- এই মুহূর্তে বি। দে । শ
- সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৫
ভারতের ওপর আরোপিত জরিমানা শুল্ক প্রত্যাহার করবে ওয়াশিংটন, ইঙ্গিত অর্থনৈতিক উপদেষ্টা নাগেশ্বরনের
ভারতের ওপর শুল্কনীতির কি পরিবর্তন ঘটাতে চলেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র? তেমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন ভারতের প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ভি অনন্ত নাগেশ্বরন। তাঁর আশা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শীঘ্রই ভারতীয় পণ্যের ওপর আরোপিত শাস্তিমূলক শুল্ক প্রত্যাহার করবে। এছাড়া পারস্পরিক শুল্কও শিথিল করবে। দিল্লিতে দুই দেশের বাণিজ্য প্রতিনিধিদের বৈঠকের পর নাগেশ্বরণ এই মন্তব্য করেছেন।
দিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দেশের প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা নাগেশ্বরন বলেন, ‘আগস্টে ওয়াশিংটন কর্তৃক ভারতীয় পণ্যের ওপর আরোপিত ২৫% জরিমানা শুল্ক নভেম্বরের শেষের দিকে প্রত্যাহার করা হতে পারে। আমার বিশ্বাস, ৩০ নভেম্বরের পর জরিমানা শুল্ক আর থাকবে না। আমারেই ধারণা কোনও সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে নয়। সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর পরিপ্রেক্ষিতে আমার মনে হয়েছে জরিমানা শুল্কের বিষয়ে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে একটা সমাধানসূত্র বার হবে। এমনকী পারস্পরিক শুল্কও নিয়েও।’
নাগেশ্বরণ ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, জরিমানা শুল্ক প্রত্যাহারের পাশাপাশি পারস্পরিক শুল্কও কমিয়ে আনা হতে পারে। বর্তমানে ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্কের হার রয়েছে ২৫%। তা কমিয়ে ১০% থেকে ১৫% নিয়ে আসা হতে পারে। তাঁর তিনি আরও বলেছেন যে, আগামী ৮–১০ সপ্তাহের মধ্যে এই শুল্ক সমস্যার সমাধান হতে পারে। নাগেশ্বরণ যদিও জানিয়েছেন, এটা তাঁর ব্যক্তিগত মূল্যায়ন, কোনও আনুষ্ঠানিক আশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে নয়।
চলতি মাসের শুরু থেকেই ভারত–মার্কিন সম্পর্ক উন্নতি হতে শুরু করেছে। ৬ সেপ্টেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারত–মার্কিন বন্ধনকে ‘বিশেষ’ বলে অভিহিত করেন এবং মোদীকে বন্ধু বলে সম্বোধন করে। প্রধানমন্ত্রী মোদীও দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আমেরিকাকে ‘ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং স্বাভাবিক অংশীদার’ হিসাবে বর্ণনা করেন। অন্যদিকে মোদী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ‘অসীম সম্ভাবনা’ উন্মোচনের কথা বলেন। মোদীর ৭৫তম জন্মদিনে তাঁকে শুভেচ্ছাও জানান ট্রাম্প।
মঙ্গলবার দিল্লিতে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনায় বসেছিলেন দুই দেশের কর্তারা। ভারতীয় প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সচিব রাজেশ আগরওয়াল। অন্যদিকে, বৈঠকে মার্কিন বাণিজ্য দলকে নেতৃত্ব দেন প্রতিনিধি ব্রেন্ডন লিঞ্চ। আগস্টে ট্রাম্প প্রশাসন ভারতীয় রপ্তানির ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের পর এটাই ছিল দুই দেশের প্রতিনিধি দলের প্রথম মুখোমুখি বৈঠক। বৈঠকের পর দুই দেশের বাণিজ্য কর্তারা জানান, আলোচনা ইতিবাচক হয়েছে। দুই দেশ শীঘ্রই বাণিজ্য চুক্তির বিষয়টি সমাধান করবে।
দ্বিস্তরীয় শুল্ক ব্যবস্থার ফলে কিছু ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০% পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, যা বস্ত্র এবং কিছু খাদ্য পণ্যের মতো শ্রমনিবিড় খাতের রপ্তানিকারকদের লভ্যাংশ সঙ্কুচিত করেছে। যদিও নয়াদিল্লি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করছে। আপাতত, রপ্তানিকারক এবং শিল্প সংস্থাগুলি পর্যবেক্ষণ করবে যে, নভেম্বরের শেষের দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শাস্তিমূলক শুল্ক প্রত্যাহার করে কিনা এবং পারস্পরিক শুল্ক আরও টেকসই পর্যায়ে কমানো হচ্ছে কিনা।
❤ Support Us







