Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জুলাই ১৯, ২০২৫

ত্রিপুরায় অনুপ্রবেশকারী ধরতে ‘স্পেশাল টাস্ক ফোর্স’, মানিকের কড়া বার্তা—‘অনুপ্রবেশ বরদাস্ত নয়’। সক্রিয়তার নেপথ্যে কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র দফতর?

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ত্রিপুরায় অনুপ্রবেশকারী ধরতে ‘স্পেশাল টাস্ক ফোর্স’, মানিকের কড়া বার্তা—‘অনুপ্রবেশ বরদাস্ত নয়’। সক্রিয়তার নেপথ্যে কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র দফতর?

বাংলাদেশ ও মায়ানমার থেকে অবৈধ ভাবে ভারতে ঢুকে ত্রিপুরায় বসবাসকারীদের চিহ্নিত করতে এবার বিশেষ পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহার উদ্যোগে ত্রিপুরার আটটি জেলায় গঠিত হচ্ছে ‘স্পেশাল টাস্ক ফোর্স’। প্রথম পর্যায়ে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলায় ইতিমধ্যেই বিশেষ বাহিনী গঠিত হয়েছে ১৫ জন পুলিশ আধিকারিককে নিয়ে। প্রতিটি থানার ওসি এবং স্পেশাল ব্রাঞ্চের আধিকারিকরা এই দলে রয়েছেন। কেন্দ্রীয়ভাবে নেতৃত্বে রয়েছেন জেলার গোয়েন্দা শাখার ডেপুটি এসপি দেবাশিস সাহা।

ত্রিপুরা পুলিশ সূত্রে খবর, নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের আঙুলের ছাপ, মুখের ছবি ও অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এই বায়োমেট্রিক ও ডেমোগ্রাফিক তথ্য আপলোড করা হবে কেন্দ্রের ‘ফরেনার্স আইডেন্টিফিকেশন পোর্টাল’-এ। নাগরিকত্ব প্রমাণ না হলে, তাদের তুলে দেওয়া হবে বিএসএফের হাতে। তারা আইন মেনে দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করবে। সেই সঙ্গে নির্দেশ জারি হয়েছে, প্রতিটি জেলা টাস্ক ফোর্সকে সপ্তাহ, পাক্ষিক ও মাসিক ভিত্তিতে তাদের কাজের পরিসংখ্যান রাজ্য পুলিশ সদর দফতরে পাঠাতে হবে। রাজ্য স্তরে গঠিত একটি উচ্চ-পর্যায়ের টাস্ক ফোর্সের অধীনেই থাকবে সমস্ত জেলা টিম। ফাইল ইতিমধ্যেই পাঠানো হয়েছে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতরে, মৌখিক সম্মতিও মিলেছে বলে সূত্রের খবর, এখন অপেক্ষা শুধু চূড়ান্ত অনুমোদনের।

এদিন, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা জানিয়েছেন, ত্রিপুরা আর অনুপ্রবেশকারীদের নিরাপদ জায়গা নয়। নিরাপত্তা বাহিনীর টানা নজরদারিতে সীমান্তে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশ থেকে যারা বেআইনিভাবে প্রবেশ করেছেন, তারা বুঝে গিয়েছেন, এই রাজ্যে আর লুকিয়ে থাকা সম্ভব নয়।’ শনিবার রাজবাড়িতে ঐতিহ্যবাহী কের পূজার অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মানিক জানান, ‘২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে যাঁরা আফগানিস্তান, পাকিস্তান বা বাংলাদেশ থেকে ভারতে শরণার্থী হিসেবে এসেছেন, তাঁদের সুরক্ষা দেওয়া হবে। কিন্তু, তার পর যাঁরা এসেছেন, তাঁদের কোনো বৈধতা নেই। সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের কারণে কিছু ব্যতিক্রম থাকলেও অনুপ্রবেশ বরদাস্ত নয়।’

আপাতত এ নিয়ে উত্তাল ত্রিপুরার রাজ্য রাজনীতি। বিজেপি নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকারকে দীর্ঘদিন ধরেই চাপ দিয়ে আসছিল শরিক দল তিপরা মোথা পার্টি। দলটির সুপ্রিমো প্রদ্যোৎ বিক্রম মানিক্য দেববর্মা সাফ জানিয়েছেন, ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা রাজ্যের আদিবাসী সমাজের অস্তিত্বের পক্ষে বিপজ্জনক। প্রশাসনের উচিত অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া।’ দলের বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মার দাবি, ‘সরকার আমাদের লাগাতার আন্দোলনের চাপেই অবশেষে নড়েচড়ে বসেছে।’ ত্রিপুরার বন ও পরিবেশ মন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা জানিয়েছেন, পরবর্তী সপ্তাহে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দেখা করবেন দলের একটি প্রতিনিধি দল। তাদের প্রধান দাবি, ভোটার তালিকায় যাঁরা বে-আইনিভাবে নাম তুলেছেন, তাঁদের বাদ দিতে বিহারের মতো ত্রিপুরাতেও চালু করতে হবে ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’।

উল্লেখ্য, ত্রিপুরা ৩ দিকে বাংলাদেশ সীমান্ত। প্রায় ৮৫৬ কিমি সীমান্তের অধিকাংশ এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া থাকলেও কিছু অংশ এখনো খোলা অবস্থায় আছে। সে সব অঞ্চল দিয়েই মাঝেমধ্যে ঢুকে পড়ে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা। সীমান্তে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি এবার অভ্যন্তরে তল্লাশি চালাতে তৎপর হয়েছে পুলিশ। এদিকে অবৈধ বাংলাদেশি নাগরিকদের ধরপাকড় নিয়ে উত্তাল দেশের অন্যান্য রাজ্যও। মহারাষ্ট্র, ওড়িশার মতো বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলিতে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে অভিযান। অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে বৈধ নথি থাকা সত্ত্বেও বাংলা ভাষাভাষী শ্রমিকদের বাংলাদেশি সন্দেহে গ্রেফতার করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের হস্তক্ষেপে তাঁদের ফেরত আনা হলেও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনার বিরুদ্ধে একাধিকবার সরব হয়েছেন বিধানসভা থেকে রাস্তায়। এ আবহে ত্রিপুরার মতো আরো একটি বাংলাভাষী রাজ্যে নতুন করে স্পেশাল টাস্ক ফোর্স গঠনের ঘোষণা উদ্বেগ আর আশঙ্কায় নতুন মাত্রা যোগ করছে। যদিও ত্রিপুরা প্রশাসনের দাবি, এ পদক্ষেপ শুধুই রাজ্যের নিরাপত্তা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থে নেওয়া হচ্ছে। রাজনৈতিক তরজা যতই থাকুক এই মুহুর্তে ‘অনুপ্রবেশকারীদের’ তাড়াতে সেখানকার রাজ্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি কার্যত কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে। ত্রিপুরা পুলিশের তরফ থেকে সাধারণ নাগরিকদেরও আহ্বান জানানো হয়েছে, যদি কোথাও সন্দেহজনক ব্যক্তির বসবাস বা গতিবিধি চোখে পড়ে, তবে যেন সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় থানায় খবর দেওয়া হয়। সামাজিক মাধ্যমেও প্রচার চালাচ্ছে তিপরা মোথা।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!