Advertisement
  • বি। দে । শ
  • মার্চ ৪, ২০২৬

ইরান যুদ্ধে খরচ ও কৌশল নিয়ে চাপে ট্রাম্প, বুধবারই মার্কিন কংগ্রেসে ভোটাভুটি

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ইরান যুদ্ধে খরচ ও কৌশল নিয়ে চাপে ট্রাম্প, বুধবারই মার্কিন কংগ্রেসে ভোটাভুটি

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল ব্যয় ও কৌশলগত ঝুঁকি নিয়ে এবার দেশের অন্দরেই প্রশ্নের ঝড় উঠেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, যুদ্ধ আরও এক মাস পর্যন্ত গড়াতে পারে। ফলে ইতিমধ্যেই আকাশছোঁয়া সামরিক ব্যয় বহুগুণ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

মার্কিন এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরানে হামলার প্রথম ২৪ ঘণ্টাতেই যুক্তরাষ্ট্রের খরচ হয়েছে প্রায় ৭৭ কোটি ৯০ লক্ষ মার্কিন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৬,৯০০ কোটি টাকার সমান। যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে মোট ব্যয় দাঁড়াতে পারে অন্তত ২১ হাজার কোটি মার্কিন ডলার—ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ১৮.৮৭ লক্ষ কোটি টাকা।

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপে যাওয়ার আগে মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়া হয়নি—এমন অভিযোগ তুলে আইনপ্রণেতাদের একাংশ ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন। এই প্রেক্ষাপটে বুধবার হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস ও সেনেটে ইরান যুদ্ধ নিয়ে ভোটাভুটি হওয়ার কথা রয়েছে। গত দু’দিন ধরে মার্কিন ক্যাপিটলে এ বিষয়ে তুমুল আলোচনা চলেছে, যা মঙ্গলবার উত্তপ্ত বিতর্কে রূপ নেয়।

প্রশাসনের তরফে প্রথমে দাবি করা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে হামলা ছিল একটি ‘প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ’। যুক্তি হিসেবে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি হামলা না করলেও ইজরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপে প্রস্তুত ছিল। কিন্তু আইনপ্রণেতাদের প্রশ্ন—যুদ্ধের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা, সম্ভাব্য খরচ এবং সাধারণ আমেরিকানদের উপর এর প্রভাব সম্পর্কে প্রশাসন কি যথেষ্ট স্বচ্ছ ছিল?

মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও দাবি করেছেন, ট্রাম্প সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে আঘাত হানবে না। তবে প্রশাসনের আরেক বক্তব্য—ইজরায়েল হামলা চালালে পশ্চিম এশিয়ায় ছড়িয়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলিতে ইরান পাল্টা আঘাত হানতে পারে। সেই আশঙ্কা থেকেই যুক্তরাষ্ট্র আগাম হামলা চালায়।

সেনেট সদস্য অঙ্গুস কিং অভিযোগ করেন, ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ইরানে বোমা হামলা চালাতে চেয়েছিলেন, আর সেই প্রেক্ষিতেই ট্রাম্প আমেরিকাকে যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলেন। তাঁর মতে, এই পদক্ষেপ “বিরক্তিকর” এবং অপ্রয়োজনীয়।

অন্যদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা নীতিনির্ধারক এলব্রিজ কোলবি বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি ধ্বংস করা এবং তেহরানকে পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে বিরত রাখাই ছিল হামলার মূল উদ্দেশ্য।

ট্রাম্প বরাবরই তাঁর ‘আমেরিকান ফার্স্ট’ নীতির কথা উল্লেখ করে আসছেন—অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থই সর্বাগ্রে। কিন্তু সেনেটের একাধিক সদস্যের প্রশ্ন, মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া কীভাবে সেই নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ?

সেন্টার ফর এ নিউ মার্কিন সিকিউরিটির তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলির পরিচালনা ব্যয়ই প্রতিদিন বিপুল। এই রণতরীর দৈনিক পরিচালনা খরচ প্রায় ৬৫ লাখ মার্কিন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৫৮ কোটি টাকা)। সূত্রের খবর, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেইনি সহ শীর্ষ কর্তাদের লক্ষ্য করে অভিযানে এই ধরনের রণতরী ব্যবহার করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে শুধু সামরিক ব্যয়ই নয়, অর্থনৈতিক চাপ, কূটনৈতিক টানাপোড়েন এবং আঞ্চলিক অস্থিরতাও বহুগুণ বাড়বে। ফলে বুধবারের কংগ্রেস ভোটাভুটি শুধু রাজনৈতিক নয়, যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ পররাষ্ট্রনীতির দিকনির্দেশও নির্ধারণ করতে পারে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!