকতা থাকবে না। দক্ষতা, প্রতিযোগিতা, একাধিক পরিসর, স্বচ্ছতা, আধুনিকীকরণ, শক্তিশালী কাঠামো এর মাধ্যমে বাজারের একচেটিয়া বদ্ধাবস্থা কাটিয়ে তোলা যাবে।
যদিও সংযুক্ত কিসান মোর্চার তরফে নতুন নীতি সম্পর্কে বিপরীত কথা বলা হয়েছে। ভারতের সোশ্যালিস্ট ইউনিটি সেন্টার [কমিউনিস্ট] পার্টির সাথে সংযুক্ত, কৃষক সংগঠন এআইকেকেএমএস-এর মতে, নতুন খসড়া নীতি বড় কর্পোরেট এবং সিন্ডিকেটদের হাতে কৃষিক্ষেত্র দখলের অধিকার তুলে দেবে। এআইকেএমএস -এর সাধারণ সম্পাদক শঙ্কর ঘোষ সমাবেশে বলেছেন, ‘কেন্দ্রের বিজেপি সরকার যে নতুন খসড়া নীতি চালু করেছে, তাতে সমগ্র কৃষিক্ষেত্রকে কর্পোরেট পুঁজির হাতে ও দালালদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। কৃষকরা তাদের ফসলের ন্যায্য মূল্য পাবে না। কৃষক সহ, দেশের সাধারণ সকল মানুষকে বেসরকারী কোম্পানির নির্ধারিত দামে খাদ্য সামগ্রী কিনতে হবে।’
এআইকেএমএস, কৃষকদের ঋণ মকুব, স্বামীনাথন কমিশনের সুপারিশ করা নূন্যতম সহায়ক মূল্যের জন্য গ্যারান্টি আইন, ও বিদ্যুৎ সংশোধনী বিধি-২০২৩ বাতিল সহ বেশকিছু দাবি তুলেছে। কৃষক ও কৃষি শ্রমিক সংগঠনগুলি জব-কার্ডধারীদের জন্য ৬০০ টাকা দৈনিক মজুরিতে ২০০ দিনের কাজ ও ৬০ বছর বেশি বয়সী কৃষকদের জন্য মাসিক ১০,০০০ টাকা পেনশনের কথা বলেছে। এই সমাবেশে, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে ১১,০০০ এরও বেশি কৃষক ও ক্ষেতমজুর ও শ্রমিক কলকাতায় জড়ো হয়েছিলেন। যেখানে এআইকেকেএমএস-এর রাজ্য সম্পাদক গোপাল বিশ্বাস, রাজ্য সভাপতি পঞ্চানন প্রধান আর অন্যান্য কৃষক নেতারা বক্তব্য রাখেন।
আবার কী মোদি সরকার কৃষক আন্দোলনের মুখোমুখি দাঁড়াতে চলেছে ? এর আগে দেশজুড়ে কৃষকদের লাগাতার আন্দোলনের ফলে, তিন কৃষি আইন প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছিল কেন্দ্র সরকার। কৃষি পণ্য বিপণনের জাতীয় নীতি বা ‘ন্যাশনাল পলিসি ফ্রেমওয়ার্ক অন এগ্রিকালচার মার্কেটিং’-এর খসড়া নিয়েও একই দৃশ্য তৈরি হবে ? পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী খসড়ার বিরোধিতা করলেও, বিধানসভায় তৃণমূলের তরফে কেন্দ্রের কৃষি বিপণন নীতির বিরুদ্ধে কোনো প্রস্তাব আসেনি। সংযুক্ত কিসান মোর্চার নেতারা বাংলা, কেরালা, কর্ণাটক, তেলেঙ্গানা, ঝাড়খণ্ডের মতো বিরোধী শাসিত রাজ্যেগুলির কাছে পাঞ্জাবের মতো কেন্দ্রের নইয়া নীতিমালা বিরোধী প্রস্তাব আনবার দাবি তুলেছেন। বিহারে ২৪-২৬ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা এ নিয়ে গণ-বিক্ষোভ কর্মসূচী করেছেন।
❤ Support Us







