- মা | ঠে-ম | য় | দা | নে
- আগস্ট ১, ২০২৬
কমনওয়েলথে প্রথম ভারতীয় মহিলা হিসেবে জুডোতে সোনা জিতে ইতিহাস গড়লেন ত্রিপুরার অস্মিতা
ভারতীয় জুডোর ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে ২০২৬ কমনওয়েলথ গেমস। মহিলাদের ৪৮ কেজি জুডো বিভাগে কানাডার হাইডি কোয়াককে গোল্ডেন স্কোরে পরাজিত করে সোনা জিতেছেন দক্ষিণ ত্রিপুরার অস্মিতা দে। প্রথম ভারতীয় মহিলা হিসেবে কমনওয়েলথ গেমসে সোনা জিতলেন এই জুডোকা।
ফাইনালে অস্মিতা কানাডার হাইডি কোয়াকের মুখোমুখি হন। শুরুতে অস্মিতা ০–১ গেমে পিছিয়ে ছিলেন। কিন্তু পরে তিনি দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়ে স্কোর ১–১। চার মিনিটের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর ম্যাচটি সাডেন ডেথে গড়ায়। সাডান ডেথে এই ভারতীয় জুডোকা ২–১ গেমে ম্যাচ জিতে সোনা জেতেন। সাডেন ডেথে যিনি প্রথমে স্কোর করেন, তাকেই বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। জুডোতে আরও একটা পদক এসেছে ভারতের। পুরুষদের ৬০ কেজি বিভাগে সোনা জিতেছেন হর্ষ সিং। ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার জশুয়া কাটজকে ১০–০ ব্যবধানে হারিয়ে হর্ষ। কমনওয়েলথ গেমসে স্বর্ণপদক জয়ী হর্ষ হলেন দ্বিতীয় এবং প্রথম পুরুষ জুডোকা। অস্মিতা ও হর্ষের আগে কোনো ভারতীয় জুডোকা কমনওয়েলথ গেমসে সোনা। এদিকে, যামিনী মৌর্য মহিলাদের ৫৭ কেজি বিভাগে রুপো জিতেছেন।
দক্ষিণ ত্রিপুরার বেলোনিয়া নামে এক ছোট শহর থেকে গ্লাসগো পর্যন্ত অস্মিতার যাত্রা সংগ্রাম, কঠোর পরিশ্রম এবং দৃঢ় সংকল্পের এক গল্প। এক সাইকেল মেকানিকের কন্যা অস্মিতা কমনওয়েলথ গেমসে মহিলাদের জুডোতে সোনা জিতে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। মজার ব্যাপার হলো, অস্মিতার ক্রীড়াজীবন শুরুতে জুডোকে কেন্দ্র করে ছিল না। ২০১৫ সালে ত্রিপুরা স্পোর্টস স্কুলে ভর্তি হয়ে ৮০০ মিটার দৌড়ের মাধ্যমে অ্যাথলেটিক জীবন শুরু করেছিলেন অস্মিতা। পরে এক কোচের পরামর্শে জুডোতে চলে আসেন। বেলোনিয়া বিদ্যাপীঠ কোচিং সেন্টারের বীণা দেবনাথ এবং ত্রিপুরা স্পোর্টস স্কুলের কোচ মানিক লাল দেব তাঁর প্রাথমিক কৌশলকে আরও উন্নত করেন। ন্যাশনাল স্কুল গেমস এবং খেলো ইন্ডিয়াতে চিত্তাকর্ষক পারফরমেন্স বদলে দেয় অস্মিতার। তিনি ভোপালে স্পোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়াতে নির্বাচিত হন। এখানেই ভোপাল সাই কেন্দ্রে প্রখ্যাত জুডো কোচ যশপাল সোলাঙ্কির কাছে অনুশীলন করতে থাকেন।
অস্মিতার পারিবারিক পটভূমি বরাবরই সংগ্রামে পরিপূর্ণ। তাঁর বাবা বেলোনিয়ায় একটা ছোট সাইকেল মেরামতের দোকান চালাতেন। আর্থিক সংস্থান না থাকা সত্ত্বেও, বাবা–মা মেয়ের স্বপ্নকে উৎসাহিত করেছিল। ২০২৩ সালে তাশখন্দ গ্র্যান্ড স্ল্যামে অংশ নেওয়ার ইচ্ছে ছিল অস্মিতার। রাজ্য সরকারের কাছে আর্থিক সাহায্যের জন্য অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু কোনো আর্থিক সাহায্য পাননি। ফলে টাকার অভাবে তিনি প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারেননি। আর্থিক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও অস্মিতা দে কখনো হাল ছাড়েননি অস্মিতা। আন্তর্জাতিক আঙিনায় নিজের ছাপ রেখেছেন। ২০২২ সালে এশিয়ান ক্যাডেট ও জুনিয়র জুডো চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ, ২০২৩ সালে কুয়েত এশিয়ান ওপেনে রুপো এবং জুনিয়র এশিয়ান কাপে সোনা জিতেছেন। এছাড়াও তিনি ২০২৫ সালে কাসাব্লাঙ্কা আফ্রিকান ওপেনেও স্বর্ণপদক জয় করেন। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অস্মিতার বাবা মারা যান। এর ফলে তিনি মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছিলেন। এরপর আবার দারুণভাবে ফিরে আসেন। এশিয়ান গেমসের ট্রায়ালে প্রথম স্থান অধিকার করেন। আর কমনওয়েলথ গেমসে ইতিহাস গড়ে বাবার স্বপ্নপূরণ। তাই এই সোনা প্রয়াত বাবাকেই উৎসর্গ করেছেন অস্মিতা।
গ্লাসগোতে সোনা জেতার পর অস্মিতা বলেন, ‘এই পদক জিতে আমি সত্যিই অত্যন্ত আনন্দিত। এই পদকটি আমার, আমার রাজ্য এবং আমার দেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমি এটা আমার কোচ এবং বাবাকে উৎসর্গ করছি। আমার বাবা ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে মারা যান। তিনি আমাকে অনেক সমর্থন করেছিলেন। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পর আমার মনে হয়েছিল সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। বাবার মূত্যুর ২ মাস পরেই এশিয়ান গেমসের ট্রায়াল অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে আমি জাতীয় পর্যায়ে প্রথম স্থান অধিকার করি। আজ বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে পেরেছি।’
❤ Support Us








