- এই মুহূর্তে দে । শ
- ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫
লোকসভায় পেশ ‘বিকশিত ভারত শিক্ষা অধিষ্ঠান বিল’, প্রবল বিরোধিতার মুখে পুনর্বিবেচনায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত
লোকসভার শীতকালীন অধিবেশনে, সোমবার ‘বিকশিত ভারত শিক্ষা অধিষ্ঠান বিল-২০২৫’ পেশ হতেই শুরু হয় প্রবল বিতর্ক। কংগ্রেস, তৃণমূল সহ বিরোধী শিবিরের তোপে পড়ে বিলটি। বিরোধীরা বলছে, এই বিলের মাধ্যমে কেন্দ্র সরকার বিরোধী শাসিত রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে, যা অগণতান্ত্রিক পদক্ষেপ। লোকসভায় মন্তব্য করতে গিয়ে তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় বলেন, ‘এটা রাজ্যের স্বায়ত্তশাসনের বিরুদ্ধে নিন্দনীয় পদক্ষেপ।’ প্রবল চাপে পড়ে বিলটির আরো বিশদ বিশ্লেষণের জন্য ‘জয়েন্ট পার্লামেন্টারি কমিটি’ বা জেপিসিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্র সরকারের মতে, এ বিলের মূল উদ্দেশ্য, দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে শিক্ষাদান, গবেষণা ও উদ্ভাবনে উৎকর্ষ অর্জনের ক্ষমতা দিয়ে শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করা।
এদিন, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান নয়া বিল লোকসভায় পেশ করতেই, বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সাংসদরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। প্রবল হট্টগোলের মাঝে সংসদীয় কার্য বিষয়ক মন্ত্রী কিরণ রিজিজু জানান, বিজনেস অ্যাডভাইজরি কমিটির সভায় বেশ কিছু সংসদ সদস্য বিলটি নিয়ে আরো বিস্তৃত আলোচনা ও পরামর্শের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছিলেন। তাঁদের অনুরোধ বিবেচনা করে সরকার এই বিলকে জেপিসি-তে পাঠানোর প্রস্তাব করেছে। তিনি স্পিকারকে কমিটি গঠনের জন্য সদস্যদের মনোনয়নের অনুরোধও জানান। তাঁর মতে, এই বিল কার্যকর হলে, দেশের উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার পথ সুগম হবে। শিক্ষার্থীদের প্রতিভাকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো যাবে, যা যুবসমাজকে ক্ষমতায়িত করবে। শিক্ষার্থীদের সমালোচনামূলক ও উদ্ভাবনী চিন্তা-ভাবনা বিকাশের পাশাপাশি পুনঃদক্ষতা ও দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
প্রস্তাবিত বিল অনুযায়ী, বর্তমান ইউজিসি, এআইসিটিই ও এনসিটিই-কে প্রতিস্থাপন করে একটি একক সুপার-নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠা করা। প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী গঠিত হবে ১২ সদস্যের বিকশিত ভারত শিক্ষা অধিষ্ঠান, যার অধীনে ৩টি কাউন্সিল থাকবে— নিয়ন্ত্রণ কাউন্সিল, স্বীকৃতি কাউন্সিল ও মান নির্ধারণ কাউন্সিল। বিলের খসড়া অনুযায়ী, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের আর্থিক অবস্থা, অডিট, শিক্ষকবৃন্দ, কোর্স, পরিকাঠামো, শিক্ষার ফলাফল ও স্বীকৃতি সংক্রান্ত তথ্য অনলাইন ও অফলাইন উভয়ভাবে প্রকাশ করতে হবে। এছাড়া, নির্বাচিত বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় ভারতে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে এবং উচ্চমানের ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে বিদেশে ক্যাম্পাস স্থাপন করতে সহায়তা করবে।
প্রস্তাবিত বিলটি জাতীয় শিক্ষা নীতি-২০২০–এর সুপারিশ অনুযায়ী তৈরি। বিল অনুযায়ী, মান নির্ধারণ কাউন্সিল বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোর অ্যাকাডেমিক মান নির্ধারণ করবে, নিয়ন্ত্রক কাউন্সিল মান রক্ষা ও সমন্বয় নিশ্চিত করবে এবং স্বীকৃতি কাউন্সিল স্বাধীন স্বীকৃতি ব্যবস্থার তদারকি করবে। স্থাপত্য আইন, ১৯৭২-এর অধীনে গঠিত কাউন্সিল অফ আর্কিটেকচার পেশাগত মান নির্ধারণের জন্য তিনটি কাউন্সিলে প্রতিনিধিত্ব করবে, তবে কোনো নিয়ন্ত্রক ভূমিকা থাকবে না। কেন্দ্র সরকার বলছে, এ বিলের উদ্দেশ্য হলো উচ্চশিক্ষায় আত্মনির্ভরতা তৈরি করা, দক্ষ মানবসম্পদ গঠন, যুবসমাজকে সমালোচনামূলক ও উদ্ভাবনী চিন্তাধারায় সক্ষম করা এবং আন্তঃবিষয়ক শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা। শিক্ষার্থীদের জন্য একটি স্বচ্ছ ও শক্তিশালী অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থাও বিলের আওতায় থাকবে।
এনডিএ জোট প্রস্তাবিত বিলের প্রবল বিরোধিতায় সরব বিরোধী জোট। বিরোধী মতও রয়েছে। তাঁদের মতে, ইউজি-সহ বর্তমানে থাকা পরিকাঠামো ভেঙে একটি সুপার-নিয়ন্ত্রকের মাধ্যমে প্রতিস্থাপন করে সরকার দাবি করছে স্বায়ত্তশাসন বাড়ানো হচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে এটি কেন্দ্রের ক্ষমতার অভূতপূর্ব কেন্দ্রীকরণ, প্রাতিষ্ঠানিক স্বায়ত্তশাসনের ধ্বংস এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনার পথ প্রশস্ত করছে।
❤ Support Us







