Advertisement
  • দে । শ
  • মার্চ ৩১, ২০২৬

বাড়বে নিত্যযাত্রীদের ভোগান্তি, রাজধানীর পর মহানগরেও বন্ধ হচ্ছে ‘উবার শাটল’ পরিষেবা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বাড়বে নিত্যযাত্রীদের ভোগান্তি, রাজধানীর পর মহানগরেও বন্ধ হচ্ছে ‘উবার শাটল’ পরিষেবা

সল্টলেক-নিউটাউন-সহ একাধিক এলাকার নিত্যযাত্রীদের রোজনামচায় বড়ো ধাক্কা। আগামী ২ এপ্রিল থেকে বন্ধ হতে চলেছে শহরের অন্যতম জনপ্রিয় বাস-ধাঁচের অ্যাপ-পরিষেবা ‘উবার শাটেল’ পরিষেবা। ইতিমধ্যেই অ্যাপ ব্যবহারকারীদের কাছে এ সংক্রান্ত নোটিফিকেশন পৌঁছতে শুরু করেছে। আর তাতেই অফিসযাত্রীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। কীভাবে সময়মতো আরামের সঙ্গে পৌঁছনো যাবে সেক্টর ভি, নিউ টাউন বা রাজারহাটের আইটি করিডরে, এ প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে শহরের বহু নিত্যযাত্রীর মনে।

প্রতিদিন দক্ষিণ কলকাতা, বেহালা, গড়িয়াহাট থেকে শুরু করে শহরতলির বিস্তীর্ণ অংশের বহু মানুষ এই শাটল পরিষেবার উপর নির্ভর করেই অফিস যাতায়াত করতেন। তুলনামূলক কম খরচে নির্দিষ্ট রুটে আরামদায়ক যাত্রার সুবিধা থাকায় দ্রুতই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল এই পরিষেবা। কিন্তু পরিষেবা বন্ধের ঘোষণায় কার্যত মাথায় হাত যাত্রীদের। বহু অফিস যাত্রীরা বলছেন, সপ্তাহে ৬ দিন তাঁরা অফিস যান উবের শাটেলেই। হঠাৎ পরিষেবা বন্ধ হওয়ায় কার্যত অকূল পাথারে পড়েছেন তাঁরা। বিকল্প খুঁজছেন, কিন্তু বাড়ি থেকে পিকআপ পয়েন্ট অনেক দূরে, খরচও অনেক বেশি হবার সম্ভাবনা রয়েছে। অফিসযাত্রী সুমিত দত্ত জানান, বেহালা থেকে সল্টলেক সেক্টর ভি যাতায়াত করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ‘মেট্রো পরিষেবার একাধিক বিঘ্নের মধ্যে উবের শাটল ছিল সবচেয়ে ভরসার জায়গা। কম খরচে নির্ভরযোগ্য যাতায়াত মিলত। এখন বিকল্প কী হবে বুঝতে পারছি না।’

শুধু যাত্রী নয়, এই পরিবর্তনের আঁচ পড়েছে চালকদের উপরও। এক শাটল চালক জানিয়েছেন, তাঁদের গাড়ির মালিক ইতিমধ্যেই অন্য অ্যাপে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন। ফলে কর্মসংস্থানের দিক থেকেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মূলত শহরের আইটি হাব—সেক্টর ভি, নিউ টাউন, রাজারহাট—কেন্দ্রিক অফিসযাত্রীদের বড়ো অংশই এই পরিষেবার উপর নির্ভরশীল ছিলেন। অফিস টাইমে নির্দিষ্ট রুটে নির্দিষ্ট স্টপেজে গাড়ি পাওয়া যেত বলে ট্র্যাফিক ও খরচ দুটোই অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকত। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিষেবা বন্ধ হয়ে গেলে শহরের গণপরিবহণ ব্যবস্থার উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হবে। অফিসের ব্যস্ত সময়ে বাস ও মেট্রোতে যাত্রীর ভিড় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে, বিকল্প হিসেবে ট্যাক্সি বা অ্যাপ-ভিত্তিক গাড়ির ব্যবহার বাড়ায় অনেক যাত্রীর যাতায়াত ব্যয়ও বৃদ্ধি পেতে পারে।

তবে সংস্থার এহেন সিদ্ধান্ত আকস্মিক নয়। দেশের বিভিন্ন শহরে ধাপে ধাপে শাটল পরিষেবা গুটিয়ে নিচ্ছে উবার। এর আগেই দিল্লি-এনসিআর থেকে পরিষেবা বন্ধ হয়েছে। তার আগে মুম্বই ও হায়দরাবাদেও একই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছিল। সংস্থার অভ্যন্তরীণ সূত্রে খবর, এখন তারা ঝুঁকছে সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যবসায়িক মডেলের দিকে, যেমন — কর্মচারী পরিবহন পরিষেবা (ইটিএস। বড়ো বড়ো কর্পোরেট সংস্থার কর্মীদের জন্য চুক্তিভিত্তিক পরিবহন পরিষেবা দিতেই এখন বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে তারা। এতে নির্দিষ্ট চাহিদা, স্থায়ী রুট এবং নিশ্চিত আয় থাকায় ব্যবসায়িক দিক থেকে তা তুলনামূলকভাবে বেশি লাভজনক বলেই মনে করছে সংস্থা। ইতিমধ্যেই মুম্বই, পুনে ও চেন্নাইয়ের মতো শহরে ইটিএস পরিষেবা চালু করেছে উবার। কর্পোরেট ক্লায়েন্টদের কেন্দ্র করে এই নতুন মডেলকে আগামী দিনে আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে খবর। এদিকে, ব্যবহারকারীদের উবার জানিয়েছে, যাঁদের শাটল সাবস্ক্রিপশনে এখনো টাকা পড়ে আছে, সাত কার্যদিবসের মধ্যে তা ক্রেডিট আকারে পুরোপুরি ফেরত দেওয়া হবে।


  • Tags:
❤ Support Us
Advertisement
error: Content is protected !!