- এই মুহূর্তে দে । শ
- ডিসেম্বর ৪, ২০২৫
পুতিনের সফরসূচীতে নেই বিরোধী দলনেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ, ক্ষোভ রাহুল গান্ধির
বিদেশি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে ফের দিল্লির রাজনীতির পারদ চড়ল। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ভারত সফরের কয়েক ঘণ্টা আগে লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি অভিযোগ করেছেন— বিদেশি গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ যাতে না-ঘটে, সে জন্যই কেন্দ্র ‘পরামর্শ’ দেয়। তাঁর কথায়, ‘এটা বহু দিনের সংসদীয় রীতি। অটলবিহারী বাজপেয়ীজি হোক বা মনমোহন সিংহজির আমল— বিদেশি নেতারা এলেই বিরোধী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করতেন। এখন মোদিজি-র আমলে সেই রীতি ভেঙে যাচ্ছে। বিদেশ থেকে কেউ এলেই বলা হয়, বিরোধী দলনেতার সঙ্গে দেখা করবেন না।’ রাহুল আরো বলেন, ‘আমরাও তো ভারতকেই প্রতিনিধিত্ব করি। শুধু তো সরকারই করে না। তাহলে কেন বিরোধীদের বিদেশি নেতাদের সঙ্গে দেখা করতে দিচ্ছে না মোদি সরকার? একটাই কারণ, ওরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।’
রাহুলের বিস্ফোরক অভিযোগে রাজনৈতিক মহল তোলপাড় হলেও কেন্দ্র সরকার নিজেদের অবস্থানে অনড়। সরকারি শিবিরের স্পষ্ট বক্তব্য, বিদেশি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বিরোধী নেতাদের সাক্ষাৎ হবে কি না, তার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণই সেই দলগুলির। এতে কেন্দ্র বা বিদেশ মন্ত্রকের কোনো হস্তক্ষেপ থাকে না। তাদের দাবি, ‘যাঁরা বিদেশ থেকে আসেন, তাঁরাই ঠিক করেন তাঁরা কার সঙ্গে দেখা করবেন। আমরা কেবল সরকারি আমলা ও সংস্থাগুলির সঙ্গে তাঁদের বৈঠকের আয়োজন করি। সরকার নন এমন কারো সঙ্গে বৈঠক চাইলে সেটা তাঁদের নিজেদের উদ্যোগেই হয়।’ সরকারি মহল আরো তথ্য তুলে ধরে জানিয়েছে, রাহুল গাঁধীর অভিযোগ বাস্তবের সঙ্গে খাপ খায় না। তাঁরা জানান, ৯ জুন ২০২৪-এ রাহুল বিরোধী দলনেতা হওয়ার পর থেকেই নানান দেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে শেখ হাসিনা ১০ জুন দেখা করেছেন, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ২১ অগস্ট, নিউজ়িল্যান্ডের ক্রিস্টোফার লুকসন ৮ মার্চ, মরিশাসের নবিনচন্দ্র রামগৌলাম ১৬ সেপ্টেম্বর, সবাই সময় চেয়ে বৈঠক করেছেন। এমনকি ২০১৪ সালে পুতিন ভারতে এলে তখনকার বিরোধী নেতাদের সঙ্গেও তিনি সাক্ষাৎ করেছিলেন। রাহুল গাঁধী নিজেও সে দলের অংশ ছিলেন। ফলে ‘রীতি ভাঙা’ প্রসঙ্গে তাঁর অভিযোগ টেকে না।
কিন্তু বিরোধী শিবিরে রাহুলের যুক্তি, সরকারের আচরণ বদলে গিয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, মোদি সরকার বিদেশে বা দেশে কোনও প্ল্যাটফর্মেই বিরোধী কণ্ঠকে সামনে আসতে দিতে নারাজ। রাহুল বলেছেন, ‘আমি বিদেশে গেলেও সেই দেশগুলিকে বার্তা পাঠানো হয়— ‘ওঁর সঙ্গে বৈঠক করবেন না’। তাঁর মতে, এতে আন্তর্জাতিক পরিসরে বিরোধী রাজনীতিকে অদৃশ্য করার চেষ্টা চলছে। এমনই উত্তপ্ত পরিবেশের মধ্যে আজ সন্ধ্যায় দিল্লিতে পৌঁছচ্ছেন রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন। দু–দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানো, রাশিয়া-ভারত বাণিজ্যকে বহিরাগত চাপের বাইরে রাখার কৌশল, ছোটো আকারের মডুলার রিঅ্যাক্টরে সহযোগিতা, সব মিলিয়ে একাধিক গুরত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা চলে চলেছে ভারত-রাশিয়ার মধ্যে। মোদি-পুতিন বৈঠককে আমেরিকা সহ সব আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল নজরে রেখেছে। একদিকে রাহুলের অভিযোগে রাজনীতি উথালপাথাল, অন্যদিকে ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সামনে দাঁড়িয়ে দেশ।
❤ Support Us







