Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • ডিসেম্বর ৮, ২০২৫

লোকসভায় ‘বন্দে মাতরম’ বিতর্ক: কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বিশ্বাস ঘাতকতার অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর, পাল্টা বক্তব্য খাড়গে, সৌগত রায়দের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
লোকসভায় ‘বন্দে মাতরম’ বিতর্ক: কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বিশ্বাস ঘাতকতার অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর, পাল্টা বক্তব্য খাড়গে, সৌগত রায়দের

সংসদে শীতকালীন অধিবেশন চলছে। সোমবার, দুপুর ১২টার কিছু পরেই লোকসভায় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত, রাষ্ট্রগান ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে বিশেষ আলোচনায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুরু থেকেই তিনি গানের গুরুত্ব তুলে ধরেন। বলেন, ‘বন্দে মাতরম বহু প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেছে। স্বাধীনতা সংগ্রামে এটি ছিল গোটা দেশের প্রেরণা। ভবিষ্যতেও দেশকে অনুপ্রাণিত করবে।’ পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ তোলেন, ১৯৩৭ সালে কংগ্রেস বন্দে মাতরমের গুরুত্বপূর্ণ স্তবক বাদ দিয়েছিল। তিনি বলেন, ‘যে অংশগুলো বাদ পড়েছিল, সেগুলোই গানটির প্রাণ। সেই খণ্ডন দেশভাগের বীজ বপন করেছিল। আজকের প্রজন্মের জানা উচিত কেন জাতি গঠনের এই ‘মহামন্ত্র’-এর সঙ্গে অবিচার করা হয়েছিল। বিভাজনমূলক মানসিকতা এখনও দেশের জন্য চ্যালেঞ্জ।’

নরেন্দ্র মোদির এহেন মন্তব্যে ক্ষুব্ধ কংগ্রেস পাল্টা আক্রমণ চালায়। তাদের যুক্তি, ‘যারা সংবিধানকে আক্রমণ করে, গান্ধী ও আম্বেদকরের কুশপুতুল পোড়ায়, তারাই স্বাধীনতা সংগ্রামে ব্রিটিশদের পাশে ছিল।’ কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, ‘১৯৮৬ সাল থেকে আজ পর্যন্ত আমরা প্রত্যেক কংগ্রেস বৈঠকে গর্বের সঙ্গে বন্দে মাতরম গাই। এটি আমাদের দেশমাতৃকার গান, মানুষের মধ্যে ঐক্যের প্রতীক।’ বন্দে মাতরমের সার্ধশতবর্ষ উদ্‌যাপন প্রসঙ্গেও আলোচনা করেন মোদি। ৭ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী ১৫০ বছরের উদ্‌যাপনের জন্য একগুচ্ছ কর্মসূচির ঘোষণা করেছিলেন। স্মারক ডাকটিকিট ও মুদ্রা প্রকাশ করা হয়েছে। একইসঙ্গে দেশের নানা প্রান্তে বিজেপি এ উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠান করছে। বক্তৃতার এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে ‘বঙ্কিমদা’ বলে সম্বোধন করলে তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় প্রতিবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘অন্তত ‘বাবু’ বলুন।’ মোদি সঙ্গে সঙ্গে শব্দচয়ন সংশোধন করে বলেন, ‘ঠিক আছে, বঙ্কিমবাবু বলছি।’ সৌগতকে ‘দাদা’ বলে ধন্যবাদও জানান প্রধানমন্ত্রী। খানিক কৌতুক ছড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী সৌগতকে বলেন, ‘আপনাকেও তো দাদা বলেই সম্বোধন করি।’

এদিন মোদি মুসলিম লিগ ও নেহরুর ভূমিকার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। অভিযোগ, জওহরলাল নেহরু মুসলিম লিগের চাপের কারণে বন্দে মাতরমের কিছু অংশ পরিবর্তন করেছিলেন। পাঁচদিনের মধ্যে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে চিঠি দিয়ে তিনি লিখেছিলেন, ‘বন্দে মাতরমের প্রেক্ষাপট দেখে মনে হচ্ছে এতে মুসলমানরা ক্ষুব্ধ হতে পারে।’ মোদীর বক্তব্য, এই ছিল মূলত কংগ্রেসের সমঝোতার রাজনীতি, যা দেশের ইতিহাসে অযথা বিভাজন তৈরি করেছে। পরিশেষে, প্রধানমন্ত্রী বন্দে মাতরমের মাহাত্ম্যও পুনর্ব্যক্ত করেন। বলেন, ‘এই গান বহু মানুষকে স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহণের প্রেরণা জুগিয়েছে। খাদ্য আন্দোলন হোক, জরুরি অবস্থা বা সাম্প্রতিক কোভিড সংকট—সব সময়ই দেশবাসী এই গান থেকে শক্তি পেয়েছে। তাই দেশের সকলের বন্দে মাতরমের প্রতি ঋণী থাকা উচিত।’ এদিকে, কলকাতা থেকে উত্তরবঙ্গ সফরের পথে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এ প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘যাঁরা বঙ্কিমচন্দ্র থেকে নেতাজি—কাউকেই সম্মান জানাতে জানে না, তাদের মুখে দেশপ্রেমের কথা মানায় না।’ সংসদে বন্দে মাতরমকে ঘিরে শাসক ও বিরোধী শিবিরের সাংসদরা অংশগ্রহণ করেছেন এবং বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে আলোচনায় অংশ নেন। এই বিতর্ক দেশের ইতিহাস ও জাতীয় সঙ্গীতের প্রতি সম্মান নিয়ে চলমান রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক তর্কের প্রতিফলন হিসেবে দেখা যাচ্ছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!