Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • মে ২৪, ২০২৩

মোদির বিরুদ্ধে জোড়া বয়কট মমতার। নীতি আয়োগের বৈঠকে যাচ্ছেন না মুখ্যমন্ত্রী, নতুন সংসদ ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানেও না

১৯টি বিরোধী দল নতুন সংসদ ভবন উদ্বোধন বয়কটের ডাক দিয়ে বিবৃতি। এই বিবৃতিতে তৃণমূল, কংগ্রেস, সিপিএম, সিপিআই,ডিএমকে,শিবসেনা,সমাজবাদী পার্টি সহ ১৯টি দল সই করেছে

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
মোদির বিরুদ্ধে জোড়া বয়কট মমতার। নীতি আয়োগের বৈঠকে যাচ্ছেন না মুখ্যমন্ত্রী, নতুন সংসদ ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানেও না

নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও চাপ বাড়াচ্ছেন? তেমনই ইঙ্গিত মিলছে মমতার বুধবারের সিদ্ধান্তে। বুধবার সকালেই জানা গেছে,  ২৭ মে দিল্লিতে নীতি আয়োগের বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন না বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি ২৮ মে দিল্লিতে নতুন সংসদ ভবন উদ্বোধনেও যাচ্ছে না তৃণমূলের কোনও প্রতিনিধি। মমতার এই দুই সিদ্ধান্ত অনেক প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। কেউ বলছেন, মমতা মোদির বিরুদ্ধে চাপ বাড়াচ্ছেন, আবার কেউ বলছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়  প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মুখোমুখি হতে চাইছেন না। না হলে পর পর দুদিনের দুটো অনুষ্ঠান কেন বয়কট করল তৃণমূল? প্রসঙ্গত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর আগে নবান্ন থেকে জানিয়েছিলেন তিনি ২৭ মে নীতি আয়োগের বৈঠকে যোগ দিতে দিল্লি যাচ্ছেন। তবে এখন তিনি যাবেন না বলে জানিয়েছেন।


এদিকে মমতার এই নীতি আয়োগের বৈঠকে যোগ দিতে না যাওয়ার সমালোচনা করেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তিনি বলেন, “মমতার উচিত নীতি আয়োগের বৈঠকে যোগ দিয়ে বাংলার প্রাপ্য বুঝে নেওয়া। কেন তিনি যাচ্ছেন না? তাঁর এই সিদ্ধান্ত সঠিক বলে বলে করছি না।”

সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী এই প্রসঙ্গে বলেছেন, “নীতি আয়োগের বৈঠকে গেলে তো রাজ্যের দাবিগুলো তুলে ধরতে পারতেন। কেন্দ্র টাকা দিচ্ছে না বলে বাইরে না বলে আসল জায়গায় দাবিতে তুলে ধরা উচিত। আসলে মুখ্যমন্ত্রী দুর্নীতি আয়োগের বৈঠক হলে যেতেন।”

মুখ্যমন্ত্রী এর আগে নবান্ন থেকে বলেছিলেন, ২৭ মে নীতি আয়োগের বৈঠকে যাওয়ার কথা। পাশাপাশি তিনি বলেছিলেন, “এই বৈঠকে গিয়ে কি লাভ? আমার বলার সময় হয় সবার শেষে। তার পর রাজ্যের দাবিদাওয়া নিয়ে যা বলি তার কিছুই কেন্দ্র দেয় না।”

এদিকে তৃণমূল নেতা শান্তনু সেন বলেন, “পরিকল্পনা কমিশন তুলে দিয়ে নরেন্দ্র মোদির সরকার নীতি আয়োগ করেছেন। নীতি আয়োগের বৈঠকে গিয়ে রাজ্যের দাবি জানালেও সেই কথার মর্যাদা দেয় না কেন্দ্র। তাই এই বৈঠকে গিয়ে কি লাভ?”

এদিকে তৃণমূল সূত্রে জানা যাচ্ছে, এর আগে নীতিশ কুমার, তেজস্বীর যাদবের সঙ্গে মমতার নবান্নে বৈঠক হয়েছে। মঙ্গলবার কথা হয়েছে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের সঙ্গে। তাই ২৭ মে দিল্লিতে নীতি আয়োগের বৈঠকে অন্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর গেলেও বিজেপি বিরোধী জোটের বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই। তাই মমতা শুধু নীতি আয়োগের বৈঠকে যোগ দিতে দিল্লি যাওয়া বাতিল করেছেন। তবে পাটনায় খুব শিগগিরই নীতিশ কুমারের উদ্যোগে বিজেপি বিরোধী জোটের বৈঠক হতে চলেছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই বৈঠকে যোগ  দেবেন বলে তৃণমূল সূত্রে জানা যাচ্ছে। প্রসঙ্গত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মঙ্গলবারই নবান্নে পাঞ্জাব ও দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীকে পাশে বসিয়ে বলেছেন, “দিল্লির সরকার আর ৬ মাস। তার আগেও কোনও অঘটন ঘটে যেতে পারে।” মমতার এই কথায় কোনও ইঙ্গিত আছে বলে তৃণমূলের দাবি।

এদিকে দিল্লিতে নতুন সংসদ ভবন উদ্বোধনেও থাকছে না তৃণমূল প্রতিনিধি। ডেরেক ও’ ব্রায়ান টুইট করে এই কথা জানিয়েছেন। তৃণমূলের এই অনুষ্ঠানে যোগ না দেওয়ার পিছনে কারণ হিসেবে বলেছে, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে দিয়ে সংসদ ভবন উদ্বোধন না করানোর জন্যই তৃণমূল এই অনুষ্ঠানে যাচ্ছে না। ডেরেক তাঁর টুইট এই বিষয়টি স্পষ্ট করে দিয়েছেন।

এদিকে এই প্রসঙ্গে অধীর রঞ্জন চৌধুরী বলেছেন, “তৃণমূল এই বিষয়ে দেরি করে ফেলেছে। অনেক আগেই কংগ্রেস প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছে, গণতন্ত্রের পীঠস্থান উদ্বোধনে রাষ্ট্রপতিকে দিয়ে উদ্বোধন করা হচ্ছে না  বলে কংগ্রেস নতুন সংসদ ভবন উদ্বোধনে যাচ্ছে না। আসলে তৃণমূল এখন কি করবে দিশা পাচ্ছে না।”  তবে তৃণমূলের প্রতিনিধি হিসেবে কাউকে নীতি আয়োগের বৈঠকে পাঠানো হচ্ছে বলে তৃণমূল সূত্রে জানা গেছে।

 


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!