Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • আগস্ট ১২, ২০২৫

বাঁকুড়ায় শাসক দলের নেতাকে প্রকাশ্যে গুলি ! অভিযোগের তির বিজেপি-সিপিএমের দিকে

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বাঁকুড়ায় শাসক দলের নেতাকে প্রকাশ্যে গুলি ! অভিযোগের তির বিজেপি-সিপিএমের দিকে

প্রতীকী ছবি ।

আবার রক্তাক্ত সোনামুখী। সোমবার রাতে প্রকাশ্যে গুলি করে খুন করা হল তৃণমূলের এক বুথ আহ্বায়ককে। নিহতের নাম সেকেন্দার খাঁ ওরফে সায়ন খাঁ। বয়স ৪২ বছর। ঘটনাটি ঘটেছে সোনামুখী থানার চকাই গ্রামে। ঘটনার জেরে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে। তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, পরিকল্পিত ভাবে খুন করা হয়েছে সায়নকে। অভিযোগের তির সরাসরি বিজেপি ও সিপিএমের দিকে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রাত ৯টা নাগাদ পখন্না বাজার থেকে বাইকে করে নিজের বাড়ি ফিরছিলেন সায়ন। সে সময় চকাই গ্রামের ঢোকার মুখে সেচ খালের পাশে ওঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, পিঠ ও মাথায় গুলি লাগলে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন সায়ন। ছুটে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় সোনামুখী থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। দেহ উদ্ধার করে সোনামুখী গ্রামীণ হাসপাতালে পাঠানো হলে, চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় বাঁকুড়া জুড়ে রাজনীতির পারদ চড়েছে। বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার তৃণমূল সভাপতি সুব্রত দত্ত সরাসরি বিজেপি ও সিপিএমকে দায়ী করে অভিযোগ তুলেছেন, ‘২০২৬-র ভোটে সোনামুখীতে নিশ্চিত পরাজয় বুঝে বিজেপি-সিপিএম মিলেই আমাদের নেতাকে খুন করেছে। সায়ন অত্যন্ত দক্ষ সংগঠক ছিলেন। তাই পরিকল্পনা করেই তাঁকে সরানো হয়েছে।’ যদিও সব অভিযোগ নস্যাৎ করে সোনামুখীর বিজেপি বিধায়ক দিবাকর ঘরামী বলেছেন, ‘তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বই এই খুনের পিছনে রয়েছে। টাকার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে নিজেরাই মারামারিতে জড়িয়েছে। বিজেপির সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই।’

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সায়ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের সংগঠক হিসাবে কাজ করছিলেন। সম্প্রতি দলের অভ্যন্তরে বেশ কিছু বিষয়ে মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল। গত ২ মার্চ ওই গ্রামেই তৃণমূলের ২ গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হন এক তৃণমূল নেতা। ৬ মাস কাটতে না কাটতেই একই এলাকায় ফের খুন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এলাকাটিতে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিবাদই ক্রমশ ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। পুলিশ সূত্রে খবর, এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি। তবে ২ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ। পুলিশের এক আধিকারিক জানান, ‘সব দিক খতিয়ে দেখেই তদন্ত এগোচ্ছে। ব্যক্তিগত শত্রুতা, গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য, সব সম্ভাবনাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ চকাই গ্রামে আতঙ্ক এখনো কাটেনি। দলীয় নেতার মৃত্যুর খবর পেয়ে রাতেই সোনামুখী গ্রামীণ হাসপাতালে ছুটে যান তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বরা। উপস্থিত ছিলেন বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সুব্রত দত্ত, সোনামুখীর পুরপ্রধান সন্তোষ মুখোপাধ্যায়, উপ পুরপ্রধান সোমনাথ মুখোপাধ্যায় সহ একাধিক নেতা। তাঁদের অভিযোগ, এলাকায় তৃণমূলের শক্তিকে ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা চলছে, এটা তারই অঙ্গ।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!