- এই মুহূর্তে বি। দে । শ
- মার্চ ১০, ২০২৫
আদালতের রায়ের অপেক্ষায় ভানুয়াতু নাগরিকত্ব কমিশন, ললিত মোদির নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত এখনো অনিশ্চিত
ভারতের প্রাক্তন আইপিএল কমিশনার ললিত মোদিকে দেওয়া ভানুয়াতুর পাসপোর্ট বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছেন সে দেশের প্রধানমন্ত্রী জোথাম। তবে আদালতের রায়ের পরে কোন পদক্ষেপ নেবে ভানুয়াতু নাগরিকত্ব কমিশন। মোদির ভারতে প্রত্যর্পণ অনিশ্চিত।
বড় ধাক্কা খেইয়েছিলেন আইপিএল আর্থিক তছরুপ মামলায় জড়িত ললিত মোদী। ২০১০ সাল থেকেই দেশছাড়া তিনি। বর্তমানে লন্ডনের থাকেন। দিন দুয়েক আগেই আবার সেখানকার ভারতীয় দূতাবাসে গিয়ে নিজের পাসপোর্ট ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন জানান তিনি। জানা যায়, দ্বীপরাষ্ট্র ভানুয়াটুর নাগরিকত্ব পেয়েছেন ললিত মোদী। তাঁর সে পরিকল্পনায় জল ঢেলে দিয়েছেন ভানুয়াতুর প্রধানমন্ত্রী জোথাম নাপাত। রবিবার এক বিবৃতিতে তিনি জানিয়েছেন, ললিত মোদির বিরুদ্ধে ভারতের ইন্টারপোলে আবেদন করার বিষয়টি মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগে তিনি জানতে পারেন। এরপরই তিনি নাগরিকত্ব কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে ললিতের পাসপোর্ট অবিলম্বে বাতিল করা হয়। আদালতের রায়ের পরই কোন পদক্ষেপ নেবে ভানুয়াতু নাগরিকত্ব কমিশন। এই ধরনের অনৈতিক কারণে আমরা তার পাসপোর্ট বহাল রাখবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী জোথাম।
তবে, ললিত মোদি একটি ভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদন উল্লেখ করে বলেছেন যে কমিশন আদালতের রায়ের আগে কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না। ভি বিটিসি নিউজ-এর উদ্ধৃতি দিয়ে ললিত মোদি পোস্ট করেছেন, ‘ভানুয়াতু নাগরিকত্ব কমিশনের চেয়ারম্যান বলেছেন যে তার দপ্তর আদালতের রায়ের আগে ললিত মোদির নাগরিকত্ব সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না। চেয়ারম্যান চার্লস মানিয়েল এই মন্তব্য করেন, যখন প্রধানমন্ত্রী জোথাম নাপাত কমিশনকে মোদির নাগরিকত্ব বাতিল করার প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। যদি আদালত মোদিকে দোষী সাব্যস্ত করে, তাহলে কমিশন তার পাসপোর্ট ও নাগরিকত্ব বাতিল করার প্রক্রিয়া শুরু করবে। ললিত মোদি মূলত ভারতের নাগরিক ছিলেন, তবে ভানুয়াতুর নাগরিকত্ব কর্মসূচির মাধ্যমে সে দেশের নাগরিকত্ব কিনেছিলেন।’
একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘ভারতের কোনো আদালতে আমার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগতভাবে কোনো মামলা নেই। এগুলো শুধুই মিডিয়ার গল্প। ১৫ বছর কেটে গেছে, তবু তারা বলে যে তারা আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে– সুবিধা মতো নিক। কিন্তু আগে আমার কোনো অপরাধ প্রমাণ করে মামলা দায়ের করুক, কল্পনায় নয়। এটি পুরোপুরি ভুয়া খবর। একমাত্র কাজ যা আমি এককভাবে করেছি তা হলো, আইপিএলের মতো বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় একটি পণ্য তৈরি করা, যা তোমরা প্রতিদিন উপভোগ করছো।’
২০১০ সালে আর্থিক অনিময়ে অভিযুক্ত হয়ে ললিত মোদি দেশ ছাড়েন। লন্ডনে ঘাঁটি গড়েন। ভারত ইতিমধ্যেই দু’বার ইন্টারপোলে ললিত মোদির বিরুদ্ধে নোটিস জারি করতে আবেদন করেছিল, তবে প্রমাণের অভাবে সেই আবেদন খারিজ হয়ে যায়। শোনা যাচ্ছিল গ্রেপ্তারির আশঙ্কায় সম্প্রতি ললিত প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র ভানুয়াতুর নাগরিকত্ব নিয়েছেন। যেহেতু ওই দেশটির সঙ্গে ভারতের প্রত্যর্পণ চুক্তি নেই– ফলে, যদি ভবিষ্যতে ভারতীয় আদালত তাকে দোষী সাব্যস্তও করে, তাহলেও তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে।
অন্যদিকে, ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, ললিত মোদি লন্ডনের ভারতীয় দূতাবাসে তার ভারতীয় পাসপোর্ট জমা দেওয়ার আবেদন করেছেন। মন্ত্রক বিষয়টি খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেবে, পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ চালিয়ে যাবে। বর্তমানে, ভানুয়াতুর সিদ্ধান্তের ফলে মোদির নাগরিকত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা আরো বেড়েছে।
❤ Support Us







