Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • মার্চ ৪, ২০২৫

এপিক কার্ডের নম্বর বিভ্রাট বিতর্কে ‘রুল বুক’ খুলে কমিশনের জবাব চাইলো তৃণমূল

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
এপিক কার্ডের নম্বর বিভ্রাট বিতর্কে ‘রুল বুক’ খুলে কমিশনের জবাব চাইলো তৃণমূল

‘এপিক কেলেঙ্কারি’ নিয়ে নির্বাচনের কমিশনকে ভুল স্বীকার করবার জন্য ২৪ ঘন্টা সময় বেঁধে দিয়েছিল। নির্ধারিত সময়ে কাজ না হলে, কমিশনের বিরুদ্ধে আরো তথ্যপ্রকাশ করবার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেকে ও’ব্রায়েন। কথা মোতাবেক মঙ্গলবার সকালেই কমিশনের বিরুদ্ধে ফের সরব তৃণমূল।

একই এপিক নাম্বারে ২ জন ভোটার। একজন বাংলার, অপরজন হরিয়ানা কিংবা রাজস্থানের। ‘ভুয়ো ভোটার’ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ ঘিরে সরগরম বাংলা। উত্তাপ্তের আঁচ লেগেছে জাতীয় স্তরেও। বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে এই ‘কেলেঙ্কারি’র সঙ্গে যুক্ত থাকবার গুরুতর অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে ভোটার যাচাই করবার কাজ শুরু করেছে জোড়াফুল শিবিরের নেতাকর্মীরা। মমতা ব্যানার্জীর অভিযোগের পাল্টা বিবৃতি প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। তাতে বলা হয়েছে, একই এপিক নম্বরে দুই রাজ্যে ভোটার থাকা মানেই তা ভুয়ো নয়। তাদের যুক্তি, যেহেতু এই ভোটার কার্ড বা এপিক কার্ড তৈরির ক্ষেত্রে বিকেন্দ্রিক ও ম্যানুয়াল মেকানিজম ব্যবহার করা হয়। সেহেতু অনেক সময়ই দু’টি রাজ্যে একই আলফা-নিউম্যারিক নম্বর তৈরির সম্ভবনা বেড়ে যায়।’ পাশাপাশি ত্রুটি সংশোধনের আশ্বাসও দেওয়া হয়। কিন্তু সেসব মানতে নারাজ তৃণমূল কংগ্রেস। ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে কোনো ঝুঁকি নিতে রাজি নন মুখ্যমন্ত্রী।

সোমবার দিল্লিতে ভোটার তালিকায় এপিক নাম্বার সম্পর্কিত কারচুপির অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। দিল্লিতে সাংবাদিক সম্মেলন করে রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন, সাংসদ কীর্তি আজাদ ও সাগরিকা ঘোষ হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ২৪ মধ্যে কমিশন ভুল স্বীকার করে পদক্ষেপ না নিলে, দলের তরফে আরো তথ্য প্রকাশ করা হবে। কথা মোতাবেক মঙ্গলবার সকালেই কমিশনের বিরুদ্ধে ফের সরব হয়েছে তৃণমূল। একইসঙ্গে একই নাম্বারের ২ টি এপিক থাকতে পারে বলে, নির্বাচন কমিশনের দাবীকে খারিজ করে দিয়েছে জোড়াফুল শিবির। তাঁরা এটিকে ‘শাক দিয়ে মাছ ঢাকবার’ ব্যর্থ প্রচেষ্টা বলে মনে করছেন। মঙ্গলবার, তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সাকেত গোখলে নিজের X-হ্যান্ডেলে ‘নির্বাচনী কর্মকর্তাদের জন্য নিয়মাবলি’ হ্যান্ডবুক থেকে বিশেষ অংশ শেয়ার করে কমিশনকে একহাত নিয়েছেন। সাংসদের দাবি, যে আলফা-নিউম্যারিক নম্বর নিয়ে এত বিতর্ক, সেই নম্বর প্রতিটি ভোটারের বিধানসভা কেন্দ্রের নাম ও ভোটারের পরিচয়ের ভিত্তিতে তৈরি হয়। অর্থাৎ প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্র বিশেষে তৈরি হবে ভিন্ন ভিন্ন এপিক নম্বর।’ গতকাল ডেরেক ও’ব্রায়েন দাবি করেছিলেন, ‘আমরা চাই শুধুমাত্র রাজ্যের বাসিন্দারা সেই রাজ্যে ভোট দিন। শুধুমাত্র বাংলার ভোটাররাই বাংলায় ভোট দেবেন… অন্য রাজ্যের ভোটারদের ভোট দেওয়ার অনুমতি দেওয়া যেতে পারে না, কারণ তাঁদের এপিক নাম্বার দুই রাজ্যেই মিলে যাচ্ছে’ –সে কথা উল্লেখ করে গোখলে বলেছেন, রাজ্যে ভোট দেওয়ার জন্য, অন্য রাজ্যের বাসিন্দাদের অবৈধভাবে আনা হবে। এটি কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

নির্বাচন কমিশন তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করেছিল, একই ‘আলফানিউমেরিক সিরিজ’ ব্যবহার করে নির্দিষ্ট রাজ্যগুলির কারণে একাধিক ভোটারকে একই নম্বরের এপিক কার্ড জারি করা হয়েছিল, সাংসদ হ্যান্ডবুক থেকে উদ্ধৃত করে দাবি করেছেন, ‘প্রতিটা বিধানসভার জন্য সিরিয়াল নাম্বার আলাদা হয়। ৩টি অক্ষর ও ৭ অঙ্কের বর্ণানুক্রমিক বিশেষ অনন্য ক্রম ব্যবহার করা হয়। অতএব দুটি ভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্রেই ভোতারদের এপিকের প্রথম ৩টি বিশেষ অক্ষর এক থাকা অসম্ভব। তাহলে পশ্চিমবঙ্গের ভোটারদের এপিকের হুবহু এক নাম্বারগুলি কীভাবে হরিয়ানা, গুজরাট, রাজস্থানের বাসিন্দাদের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ? তৃণমূল সাংসদ আরও দাবি করেন, কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী যদি ছবি আলাদা হয়েও থাকে, তবে এক নম্বর থাকা ভোটারের ভোটের ক্ষেত্রে অসুবিধা হতে পারে। বিশেষ করে, যদি কোনো একজন ভোটার বিরোধী দলের সমর্থক হন আর ভোট কেন্দ্রের অফিসার তার সম্পর্কে আগে থেকে অবগত থাকেন, তবে তার ভোট বাতিল করার জন্য কমিশনের এপিক নম্বরের ভিত্তিতে তার ছবি ভিন্ন হওয়ার কারণ দেখিয়ে তার ভোট বাতিল করা সহজ হয়ে যাবে।

 

গোখলে বলেলেন, ‘এই ‘কেলেঙ্কারি’র ফলে ভারতের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। সাধারণ মানুষের ভোটদানের প্রতি আস্থা কমতে পারে। নির্বাচন কমিশনের ক্রিয়াকলাপ সম্পর্কে প্রশ্ন উঠছে । নরেন্দ্র মোদি সরকারের আমলে ৩ সদস্যের বিশেষ প্যানেল দিয়েই নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ করা হয়, সে প্যানেলের ২ সদস্য প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে। ফলে সহজেই অনুমান করা যায় কাদের নির্দেশে, কীভাবে ‘ভোট জালিয়াতি’র ঘটনা ঘটতে পারে। বিভিন্ন রাজ্যে অ-বিজেপি এলাকায় ভোটারদের বিরদ্ধে বিশাল এক ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। এপিক নাম্বারের গোলমাল করে প্রকৃত ভোটারদের বঞ্চিত করতে চায় ওঁরা। যদি বিজেপির সঙ্গে ইলেকশন কমিশন আপোষ করে, তাহলে অবাধ ও স্বচ্ছ নির্বাচন হওয়া অসম্ভব। ইসিকে দ্রুত এ বিষয়ে তথ্য প্রকাশ করে জানাতে হবে, দেশে মোট কতগুলি একই নাম্বারের এপিক কার্ড রয়েছে এবং সেগুলি সংশোধনের জন্য কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’ পাশাপাশি ডুপ্লিকেট ভোটার আইডি ‘কেলেঙ্কারি’র নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করেছেন তিনি।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!