Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৩

বিজেপি বিরোধী “ইন্ডিয়া” জোটের স্বার্থে অসমে তৃণমূলকে আসন ছাড়তে রাজি কংগ্রেস !

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বিজেপি বিরোধী “ইন্ডিয়া” জোটের স্বার্থে অসমে তৃণমূলকে আসন ছাড়তে রাজি কংগ্রেস !

এবার কী বাংলায় তৃণমূলের সঙ্গে আসন রফায় যাবে কংগ্রেস? অধীর রঞ্জন চৌধুরীর তাহলে কী হবে? এই প্রশ্নের মাঝেই “ইন্ডিয়া” জোটের স্বার্থে অসমে তৃণমূল কংগ্রেসকে আসন ছাড়তে কোনও সমস্যা নেই বলে জানিয়েছে কংগ্রেস। প্রাথমিকভাবে এমন ইঙ্গিতই পাওয়া গেছে কংগ্রেসের তরফে।

গত মঙ্গলবার কলকাতায় গিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে একান্তে সাক্ষাৎ করেছেন দলের অসম রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি রিপুন বোরা। সেখানেই কার্যত চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে যে, আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে অসমে প্রার্থী দেবে তৃণমূল কংগ্রেস। জানা গিয়েছে, দুই থেকে পাঁচটি আসনে প্রার্থী দিতে চাইছে তৃণমূল। অসম থেকে সেই খবর এসে দিল্লিতেও দিয়েছে তৃণমূল। জানা গেছে অসমে তৃণমূলকে আসন ছাড়তে প্রাথমিকভাবে কংগ্রেসের কোনও আপত্তি নেই। তারা শুধু দেখতে চাইছে তৃণমূল কটি আসন প্রকৃতপক্ষে চাইছে।

মুম্বইয়ে “ইন্ডিয়া”-র বৈঠকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলই দ্রুত আসন সমঝোতার দাবি তুলেছিল। যাদের মধ্যে সব থেকে বেশি সোচ্চার ছিল তৃণমূল কংগ্রেস, আম আদমি পার্টি, শিব সেনা (উদ্ধব গোষ্ঠী)-র মতো “ইন্ডিয়া” জোটের শরিক দলগুলি। তাদের বক্তব্য ছিল, আসন সমঝোতার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে গেলে এখন থেকেই প্রচারে ঝাঁপিয়ে পড়া যাবে, যার ফলে বিজেপি-র বিরুদ্ধে নির্বাচনী লড়াই লড়তে সুবিধা হবে। যদিও কংগ্রেস ‘ধীরে চলো’ নীতি নিতে চাইছে আসন সমঝোতা নিয়ে। কংগ্রেসের প্রাথমিক লক্ষ্য, বছর শেষে হতে চলা পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন। সেখানে ভাল ফল করতে পারলে আসন সমঝোতার বৈঠকে বেশি করে দর কষাকষি করতে পারবে তারা।

আসন বন্টন নিয়ে মঙ্গলবার অভিষেক-রিপুন বৈঠককে বেশ গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। নিজেদের রাজ্যের বাইরে গিয়ে তৃণমূলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাওয়াকে কংগ্রেস কীভাবে নেবে, তা যে “ইন্ডিয়া”-র ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে বড় ভূমিকা নেবে, তেমনটাই বিশ্বাস রাজনৈতিক মহলের। প্রাথমিকভাবে অসমের এক কংগ্রেস নেতা এই প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, তৃণমূল যদি অসমে প্রার্থী দিতে চায়, তবে তাতে কোনও অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। কংগ্রেসের অন্য একটি সূত্র জানাচ্ছে, কোনওরকম শর্ত ছাড়াই অসমে গত বার কংগ্রেসের জিততে না পারা  দুই বা তিনটি আসন ছেড়ে দিতে মল্লিকার্জুন খাড়গে-রাহুল গান্ধির কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু তৃণমূল যদি পাঁচটি আসন দাবি করে বসে, তখনই শুরু হবে দর কষাকষির পালা। কংগ্রেস মনে করছে, সন্তোষমোহন দেব-সুস্মিতা দেবদের শিলচর এবং অসম রাজ্য সভাপতির এলাকা তেজপুর আসন দাবি করতে পারে তৃণমূল।

শিলচর ১৯৯১ সালের আগে পর্যন্ত ছিল কংগ্রেসের দখলে। ২০১৯ সালের আগে পর্যন্ত এই কেন্দ্র থেকে তিনবার জয়ী হয়েছেন কংগ্রেস নেতা সন্তোষমোহন দেব, তিনবার বিজেপির কবীন্দ্র পুরকায়স্থ। ২০১৪ সালে শিলচর থেকে জিতেছিলেন সন্তোষমোহন দেবের কন্যা সুস্মিতা দেব। যিনি বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেসে। শেষ নির্বাচনে সাংসদ শিলচর থেকে সাংসদ হন বিজেপির ডা. রাজদীপ রায়। কংগ্রেসের ধারণা, এই আসনটিই প্রথমে দাবি করতে পারে তৃণমূল। আসন পুনর্বিন্যাসের পর এই কেন্দ্রটি অবশ্য তফসিলি জাতির জন্য সংরক্ষিত। আবার অসমের তৃণমূল প্রদেশ সভাপতি রিপুন বোরার এলাকা তেজপুরে ১৯৭৭ সালে জিতেছিল জনতা পার্টি। ২০১৪ থেকে এই এলাকা বিজেপির দখলে। তার আগে প্রতিবার এখান থেকে জিতেছে কংগ্রেস প্রার্থী। নিজের এলাকায় দলের প্রার্থী দিতে চাইবেন রিপুন বোরা, এটাই স্বাভাবিক, এমনটাই মনে করছে কংগ্রেস। তাই যদি শিলচর ও তেজপুর, এই দুই কেন্দ্রেই সীমাবদ্ধ থাকে তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, সেক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে আপত্তি থাকবে না কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্বের। দারাং, লখিমপুর ও কোকরাঝাড় কেন্দ্রও দাবি করতে চলেছে তৃণমূল, এমনটাও শোনা যাচ্ছে। সে ক্ষেত্রে অসমে তৃণমূল কংগ্রেস ও কংগ্রেসের জোট কোন পথে এগোতে চলেছে , সেটাই দেখার। বাংলাতেও কি এই অসম ফর্মুলা তৃণমূল প্রয়োগ করবে? প্রসঙ্গত তৃণমূল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে বাংলায় কংগ্রেসকে দু’টি আসন তৃণমূল ছাড়তে পারে, তার একটি যদি কংগ্রেস সিপিএমকে ছেড়ে দেয় তাতে তৃণমূলের আপত্তি নেই।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!