- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- মার্চ ৭, ২০২৬
বিরোধীদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা ! লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার অপসারণ প্রস্তাবে সমর্থনের সিদ্ধান্ত তৃণমূলের
লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা-এর বিরুদ্ধে আনা ‘ইন্ডিয়া’ জোটের অনাস্থা প্রস্তাবকে এবার সমর্থন জানানোর সিদ্ধান্ত পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের। সূত্রের খবর, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর নির্দেশে তৃণমূলের সাংসদরা বিরোধীদের সঙ্গে একযোগে স্পিকারের বিরুদ্ধে আনা অপসারণ প্রস্তাবে সই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
গত ১০ ফেব্রুয়ারি বাজেট অধিবেশনের প্রথম দফায় কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, ডিএমকে, শিবসেনা (ইউবিটি) এবং এনসিপি (শরদ) একযোগে স্পিকারের ‘পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ’ অভিযোগ করে নোটিস জমা দিয়েছিল। কিন্তু তাতে তৃণমূলের কোনো সাংসদের স্বাক্ষর ছিল না। ওই সময় তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, কংগ্রেসের উদ্যোগে প্রস্তাব আনা হলেও, বিজেপি-বিরোধী মঞ্চের সঙ্গে সমন্বয় না হলে দল সই করবে না। ‘বিজেপিকে কিছুটা সময় না দিলে বিরোধী শিবিরের সঙ্গে আমাদের পার্থক্য কোথায়?’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এমন মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। তৃণমূলের সঙ্গে বিরোধী শিবিরের কিছুটা দূরত্বও তৈরি হয়েছিল। তবে, এবার শর্ত পূরণ হওয়ায় তৃণমূলও বাকি বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে অবস্থান নিতে প্রস্তুত।
বিরোধীদের অভিযোগ, স্পিকার বিড়লা বাজেট অধিবেশনে বিরোধী দলের বক্তব্য রাখার সুযোগ যথাযথভাবে দেননি। ৮ জন সাংসদকে একতরফা সাসপেন্ড করার পাশাপাশি রাষ্ট্রপতির ভাষণের ধন্যবাদজ্ঞাপন পর্বেও তাদের বক্তব্য রাখতে বাধা দেওয়া হয়েছিল। কংগ্রেসের সহকারী দলনেতা গৌরব গগৈ ১০ ফেব্রুয়ারি বলেছেন, ‘প্রচণ্ড পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের প্রতিবাদেই আমরা স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনেছি।’ সংবিধানের ৯৪(সি) অনুচ্ছেদের আওতায় স্পিকারের অপসারণ সম্ভব। তবে এজন্য লোকসভার সাংসদদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট প্রয়োজন। নোটিস জমা দেওয়ার জন্য কমপক্ষে ২ জন সাংসদের স্বাক্ষর প্রয়োজন, কিন্তু সর্বোচ্চ সীমা নেই। এবারের প্রস্তাবে ইতিমধ্যেই প্রায় ১২০ জন সাংসদ সই করেছেন। নোটিস গৃহীত হলে আলোচনার সময় পর্যন্ত স্পিকার অধিবেশন পরিচালনা করবেন না; ডেপুটি স্পিকার বা রাষ্ট্রপতির নিযুক্ত সাংসদ সেশন পরিচালনা করবেন।
আগামী সোমবার, ৯ মার্চ থেকে শুরু হতে চলা বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্বকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই সংসদীয় মহলে উত্তাপ চোখে পড়ছে। বোঝাই যাচ্ছে, বিরোধীরা স্পিকারের অপসারণ নিয়ে প্রবলভাবেই সরব হবে, তৃণমূলের সমর্থন এ অভিযানে নতুন গতি যোগ করবে। তৃণমূলের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, সংসদের কার্যপ্রণালীতে বিরোধী দলের বক্তব্য যথাযথভাবে তুলে ধরা হচ্ছে না। সেই কারণেই এই পদক্ষেপ। শাসক-বিরোধী দু-পক্ষই হুইপ জারি করেছে। বিজেপি ৯ ও ১০ মার্চ, কংগ্রেস ৯ থেকে ১১ মার্চ সাংসদদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে চূড়ান্ত নির্দেশ দিয়েছে। ফলে বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্বের শুরুতেই লোকসভায় রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছাবে। স্পিকারকে ঘিরে বিরোধ কতটা প্রসারিত হবে, এবং সংসদের কার্যক্রমে এর প্রভাব কেমন হবে—এটি এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
❤ Support Us






