- মা | ঠে-ম | য় | দা | নে
- জুন ১১, ২০২৬
ইরানি সমর্থকদের টিকিট বাতিল, ফুটবল বিশ্বকাপে বৈষম্যমূলক মার্কিন নীতি ঘিরে বাড়ছে ক্ষোভ
একের পর এক বিতর্কে কলঙ্কিত হয়ে উঠছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ। বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত প্রতিযোগিতাকে ঘিরে উত্তেজনার পরিবর্তে উদ্বেগ ও বিশৃঙ্খলা শুরু হয়েছে। বিশ্বকাপ ঘিরে প্রতিদিনই নতুন নতুন বিতর্ক সামনে আসছে। এই বিতর্কের মূল কারণ হল প্রতিযোগিতার অন্যতম আয়োজক দেশ আমেরিকা। বিশ্বকাপে বেশ কয়েকটি ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়া ফিফা কর্তৃক নির্বাচিত একমাত্র সোমালিয়ার রেফারি ওমর আরতানকে বৈধ ভিসা থাকা সত্ত্বেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। মার্কিন ভিসা নীতি ইরান ফুটবল দল, কর্মকর্তা ও সমর্থকদেরও সমস্যায় ফেলেছে। এছাড়া আরও অনেক দেশের খেলোয়াড়, দর্শক এবং গণমাধ্যম কর্মীদেরও প্রতিযোগিতায় আসতে বাধা দিয়েছে।
সোমালিয়ার রেফারি ওমর আরতানকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা দেওয়ার পর এবার ইরানি দর্শকদের টিকিটও বাতিল করা হল। ইরানের সঙ্গে চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনা ও যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ইরানি ফুটবল দলের দেশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। ফলে গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সত্ত্বেও, ম্যাচের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে ইরানকে। তারপর ম্যাচ খেলেই দ্রুত মার্কিন মুলুক ছেড়ে মেক্সিকোর উদ্দেশ্যে রওনা দেবে। মেক্সিকোতেই ঘাঁটি গেড়েছে ইরান। তবে ইরানের দর্শকরা আমেরিকায় গিয়ে দেশের ম্যাচ দেখার সুযোগ পাবে না।
ইরান ফুটবল ফেডারেশন এক বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের সমর্থকদের জন্য গ্রুপ পর্বের ম্যাচের টিকিটের বরাদ্দ প্রত্যাহার করে নিয়েছে। ফিফা প্রতিটি অংশগ্রহণকারী দেশের সমর্থকদের জন্য ফেডারেশনকে ৮% টিকিট সরবরাহ করে থাকে। তবে, ইরানি ফুটবল ফেডারেশনের অভিযোগ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আকস্মিকভাবে তাদের জন্য বরাদ্দকৃত টিকিট প্রত্যাহার করে নেওয়ায় ইরানি সমর্থকরা তাদের দলকে সমর্থন করার জন্য স্টেডিয়ামে হাজির থাকতে পারছে না। এর আগে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ফুটবল ফেডারেশন সভাপতি মেহেদি তাজসহ দলের প্রায় এক ডজন সাপোর্ট স্টাফ, ডাক্তার এবং কোচের জন্য শেষ মুহূর্তে ভিসার ব্যবস্থা করেছিল।
এই বৈষম্যমূলক মার্কিন নীতি ও আচরণের কারণে শুধু ইরানি ফুটবলার, কর্মকর্তা এবং সমর্থকরাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন না, একজন রেফারিও এর শিকার হয়েছেন। বৈধ ভিসা থাকা সত্ত্বেও টুর্নামেন্টের বেশ কয়েকটি ম্যাচ পরিচালনার জন্য ফিফা নির্বাচিত একমাত্র সোমালিয়ান রেফারি ওমর আরতানকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। আফ্রিকার সেরা রেফারি হিসেবে নির্বাচিত ওমরকে মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। মার্কিন সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী ‘তদন্ত সংক্রান্ত উদ্বেগের’ ভিত্তিতে তাঁকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা দেয়। এর পরে, ফিফাও স্পষ্ট করে জানায় যে আরতান প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন না। ফিফা আরও জানিয়েছে, তারা কোনও দেশের ভিসা নীতিতে হস্তক্ষেপ করতে পারে না।
শুধু মাত্র এখানেই শেষ নয়, বিতর্ক আরও আছে। আরও অসংখ্য ঘটনা সামনে এসেছে, যেখানে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে আসা বিভিন্ন দল ও কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে অপরাধমূলক কড়া নজরদারির সম্মুখীন হচ্ছেন। বিভিন্ন দেশের ফুটবলার, সমর্থক এবং গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তার অজুহাতে আমেরিকার বিমানবন্দরগুলিতে মানসিক হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।
ইরাকি ফুটবল দলের তারকা আইমান হুসেনকে শিকাগোর ও’হেয়ার বিমানবন্দরে প্রায় সাত ঘণ্টা আটক রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মুক্তি পাওয়ার পর তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র এতগুলো দেশকে ভয় পায়, তাহলে তারা কেন বিশ্বকাপ আয়োজন করছে। একইভাবে, সুইস মিডফিল্ডার ব্রিল এমবোলোর ভিসাও প্রথমে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল, যা পরে সুইস কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে অনুমোদিত হয়। উজবেকিস্তান দলের ফুটবলারদের বিমানবন্দরে অপরাধীদের মতো আচরণের সম্মুখীন হতে হয়েছিল, যেখানে ফুটবলার, সাপোর্ট স্টাফ এবং কর্মকর্তাদের শনাক্তকারী কুকুর দিয়ে তল্লাশি করা হয়।
❤ Support Us








