- এই মুহূর্তে দে । শ
- ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৫
মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের যাতায়াতের সহায়তায় তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠন
মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের পাশে তৃণমূলের পূর্ব বর্ধমান জেলা শ্রমিক সংগঠন। পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া ও পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্য চালু করল বিনা পয়সায় টোটো পরিষেবা। কালনা শহরে এই পরিষেবার সূচনা করেন তৃণমূলের জেলা শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি সন্দীপ বসু। তিনি বললেন, ‘গতবারও আমরা জেলাজুড়ে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য এরকম টোটো পরিষেবা দিয়েছি।’ যোগ করেন, ‘বাড়তি হিসেবে এবার নিখরচার অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা চালু করেছি। পরীক্ষার আগে, পরীক্ষা কেন্দ্রে বা পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি ফেরার সময় যদি কোনও পরীক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে, অ্যাম্বুলেন্স পাঠিয়ে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হবে। কোনও খরচ লাগবে না।’ সুবিধার জন্য সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রতিটি স্কুলে অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা পেতে যোগাযোগের ফোন নম্বর পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও পরীক্ষার প্রথম দিন বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্রের সামনে পরীক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানাতে পেন, গোলাপ, জলের বোতল তুলে দেওয়া হয়। সন্দীপবাবুদের সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষিকারা। এদিকে নাদনঘাটের নসরৎপুর ফেরিঘাট কর্তৃপক্ষ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের বিনা পয়সায় ভাগীরথী পারাপার করাচ্ছেন। নদীর এক পাড়ে ফকিরডাঙা উচ্চবিদ্যালয়ের ১১৯ জন পরীক্ষার্থীর সিট পড়েছে অন্য পাড়ের নবদ্বীপ গার্লস হাইস্কুলে। নদী পেরিয়ে ট্রেন ধরে পরীক্ষাকেন্দ্রে যেতে হচ্ছে পরীক্ষার্থীদের। ফেরিঘাট কর্তৃপক্ষের তরফে মোবিন হোসেন মণ্ডল বললেন, ‘পরীক্ষা একটি জরুরি ব্যাপার। তাই আমরা ঠিক করেছি পরীক্ষার দিনগুলোয় পরীক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দিয়ে কোনও ভাড়া না নিয়ে পারাপার করাব।’ ফেরিঘাট কর্তৃপক্ষের বদান্যতায় খুশি পরীক্ষার্থীরা। এদিকে রাজ্য তৃণমূল আদিবাসী সংগঠনের সভাপতি দেবু টুডু বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্রে গিয়ে ‘জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা’ দিতে আসা ছাত্রছাত্রীদের শুভেচ্ছা জানান।
এ বছরে পূর্ব বর্ধমান জেলায় মাধ্যমিক পরীক্ষায় ছাত্রের তুলনায় প্রায় ৫ হাজার বেশি ছাত্রী পরীক্ষা দিচ্ছে। মোট পরীক্ষার্থী ৪৫,৮৪৮ জন। ছাত্র ১৯,৪৪৮ জন ও ছাত্রী ২৬,৪০০ জন। গতবারের তুলনায় এবার ৪ হাজারের উপর পরীক্ষার্থী বেড়েছে। গতবার পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৪১,৬০৬ জন। জেলাজুড়ে মোট পরীক্ষাকেন্দ্র থাকছে ১২৪টি। এর মধ্যে মূল কেন্দ্র ৫৫টি, উপকেন্দ্র ৬৯টি। একইসঙ্গে শুরু হয়েছে হাইমাদ্রাসা, আলিম ও ফাজিলের পরীক্ষা। জেলার ৮টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষাগুলি হচ্ছে। এখানেও ছাত্রের তুলনায় ছাত্রী বেশি। মোট পরীক্ষার্থী ২,১৫৮ জন। ছাত্রী ১,১০৫ ও ছাত্র ১,০৫৩ জন। পরীক্ষার দিনগুলিতে পরীক্ষাসংক্রান্ত বিষয়ে সহযোগিতার জন্য জেলায় কন্ট্রোল রুম (ফোন নম্বর ৯৪৩৪৬৬৮৮৮০ ও ৮০০১৯২৭৪০) খোলা হয়েছে। গৃহীত ব্যবস্থাগুলি হল, প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রে ৩টি করে সিসি ক্যামেরা থাকছে। এক মাস ফুটেজ সংরক্ষিত থাকবে। কালনার নদী তীরবর্তী এলাকাগুলিতে নৌকার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
❤ Support Us







