- এই মুহূর্তে দে । শ
- মে ১৭, ২০২৩
সংখ্যালঘুদের ধর্মাচরণের অধিকার নিয়ে মার্কিন রিপোর্টের সমালোচনায় ভারত, তথ্যে ভুল দাবি বিদেশ মন্ত্রকের
সংখ্যালঘুদের স্বাধীনভাবে ধর্মাচরণের অধিকার ভারতে কতটা সুরক্ষিত তা নিয়ে প্রশ্ন তুলল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বিদেশ দফতর তাঁদের বার্ষিক ধর্মীয় স্বাধীনতা সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন সোমবার পেশ করেছে, যাতে ভারতের ধর্মীয় স্বাধীনতার হাল নিয়ে উদ্বেগ জানানো হয়েছে। আগামী মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর মার্কিন সফর। তার আগে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ধর্মপালন নিয়ে এ রিপোর্ট ইঙ্গ-মার্কিন সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করল।
প্রতিবেদনে বলা হয়ছে, ভারতের সংখ্যালঘু ধর্মীয় সম্প্রদায়গুলোর বিরুদ্ধে ঘৃণার রাজনীতি চলছে। প্রতিনিয়ত তাঁদের হুমকি দেওয়া চলছে। নিজেদের সামাজিক অবস্থানের জন্য প্রায়শই সংখ্যাগুরুর নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন তাঁরা। শুধু তাই নয়, তাঁদের ধর্মস্থানের ওপরও আক্রমণ নেমে আসছে। সরকার কী চায় তা নিয়েও সংশয় রয়েছে। যাঁদের কাছে নির্যাতিতরা প্রতিকার চাইতে যবেন , সে প্রশাসনের এমন অনেক ব্যক্তি আছেন যারা প্ নিপীড়নকারীদের পরোক্ষে প্রশ্রয় দেন। বিদেশ দপ্তরের এক আধিকারিক ভারত সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন, গোষ্ঠী হিংসার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে তার বিরুদ্ধে যেন কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।
সেই সঙ্গে প্রতিবেদনটিতে ধর্মীয় হিংসা রকয়েকটি ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। যেমন- ২০২২ সালের অক্টোবরে একটি উৎসবের সময় হিন্দুদের আহত করার অভিযোগে চার মুসলিম পুরুষকে মারধর করেছিল সাদা পোশাকের পুলিশ। তার আগে এপ্রিলে হিংসার কারণে মধ্যপ্রদেশ সরকার বুলডোজার দিয়ে মুসলিমদের মালিকাধীন বাড়ি এবং দোকান গুঁড়িয়ে দিয়েছিল। আবার জোর করে ধর্মান্তকরণের অভিযোগে খ্রিস্টানদের গ্রেফতার করা হয়েছে দাবি করা হয়েছে ওই রিপোর্টে।
মার্কিন বিদেশ দপ্তরের প্রতিবেদনকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং পক্ষপাতমূলক বলে খারিজ করেছে ভারত। মঙ্গলবার বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচি বলেছেন, দুঃখজনকভাবে এধরনের রিপোর্টগুলি ভুল তথ্য এবং ভ্রান্ত ধারণার ভিত্তিতে তৈরি করা হয়ে যেতে থাকে। সরাসরি আমেরিকার নাম না নিয়ে তিনি জানিয়েছেন, কয়েকজন আধিকারিকের পক্ষপাতমূলক কাজের জন্য বিভিন্ন রিপোর্টের বিশ্বাসযোগ্যতা ধাক্কা খায়।
পৃথিবীর দুশোটি দেশে ধর্মীয় স্বাধীনতার অবস্থা নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। ভারতের কথা এখানে সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। মার্কিন বিদেশ দপ্তরের ব্যাখ্যা, ভারত সরকারের প্রতি তাঁদের তাঁদের আস্থা রয়েছে। দেশের সমস্ত ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ধর্মাচরণের অধিকার সুনিশ্চিত করতে তাঁরা বিশেষ উদ্যোগী হবে বলে মনে করে ওয়াশিংটন। এখানে বলা প্রয়োজন, ভারতের সঙ্গে আমেরিকার সুসম্পর্ক বেশ কয়েক দশকের। ১৯৯১ সালে সোভিয়েতের পতনের পর দুই দেশের নৈকট্য বেড়েছে। এশিয়া মহাদেশে চিন এখন যথেষ্ট শক্তিশালী ও আমেরিকার অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী। এমতাবস্থায় বেজিং-এর আধিপত্য খর্ব করতে ভারতের সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন। সংখ্যালঘু নিপীড়ন নিয়ে তাই উদ্বেগ জানালেও দিল্লির সরকারের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান গ্রহণ করতে হোয়াইট হাউস দ্বিধান্বিত কিনা সে প্রশ্ন ওঠা অস্বাভাবিক নয়। ইঙ্গ-মার্কিন মৈত্রী নিয়ে আগ্রহী ভারতও। পাকিস্তান ও সঙ্গে দিল্লির সম্পর্ক খুব মধুর নয়। প্রতিবেশী শত্রুমনোভাবাপন্ন হলে অন্য শক্তিশালী মিত্রের প্রইয়োজন হয়। তাই ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থার বানানো তথ্যচিত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের তীব্র আপত্তি লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু মার্কিন বিদেশ দপ্তরের রিপোর্টে ততটাই কৌশলী অবস্থান গ্রহণ করতে হয়।
❤ Support Us







