Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • আগস্ট ২৫, ২০২৫

অপরাধে খালাস পেলেই নয় দায়মুক্তি, আপত্তি জানিয়ে আপিল করতে পারবেন ভুক্তভোগী ও উত্তরাধিকারীরা: সুপ্রিম কোর্ট

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
অপরাধে খালাস পেলেই নয় দায়মুক্তি, আপত্তি জানিয়ে আপিল করতে পারবেন ভুক্তভোগী ও উত্তরাধিকারীরা: সুপ্রিম কোর্ট

অপরাধের শিকার যাঁরা, তাঁরা শুধু ক্ষতিই সহ্য করবেন, বিচার চাওয়ার অধিকার থাকবে না? এত দিন ধরে প্রচলিত সে ভাবনাতেই কোপ দিল দেশের শীর্ষ আদালত। বলল, ট্রায়াল কোর্ট বা হাইকোর্ট অভিযুক্তকে খালাস দিলে, ভুক্তভোগী এবং প্রয়াত ভুক্তভোগীর উত্তরাধিকারীরাও সে রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে আপিল করতে পারবেন। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিল, সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে উচ্চ আদালতে আপিল করলে, মুক্তি দেওয়ার আগে অপরাধে যিনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁর বক্তব্য শোনা বাধ্যতামূলক। ভুক্তভোগী যদি আর বেঁচে না থাকেন, তাহলে তাঁর আইনত উত্তরাধিকারীরাও আপত্তি জানিয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যেতে পারবেন।

এ বিষয়ে ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণ এসেছে বিচারপতি বি ভি নাগরত্না ও বিচারপতি কে ভি বিশ্বনাথনের ডিভিশন বেঞ্চের কাছ থেকে। সম্প্রতি উত্তরাখণ্ডের একটি খুনের মামলায় রাজ্যের হাইকোর্ট ৩ সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে খালাস দেয়। ওই রায়ের বিরুদ্ধেই সুপ্রিম কোর্টে ওঠে মামলা। সে প্রসঙ্গেই বিচারপতিরা বলেন, একতরফাভাবে সাজাপ্রাপ্তদের মুক্তি দেওয়া যাবে না। আদালতকে অপরাধে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা তাঁর পরিবারের বক্তব্য শোনার সুযোগ দিতে হবে। বিচারপতিরা ৫৮ পাতার রায়ে লেখেন, ‘একজন অভিযুক্ত ব্যক্তি সিআরপিসি-র ৩৭৪ ধারায় দণ্ডিত হলে আপিলের পূর্ণ অধিকার পান। একইভাবে, অপরাধের শিকার ব্যক্তিরও থাকা সে অধিকার থাকা উচিত।’ শুধু অভিযোগকারী ব্যক্তি বা সরকার নয়, অপরাধে যার বা যাঁদের জীবনে সরাসরি প্রভাব পড়েছে, তাঁরাও যেন আইনের চোখে গুরুত্ব পান, সেটাই নিশ্চিত করতে চায় সুপ্রিম কোর্ট।

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭২ ধারায় একটি ‘প্রভিসো’ যোগ করা হয়, যেখানে বলা হয়, ভুক্তভোগী ব্যক্তি খালাস, কম শাস্তি কিংবা অপ্রতুল ক্ষতিপূরণের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারেন। কিন্তু এত দিন এই বিধানকে বিভিন্ন আদালতে সীমিতভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছিল। সুপ্রিম কোর্ট এবার বলল, ‘এ অধিকারকে আর খর্ব করা যাবে না। শুধুমাত্র রাজ্য বা অভিযোগকারীর মাধ্যমেই আপিল হবে, এমন নয়। ভুক্তভোগীরও সমান অধিকার রয়েছে।’ আদালতের মন্তব্য, অনেক সময় রাজ্য সরকার বা অভিযোগকারী হয়তো কোনো কারণে ‘খালাস’-এর বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যায় না। এমত অবস্থায় অপরাধের শিকার ব্যক্তি বা তাঁর পরিবার বিচার না-পাওয়ার আশঙ্কায় থাকেন। আইনের ফাঁক গলে যদি সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি চুপিসারে খালাস পেয়ে যান, তাহলে সমাজে ভ্রান্ত বার্তা যায়। সিআরপিসি-র ৩৭২ ধারার প্রভিসো ভুক্তভোগীকে আলাদা করে আপিলের অধিকার দিয়েছে। তাকে আর বিশেষ অনুমতির শর্তে বাঁধা যাবে না।

এদিন সুপ্রিম বেঞ্চ স্পষ্ট জানায়, ‘অপরাধের ধরন যাই হোক না কেন, ভুক্তভোগীর আপিলের অধিকার থাকা উচিত—ঠিক যেমন অভিযুক্ত ব্যক্তির আছে। আইন সবার জন্যই সমান।’ ফলে খালাস পাওয়া মানেই দায়মুক্তি নয়। অপরাধে যাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত, তাঁদের কথাও শুনতে বাধ্য থাকবে আদালত—সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশিকায় স্পষ্ট হয়ে গেল তা-ই। অন্যদিকে, আইনবিশেষজ্ঞদের মতে, সুপ্রিম রায়ের ফলে সাজাপ্রাপ্তদের আগাম মুক্তির পথ যেমন কঠিন হয়ে উঠবে, তেমনই আদালতের রায় আরো ভারসাম্যপূর্ণ ও ন্যায়নিষ্ঠ হবে। কারণ এত দিন শুধু অভিযুক্তরাই উচ্চ আদালতে গিয়ে মুক্তির পথ খুঁজতেন। এখন সে রাস্তায় আরেকটা কণ্ঠ যুক্ত হবে। এ রায়ের প্রভাব পড়তে চলেছে দেশের অসংখ্য বিচারাধীন মামলায়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার অধিকার যেমন রয়েছে, তেমনই এখন থেকে সেই সাজা মাফ হওয়ার আগেই দেখতে হবে, অপরাধে যাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁরা কী বলছেন।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!