- এই মুহূর্তে দে । শ
- ডিসেম্বর ৩০, ২০২৪
আইনি জটিলতা না কাটলে টেটের ফল প্রকাশ নয়, ঘোষণা পর্ষদ সভাপতির
জটিলতা যেন পিছু ছাড়ছে না রাজ্যের টিচার এলিজিবিলিটি টেস্টের ফলাফল নিয়ে। দেখতে দেখতে বছর পার, তবু চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বছর শেষে কোনো সুখবর এলো না। এরই মধ্যে তাদের জন্য দুঃসংবাদ নিয়ে এলেন প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ সভাপতি গৌতম পাল।আইনি জটিলতা এবং নিয়োগে দেরির কারণে ২০২৪ সালের টেটও বাতিল হয়ে গিয়েছে।
২০২৩ সালের টেট পরীক্ষার ফল কবে প্রকাশিত হবে- এই প্রশ্ন ঘুম কেড়েছে রাজ্যের লাখ লাখ চাকরিপ্রার্থীর, অপেক্ষায় দিন গুনছেন তারা। পর্ষদ সভাপতি জানিয়েছেন, ২০১৭ ও ২০২২ সালের টেট পরীক্ষা সংক্রান্ত আইনি জট না কাটা পর্যন্ত ২০২৩ এর পরীক্ষার ফল প্রকাশের কোনো সম্ভাবন নেই। তিনি বলেন, ” বেশ কিছু বিষয়ে আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিছু পরীক্ষার্থী আদালতে প্রশ্ন নিয়ে চ্যালেঞ্জও করেছিলেন। এগুলি বেশির ভাগই ২০১৭ এবং ২০২২ সালের টেটের। পূর্বের ওই আইনি জটিলতা না মিটিয়ে ২০২৩ সালের টেটের ফল প্রকাশ করা হবে না।”
প্রশ্ন ভুলের অভিযোগ তুলে পরীক্ষার্থীরা আদলতে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদকে। এবিষয়ে আদালত পর্ষদকে নির্দেশ দিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়য়ের বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ শিক্ষকদের নিয়ে কমিটি গঠন করতে। সেই মোতাবেক কমিটি গঠন করা হয়েছে । পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ ২০১৭ সালের টেট পরীক্ষায় ২৩ টি প্রশ্ন ভুল ছিল। আর তার পাঁচ বছর পর অর্থাৎ ২০২২ সালের টেট পরীক্ষায় ২৪টি প্রশ্ন ভুল রয়েছে। সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখে বিশদে রিপোর্ট প্রকাশ করবে ওই কমিটি। তারপরেই ২০২৩ সালের টেটের ফলাফল প্রকাশ করা সম্ভব হবে। এছাড়াও ২০২৩ এর টেটের প্রশ্ন নিয়েও মামলা চলছে।
দীর্ঘ ৫ বছর পরে রাজ্যে ২০১৭ সালে টেট পরীক্ষা হয়েছিল ২০২২ সালে। এ বছর পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৭ লক্ষের কাছাকাছি। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হন মোট দেড় লক্ষ চাকরিপ্রার্থী। ওই বছরই দায়িত্ব নেওয়ার পর পর্ষদ সভাপতি গৌতম পাল বছরে দুবার পরীক্ষা নেওয়ার ঘোষণা করেছিলেন। সেমত ২০২৩ এর ডিসেম্বরে পরীক্ষা নেয় প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ। তবে সে বছর পরীক্ষার্থী কমে মোট ৩ লক্ষ ৯৫৪ জন রেজিস্ট্রেশন করেছিল, পরীক্ষায় বসেছিল মাত্র ২ লাখ ৭২ হাজার জন। পরীক্ষার পর বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত কোন ফলাফল প্রকাশ করতে পারেনি প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ।চলতি বছরের ৭ মে পরীক্ষার উত্তরপত্র প্রকাশ করে শিক্ষা পর্ষদ। প্রশ্ন সংক্রান্ত দ্বিমত থাকলে চ্যালেঞ্জ করবার সুযোগ দেওয়া হয়, প্রার্থীরা সেই মতো ১০ মে-৯ জুন পর্যন্ত বহু প্রশ্ন সম্পর্কে নিজেদের মত দেন। তারা ভেবেছিলেন এর ফলে প্রশ্ন-উত্তরের স্বচ্ছতা তৈরি হবে ও তাড়াতাড়ি পরীক্ষার ফল ঘোষিত হবে। কিন্তু এই মুহূর্তে সেটি যে কোনোভাবেই ঘটছে না, পর্ষদ সভাপতি তাঁর কোথায় পরিস্কার করে দিয়েছেন।
২০২২ সালে প্রায় ৭ লক্ষ পরিক্ষার্থী পরীক্ষায় বসেছিলেন, সেই তুলনায় ২০২৩ সালে পরীক্ষার্থী সংখ্যা কমেছে। এ নিয়ে পর্ষদের ব্যাখ্যা ছিল, যেহেতু কেবলমাত্র ডিএলএড উত্তীর্ণরাই পরীক্ষা দিতে পেরেছিলেন তাই এই সংখ্যা কমেছে। কিন্তু শিক্ষাজগতের আনাচে আনাচে ঘুরছে অন্য কথা– স্পেশাল এডুকেশন কোর্স করবার পরেও দীর্ঘদিন টেটের পরীক্ষা হয় না, হলেও ফল ঘোষণা হয় না, রাস্তায় ধর্ণামঞ্চে বসতে হয় তাদের। বছরের পর বছর কেটে যায়, অন্য চাকরির বয়স পেরিয়ে যায় অনেকের। বেকার জীবনের জ্বালায় নানারকম কাজ করতে বাধ্য হন তারা । এরকম চলতে থাকলে আগামী দিনে স্কুলশিক্ষক হবার স্বপ্ন ছাত্রছাত্রীরা দেখবেন কি না এই প্রশ্নও থেকে যায়।
❤ Support Us







