Advertisement
  • দে । শ
  • মার্চ ১৭, ২০২৫

সাঁইবাড়ি গণহত্যা নিয়ে নীরব কেন বাম দোসর কংগ্রেস ? স্মরণ দিবসে প্রশ্ন মন্ত্রী স্বপনের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
সাঁইবাড়ি গণহত্যা নিয়ে নীরব কেন বাম দোসর কংগ্রেস ? স্মরণ দিবসে প্রশ্ন মন্ত্রী স্বপনের

বর্ধমান শহরে সাঁইবাড়ি গণহত্যা দিবসে শহিদ স্মরণে এসে কংগ্রেসের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুললেন রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ। স্বপনবাবুর কথায়, ‘কংগ্রেস করার অপরাধে ১৯৭০ সালের ১৭ মার্চ বর্ধমান শহরের সাঁইবাড়ির তিন ভাই ও তাঁদের গৃহশিক্ষককে নৃশংসভাবে খুন করে সিপিএম। সেটা পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম কালো দিন। সেই দিনটি সম্পর্কে সিপিএমের দোসর কংগ্রেস কী বলবে ?’

তৃণমূলের প্রতিষ্ঠার পর থেকে মমতা ব্যানার্জির নির্দেশে ফি-বছর ১৭ মার্চ বর্ধমান পুরসভার ৩৪নং ওয়ার্ডের রাধানগরপাড়ায় সাঁইবাড়ি লাগোয়া শহিদ বেদিতে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন তৃণমূল নেতৃত্ব। সোমবার মন্ত্রী ছাড়াও শহিদদের শ্রদ্ধা জানান শহরের তৃণমূল নেতৃত্ব ও সাঁই পরিবারের সদস্যরা। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার সেই ‘নারকীয় ঘটনা’র প্রতিবাদ জানাতে ও সাঁই পরিবারের পাশে দাঁড়াতে গণহত্যার ঘটনার পর বর্ধমানে ছুটে এসেছিলেন খোদ ইন্দিরা গান্ধি।

স্বপনবাবু বলেন, ‘খুন, সন্ত্রাসের রাজনীতিই হল সিপিএমের ভূষণ। শুধু সাঁইবাড়ি হত্যাকাণ্ডই নয়, তৃণমূল প্রতিষ্ঠার পর থেকে বর্ধমান জেলায় আমাদের ৫০ জন নেতা-কর্মী সিপিএমের হিংসা-সন্ত্রাসের বলি হয়েছেন। তাই শুধু বিজেপি নয়, সিপিএমের বিরুদ্ধেও আমাদের লড়াই জারি থাকবে।’ আরও বলেন, ‘হত্যাকারী সিপিএমের সঙ্গে কংগ্রেসের আঁতাত যে অশুভ, তা মানুষ উপলব্ধি করেছেন বলেই পরপর ভোটে ওই জোটকে প্রত্যাখ্যান করেছে।’

সাঁই পরিবারের তিন ভাই ও বড়ভাই নবকুমারের মেয়ের গৃহশিক্ষককেও সেদিন নৃশংসভাবে খুন করা হয়। কী হয়েছিল ১৯৭০-র ১৭ মার্চ। খোঁজখবর নিয়ে জানা গেল, সেইসময় কংগ্রেস ও বামেদের যুক্তফ্রন্ট ভাঙার মুখে। সাঁইবাড়ির রাজনৈতিক পরিচিতি আদ্যোপান্ত কংগ্রেসি। বাড়ির তিন ভাই নবকুমার, প্রণব আর মলয়কে দলবদলের জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে সিপিএমের জেলা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে। ১৭ মার্চ ছিল বনধ। বনধের সমর্থনে শহরে বের হয় সিপিএমের আদিবাসী সংগঠনের মিছিল। সেই মিছিল থেকে সাঁইবাড়িতে হামলা হয়। সেদিন ছিল সাঁইবাড়ির মেয়ে স্বর্ণলতা যশের ২১ দিন বয়সী পুত্র অমৃতকুমারের ষষ্ঠী পুজোর আচার পালনের অনুষ্ঠান। বাড়িতে তাই আনন্দের পরিবেশ। মেজভাই প্রণব সকালের জলখাবার খাওয়ার জন্য লুচিটা সবে তরকারির বাটিতে ডুবিয়েছেন, এমন সময় হামলা। বর্শা দিয়ে বিঁধিয়ে বিঁধিয়ে সবার চোখের সামনে মারা হয় প্রণবকে। অবস্থা বেগতিক আঁচ করে পড়ানোর ঘরে খাটের তলায় আশ্রয় নিয়েছিলেন গৃহশিক্ষক মঙ্গলকোটের কোঁয়ারপুরের বাসিন্দা জিতেন্দ্রনাথ রায়। তাঁকে খাটের তলা থেকে হিঁচড়ে বের করে খুন করা হয়। প্রতিবেশীর বাড়িতে পালিয়ে বাঁচতে চাওয়া ছোট ভাই মলয়কেও ধরে ফেলে হামলাকারীর দল। বুকে, পেটে সড়কি, বল্লম বিঁধিয়ে হত্যা করা হয় মলয়কে। ছেলেকে বাঁচাতে গেলে হামলাকারীরা মৃগনয়নাদেবীর মাথায় জোরাল আঘাত করে। তাতেই থেমে যায়নি নৃশংসতা। হাঁড়ি থেকে ভাত বেড়ে সেই ভাতে প্রণব-মলয়ের রক্ত মাখিয়ে মৃগনয়নাদেবীকে খেতে বাধ্য করে হামলাকারীর দল। তারপরও বছর দশেক বেঁচে ছিলেন মৃগনয়না। তবে মাথাটার গণ্ডগোল হয়ে যায়। চোখের সামনে ২ ছেলেকে খুন হতে দেখে কার আর মাথা ঠিক থাকে? তবে যে ক’বছর মৃগনয়না বেঁচেছিলেন, মুখে ভাত তুলতে পারতেন না। ভাতের রং দুধসাদা হলেও মৃগনয়না লাল দেখতেন। কেবলই মনে হত, কে রক্ত মেখে দিয়েছে। ভাতের থালা ঠেলে সরিয়ে দিতেন।

তবে ২ ছেলেকে মেরেই ক্ষান্ত হয়নি আক্রমণকারীরা। ১৯৭০-র পরের বছরই রোষের শিকার হতে হয় বড় ভাই নবকুমার সাঁইকে। অ্যাসিড ছুঁড়ে চোখ উপড়ে তাকে খুন করা হয়। দল বদলাতে না চাওয়ার এমন নৃশংস খেসারতের ঘটনা বর্ধমান জেলার রাজনৈতিক ইতিহাসের পাতায় আজও দগদগে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!